যেদিন আলাদা হলাম —
যেদিন তুমি চলে গেলে —
একটা বিকেলের মতো,
আলো ছিল, তার চেয়ে
ছায়া ছিল বেশি।
শহরের রাস্তা তখনও
নিজের কাজে ব্যস্ত —
বাস থামছে, চা ফুটছে,
একটা অলস কুকুর ঘুমোচ্ছে
ফুটপাথের ইতিহাসে।
আমাদের আলাদা হওয়া
নজরে আসে না কারো।
তোমার কণ্ঠস্বর
এখনো আছে আমার ভেতর —
ভাঙা থার্মোসের মতো,
গরম নেই,
কিন্তু হাত রাখলে
পুরনো উষ্ণতা মনে পড়ে।
ভালোবাসা কি শেষ হয়?
নাকি সে শুধু
ঠিকানা বদলায় —
একটা বুক থেকে
আরেকটা নিঃশ্বাসে?
রাতে আমি বাতি নিভিয়ে রাখি,
অন্ধকারটা পরিষ্কার লাগে।
তুমি হয়তো এখন
অন্য ঘরে আলো জ্বালাও,
সেই আলোয়
আমার নাম নেই।
আমরা দু’জনেই
নিজ নিজ জীবনে
বেঁচে থাকার চেষ্টায় বাঁচি —
কিন্তু মাঝখানে, শুষ্ক
নদীটার বহমান শূন্যতায়,
সাঁতার কাজে আসে না, শুধু
দুই পাড়ে স্তূপাকার বিরহের দীর্ঘশ্বাস।
তোমার অনুপস্থিতি
এখন আর কান্না নয় —
একটা অভ্যাস,
যেমন সকালে খবরের কাগজ
চা ছাড়াও পড়া যায়,
কিন্তু ঠিক জমে ওঠে না।
কখনো কখনো মনে হয়
তুমি আসবে —
ঠিক যেমন মনে হয়
শীত আবার ফিরবে।
জানি, আসবে না।
তবু শরীর
এক-আধখানা গরম কাপড় খোঁজে।
এভাবেই আলাদা থাকা —
উপন্যাস নয়,
একটা ধীর বাক্য,
যার শেষে অদৃশ্য দাঁড়ি থাকলেও
অর্থ এখনো
সম্পূর্ণ রূপ পায়নি, হয়তো।
- ভাস্কর ভট্টাচার্য্য
শুক্রবার, ২৫শে পৌষ, ১৪৩২