অসুর | নামটি নিশ্চই শোনা ?
Vaskar's Bengali Poetry - ভাস্কর এর বেহিসেবি বিস্ফোরণ ... উচ্ছাস | উন্মাদনা | অনুরণন | যন্ত্রনা | হীনমন্যতা | হাসি-কান্না | প্রেম | যৌনতা | অভিঘাত | সফর | বল্গাহীন গদ্য | নির্বাক পদ্য | অভিমান, ইত্যাদি | Bengali Poems | Bangla Poetry | Bengali Poetry
শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২
খলনায়ক
রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২২
গুলজার ও আর ডি বর্মন
লোকাল ট্রেন
লোকাল ট্রেন - কত শত স্বপ্নের উড়ান |
লোকাল ট্রেন - কঠিন ইস্পাতের সর্পিল দুটি সমান্তরাল রেখা বেয়ে গ্রামাঞ্চল আর মফস্সলের হাজার হাজার মানুষদের তাদের স্বপ্নের খোঁজে শহরের বুকে প্রতিদিন পৌঁছে যাওয়ার মোহিনী রথ |
লোকাল ট্রেন - কত শত অনুপম, অতুল ঘটনার সাক্ষী | কত শত অপূর্ব বন্ধুত্ব, সাহচর্য, প্রেম, ভালোবাসা, অনুকম্পা, অংশীদারিত্বের সাক্ষী | কত শত কুৎসিত কলহ, বিবাদ, বিচ্ছেদ, বিরহ, বিভেদের সাক্ষী | কত অক্লান্ত ঘাম ঝরানো শ্রম, কত দুর্ভাগ্যজনক রক্তক্ষয়ের সাক্ষী এই লোকাল ট্রেন |
লোকাল ট্রেন - কত অব্যক্ত অনুভব | কত না বলা কথা, কত কখনো না হওয়া আলাপ | নিখাত ভীরু আবেগ | সযত্নে লুকিয়ে রাখা কত চাহনি | না দেখা চোখের জল | কত অজানা মিনতি | অকালে মুছে যাওয়া হাসি | কত কাতর আবেদন, নীরব অভিমান | কত সাফল্য, ব্যর্থতা | কত নবীন সম্ভাবনার জন্ম | কত সম্ভাবনার করুন পরিণতি |
লোকাল ট্রেন - আঁকা বাঁকা অয়ন বেয়ে নিরলস ধেয়ে চলা এক অটল অঙ্গীকারের নাম 'লোকাল ট্রেন' |
অনেকদিন পর কর্ম সূত্রে আজ লোকাল ট্রেনে চড়ার সুযোগ নিলাম | স্মরণবেদনা, পুরোনো স্মৃতি হাতড়ানোর আকুলতা, নাকি নির্ভেজাল ভালো লাগা - কোন অনুভূতিটা মুখ্য ভাবে ছুয়েঁ গেলো বোঝার চেষ্টা করেও ঠাওর করতে পারলাম না | থাক, ওটা না হয় নাই বা বুঝলাম | লোকাল ট্রেনের সাথে আমার রোমান্স যে এখনো শেষ হয়ে যায় নি সেই উপলব্ধিটাই আসল |
যা কিছু সনাতন এবং বলাই দা
আকাশের পাখি নাকি পাখির আকাশ ?
