রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

গুলজার ও আর ডি বর্মন

রাহুল দেব বর্মন সাহেবের অসংখ্য কালজয়ী কম্পোজিশন আছে যা বাংলা এবং হিন্দি উভয় ভাষাতেই বহু প্রথিতযশা শিল্পী গেয়েছেন | কিশোর কুমার, মোহাম্মদ রফি, লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলে, যেশুদাস, সুরেশ ওয়াদকার, আরতি মুখোপাধ্যায়, কুমার শানু, কবিতা কৃষ্ণমূর্থী - আরো কত কে | মজার কথা হচ্ছে যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গানগুলি প্রথমে বাংলা ভাষাতেই কম্পোজ এবং প্রকাশিত হয়েছে | কখনো সেসব গানের আভির্ভাব ঘটেছে কোনো বিশিষ্ট শিল্পীর পুজোর অ্যালবামএ আবার কখনো ঘটেছে ফিল্মের সাউন্ডট্র্যাক হিসেবে | কখনো বর্মন সাহেব আগে সুর তৈরী করেছেন এবং গীতিকাররা তাতে শব্দ বসিয়েছেন | আবার কখনো সখনো উল্টোটাও হয়েছে | বিশেষ করে যখন গুলজার, হস্রাত জয়পুরি, আনন্দ বক্শি বা মজরূহ সুলতানপুরীর মতো ডাকসাইটে কবি-গীতিকারদের সাথে কাজ করেছেন, তখন প্রায় সব ক্ষেত্রেই (ব্যতিক্রম আছেই যদিও) কথাকেই সুরে বাঁধতে হয়েছে বর্মন সাহেবকে | বর্মন সাহেবকে সব চেয়ে বেশি বেগ দিয়েছেন গুলজার সাহেব | প্রায়শই গুলজার সাহেবের লেখা পংতিগুলি বর্মন সাহেবের রাতের ঘুম কেড়ে নিত | গুরুগম্ভীর আবেগ, কঠিন উর্দু শব্দ আর কাব্যিক তাল ভাঙা ব্যঞ্জনের প্রয়োগ তো ছিলই, কিন্তু বর্মন সাহেবের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ছিল যে তিনি হয়তো গুলজার সাহেবের ঐসব অদ্বিতীয় শায়েরীর প্রতি সুবিচারই করতে পারবেন না | শুনেছি কম্পোজ করার সময়  গুলজার সাহেব হামেশাই বর্মন সাহেবের পাশে বসে থাকতেন | বর্মন সাহেব গানের কথাগুলো নিয়ে প্রায়শই গুলজার সাহেবের কানের কাছে গজগজ করতেন আর গুলজার সাহেব সেসব অভিযোগে কান না দিয়ে মিটিমিটি হাসি নিয়ে প্রিয় হারমোনিয়ামের উপর অবলীলায় নাচতে থাকা বর্মন সাহেবের আঙ্গুল গুলোর দিকে নিবিষ্ট চিত্তে চেয়ে থাকতেন | গুলজার নিশ্চিত ছিলেন পৃথিবীতে একটি মানুষই ওনার লেখা শায়েরির প্রতি পূর্ণ সুবিচার করতে পারেন - স্বয়ং রাহুল দেব বর্মন |

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

অসংখ্য ধন্যবাদ বন্ধু | আপনার ভালোবাসা আর পৃষ্ঠপোষকতা আমার উর্জা, আমার প্রধান পাথেয় | পাশে থাকুন, এই প্রার্থনা রইলো | অনেক ভালোবাসা থাকলো, আপনার জন্য | নমস্কার |