নীল
বয়সের সাথে ধৈর্য্যের কি সরাসরি কোনো সম্পর্ক আছে ? ধৈর্য্য কি বয়সের সাথে সমানুপাতিক ভাবে বাড়ে নাকি কমতে থাকে ? এ প্রশ্ন বহু দিন যাবৎ আমাকে ভাবাচ্ছে | আমি নিয়মিত ভাবে আমার চারিপাশের মানুষদের খুব ভালো করে নিরীক্ষণ করার চেষ্টা করি | অবশ্যই আমার 'sense of judgement'-কে খুব সযত্নে পাশে সরিয়ে রেখে | চেনা, অচেনা, আত্মীয়, পরিচিত, মিত্র, অমিত্র - সব্বাই কে | মায় নিজেকেও |
জার্নাল (দিনপত্রিকা বা ডায়েরি) লেখার একটা অভ্যাস ছোটবেলায় তৈরী করে দিয়েছিলেন ইস্কুলের ইউরোপীয় পাদ্রীরা | সেই ডায়েরি আমার সব চেয়ে প্রিয় বন্ধু হয়ে উঠেছিল জীবনের প্রায় শুরুর দিকটায় | ছোট পরিবারের একমাত্র সন্তানদের যা হয় আর কি | তার একটা নামও রেখেছিলাম - নীল (এই নাম রাখার কারণ কি ছিল, সেটা মনে পড়ছেনা, তবে এক্কেবারে প্রথম থেকেই ওই নামটি আমার বেশ পছন্দের) | শুরুতে অবশ্য সেরকম হওয়ার কথা ছিলনা | একান্নবর্তী পরিবারেই জন্ম | জীবনের প্রথম দশ বছর হৈ হৈ করে কেটে গিয়েছিলো | বাড়ি তো নয়, যেন হরেকরকম মানুষ, তাদের বিচিত্র সব কীর্তি কলাপ আর নতুন নতুন আশ্চর্য্যের হাট | একাকিত্ব শব্দ টি তখনও রৈ রৈ করে আমার জীবনে প্রবেশ করেনি | দশ বছর বয়স অবধি সীমাহীন ফূর্তি | অর্ধেক ডিম্ সিদ্ধ জুটলেও হাসছি আবার বড়দাদু (জ্যাঠার বাবা) কান মুলে দিলেও হাসছি | ছোটকাকা নতুন লাটাই কিনে আনলেও হাসছি আবার পুকুরের পাড়ে পড়ে গিয়ে হাঁটুর চামড়া হাঁ হয়ে গেলেও হাসছি | বন্ধুর ব্যাঙ্গেও হাসছি আবার ফুলদা'র রগড়েও হাসছি | যাই হোক, ওই অপার আনন্দ, ওই অপরিসীম তৃপ্তি বোধহয় নিয়তির গাত্রদাহের কারণ হয়ে উঠলো | ব্যাস, কেল্লা ফতে | দে ব্যাটাচ্ছেলেকে শায়েস্তা করে | ছিটকে গেলাম | এবার একটুকরো ছোট্ট পরিবার | বাবা, মা, আমি আর শূন্যতা | সেই যন্ত্রণার ব্যাখ্যা এই স্বল্প পরিসরে করা সম্ভব নয় | মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লেও হয়তো কম কষ্ট পেতাম | প্রথমবার আমার অভিধানে প্রবেশ ঘটলো একটি নতুন বাংলা শব্দের - একাকিত্ব !
যাই হোক, এমত সময়ে 'নীল' আমার প্রাণের সাথী হয়ে আমার জীবনে পদার্পন করলো | স্বর না থাকলেও আকাশের মতো একটা বড় হৃদয় ছিল তার | আমার সব আনন্দ, যন্ত্রনা, উচ্ছ্বাস, হতাশা, আবেগ, অনুভূতি অবলীলায় শুষে নিতে পারতো বিনা অভিযোগে, অক্লান্ত ভাবে | পাতার পর পাতা শুধু কথা আর কথা - আমার কথা, সবার কথা | নীল যেন নির্বাক অথচ সংবেদনশীল বন্ধু | তার পাতায় পাতায় ধরা থাকলো আমার ছেলেবেলা, বয়োসন্ধি, কৈশোর এবং যৌবনে প্রবেশের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে থাকা অগুনতি কাহিনী | দ্বিধার, বিভ্রান্তির, উল্লাসের, লজ্জার, বিহ্বলতার, সাফল্যের, ব্যর্থতার, বিশৃঙ্খলার, প্রেমের, ঘৃণার, - আরো কত কি | দিনের শেষে তার কাছে সব কিছু সযত্নে সঁপে দিতে পারলেই, ব্যাস - আমার সেকি অনাবিল শান্তি | সেই নীলের বুকেই খচিত আছে আমার দেখা অনেক অনেক মানুষের অবয়ব | তাদেরকে আমি যেমন ভাবে পেয়েছি বা নিদেনপক্ষে দেখেছি | তাদের সেই ছবিগুলো নিতান্তই আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষন এবং মূল্যায়ন থেকেই উদ্ভূত | সেগুলো সঠিক নাকি একেবারেই গোলমেলে সে সব ভাবার ইচ্ছে বা প্রয়োজন তখন বোধ করিনি | সময়ের সাথে সাথে অনেক ছবি বদলেছে, মানছি | তার সাথে সঙ্গতি রেখেই আমার জার্ণালেও বদল এসেছে | কিন্তু স্থায়ী শব্দটার সাথে কোথাও যেন আমার একটা বৈরিতা আছে | সে প্রসঙ্গে অন্য একদিন আড্ডা দেওয়া যাবে | তবে আসল কথা হলো, বেশ অল্প বয়সেই চাকরি পেয়ে যাওয়ায় আবার ছিন্নমূল হওয়ার পালা | আমার প্রিয় শহর থেকে বহু দূরে | সেই শহরের গল্প, আমার নতুন জীবনের গল্প আরেকদিন | যাই হোক সুদূরে চলে যাওয়ার মাস ছয়েক পড়ে বাড়ি ফেরার সুযোগ পেয়েছিলাম | বাড়ি ফিরে আবার সেই শিকড়ের সন্ধান | সব কিছুকে আবার ছুঁয়ে দেখা | নিজের অস্তিত্বের গোড়ার সাথে পুনরায় সংযোগ স্থাপন করার চেষ্টা | নীল কিন্তু হারিয়ে গেলো | সারা বাড়ি তন্ন তন্ন করে খুঁজেও তাকে কোত্থাও পেলাম না | ঝড়ের মতো সে আমার জীবনে এসেছিলো | ম্যাজিকের মতো নিঃশব্দে কোথায় যেন বেমালুম হাপিশ হয়ে গেলো | হয়তো তাকে সাথে নিয়ে যাইনি বলে তার অভিমান হয়েছিল | হয়তো তার মনে হয়েছিল আমার জীবনে তার প্রয়োজন শেষ | তাকে কোনোদিন এটা বোঝানোর সুযোগটাই পেলাম না, যে তার প্রয়োজন আমার জীবনে আজও আছে |
যাক গে, আসল কথাটাই এগোলো না | হ্যাঁ, কি যেন বলছিলাম? মনে পড়েছে - বয়সের সাথে ধৈর্য্যের সম্পর্ক | আজকাল যথেষ্ট অধৈর্য্য হয়ে পড়ছি | কেন বলুন তো ? তবে যে মা বলতেন বয়সের সাথে সাথে ধৈর্য্য বাড়বে ? আচ্ছা, বন্ধুরা একটু সাহায্য করতে পারেন ? আপনাদের কি মত ? আপনাদের কি অভিজ্ঞতা ? একটু আলো ফেলুন না, দয়া করে | অন্ধকার কাটুক | অপেক্ষায় থাকলাম ...
ফেবু
স্বপ্নাদেশ
বিশিষ্ট সমাজ কর্মী, পরলোকগত মহাত্মা মহানুভব ঈশ্বর মাগনলাল মেঘরাজ (বৃদ্ধ, জরাক্লিষ্ট অর্জুনের ছুরির খেলা মনে আছে নিশ্চই), গত তরশু কাক ভোরে আমায় স্বপ্নাদেশ দিলেন | বললেন, 'বাছা, সবই তো হোলো, ইহলোকে তো বহু ব্যাঘ্রই বধ করে ফেলেছো দেখছি | তবে, তোমাদের ইহলোকের অনুরূপ অমৃতলোকেও কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি শিল্পের প্রভূত উন্নতি ঘটেছে | ইহলোক থেকে প্রক্ষিপ্ত হাজার হাজার অধিবাসনের আবেদন আমাদের মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর 'কৃত্রিম-বুদ্ধিমত্তা' নামক প্রযুক্তি দিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে অবলোকন করছেন | অমৃতলোকে প্রবেশের অগ্রাধিকার তারাই পাচ্ছেন যেসকল সহৃদয় ব্যক্তি নব নব সামাজিক এবং অসামাজিক মাধ্যমগুলিতে নিজেদেরকে সাফল্যের সহিত স্থাপন করেছেন এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বমহিমায় বিচরণ করছেন | তো বাছা, কৃপাসিন্ধু পার হওয়ার জন্য তোমাকে কিন্তু কিছু বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে | তোমাকে চট করে এক নতুন প্রজাতির সামাজিক নৌকোয় সত্তয়ারি হতে হবে - মর্তলোকে যার নামকরণ তোমরা করেছো ইনস্টাগ্রাম | কাজেই, যদি মুক্তি এবং হরি প্রাপ্তি চাও, তার সাথে স্বর্গে একটা ভালো তিন কামরার বাসা, তবে চটপট ইন্সটা নৌকোয় আরোহন করে ফেলো ... '
আমি সবে কিছু মৌলিক প্রশ্ন কর্তার সামনে রাখার কথা ভাবতে শুরু করেছি, এমত সময়, প্রভু মেঘরাজের কথা শেষ হওয়ার আগেই, পিঠে এক মোক্ষম গুঁতো অনুভব করলাম | ভোর ঘুমে ঢুলুঢুলু চোখ আধা খুলে দেখি সাক্ষাৎ মা জগদম্বা শিওরে দাঁড়িয়ে বড়ো বড়ো চোখ পাকিয়ে, ডান হাতের বেলান টা মুগুরের মতো ভাঁজছেন আর বাম হাতের তর্জনী দিয়ে আমার পাঁজরে ক্রমাগত কলিং বেল টিপে চলেছেন | বুঝলাম ভাঁড়ারএ টান পড়েছে | তারপর অবশ্য মাড়োয়ারির অফিসে পৌঁছে ক্রেতা ও মক্কেলদের নিরলস পদসেবা | যাই হোক, খাট থেকে কোনোক্রমে নামা এবং সংসারের জোয়াল টানতে টানতে ভারাক্রান্ত স্থুল শরীরটাকে টেনে হিচড়ে কমোড অবধি পৌঁছে দেওয়াটাই ঝক্কির কাজ | বাকি যেটুকু শরীর চাঙ্গা করার ক্রিয়া-প্রক্রিয়া, তার দায়িত্ব আমার মধ্যবিত্ত্ব ক্রনিক কোষ্টকাঠিন্যই প্রত্যেক সকালে নিষ্ঠাভরে পালন করে থাকে !
তবে ভাববেন না যে গুরুর দেওয়া স্বপ্নাদেশ আমি ভুলে গিয়েছি | ঘুণাক্ষরেও না | দুদিন আগেই ইনস্টাগ্রাম নামক সামাজিক নৌকোয় রীতিমতো পদার্পন করেছি | দেখা যাক স্বর্গসুখ মেলে কি না | তো বন্ধুরা, আপনাদের সুবিদার্থে চুপিচুপি জানিয়ে রাখি আপনারাও চাইলে আমার সাথে যোগ দিতে পারেন | অনেক কথা আছে, সবটা এক্ষুনি, এখানে বলছি না | আসুন, জমিয়ে আড্ডা হবে |