bengali short story লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
bengali short story লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

আকাশের পাখি নাকি পাখির আকাশ ?

পাখি খুব ভালোভাবেই জানে যে আকাশ কেবল তার একার নয় | আকাশের বিশালতা, আকাশের সীমাহীন নীল শুধু তার একার নয় | আকাশের ঔদার্য্য তার একার নয় | আকাশের অন্তহীন ভালোবাসা তার একার হতে পারে না | আকাশের অসীম বিস্তার আরো অনেকের জন্য | আকাশের উদার ব্যাপ্তিতে ছড়িয়ে থাকা আবেগ অনেকের | আকাশের উপুড়হস্ত প্রেম অনেকের জন্য | আকাশের অকুন্ঠ ভালোবাসা বাঁধন ছাড়া এবং অকৃপণ | আকাশের ভালোবাসাকে কেবল মাত্র একটি বুকের খাঁচার ভিতর বেঁধে ফেলা আদতে বিশাল সমুদ্রকে একটি মানুষের ধমনীতে পুরে ফেলার চেয়েও ঢের কঠিন | 

পাখি সব জানে | প্রায় শুরু থেকেই সে সব জেনে যায় এক অদ্ভুত জাদু বলে | সব জেনেও পাখি সেই আকাশের বুকেই ঝাঁপিয়ে পড়ে | মনের আনন্দে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে তার বল্গাহীন উড়ান | সে আকাশের নীলে ডুবে প্রাণ সঞ্চয় করে | আকাশের গভীর, গম্ভীর প্রেমে ভিজে যায় অহরহ | কিন্তু স্বার্থপরের মতো আকাশকে একচেটিয়া নিজের জন্য চায় না সে কক্ষনো | চাইতে নেই | সে সবার সাথে ভাগ করে নেয় আকাশের অবিরাম, অন্তহীন প্রেম কে | তাতেই তার সুখ | আকাশ আর পাখির সম্পর্ক বুঝতে গেলে সুফি হতে হয়, ফকির হতে হয় | অকৃপণ অনন্ত আকাশ আর নিঃস্বার্থ উদার পাখি একে ওপরের পরিপূরক | 

নীল

বয়সের সাথে ধৈর্য্যের কি সরাসরি কোনো সম্পর্ক আছে ? ধৈর্য্য কি বয়সের সাথে সমানুপাতিক ভাবে বাড়ে নাকি কমতে থাকে ? এ প্রশ্ন বহু দিন যাবৎ আমাকে ভাবাচ্ছে | আমি নিয়মিত ভাবে আমার চারিপাশের মানুষদের খুব ভালো করে নিরীক্ষণ করার চেষ্টা করি | অবশ্যই আমার 'sense of judgement'-কে খুব সযত্নে পাশে সরিয়ে রেখে | চেনা, অচেনা, আত্মীয়, পরিচিত, মিত্র, অমিত্র - সব্বাই কে | মায় নিজেকেও |     

জার্নাল (দিনপত্রিকা বা ডায়েরি) লেখার একটা অভ্যাস ছোটবেলায় তৈরী করে দিয়েছিলেন ইস্কুলের ইউরোপীয় পাদ্রীরা | সেই ডায়েরি আমার সব চেয়ে প্রিয় বন্ধু হয়ে উঠেছিল জীবনের প্রায় শুরুর দিকটায় | ছোট পরিবারের একমাত্র সন্তানদের যা হয় আর কি | তার একটা নামও রেখেছিলাম - নীল (এই নাম রাখার কারণ কি ছিল, সেটা মনে পড়ছেনা, তবে এক্কেবারে প্রথম থেকেই ওই নামটি আমার বেশ পছন্দের) | শুরুতে অবশ্য সেরকম হওয়ার কথা ছিলনা | একান্নবর্তী পরিবারেই জন্ম | জীবনের প্রথম দশ বছর হৈ হৈ করে কেটে গিয়েছিলো | বাড়ি তো নয়, যেন হরেকরকম মানুষ, তাদের বিচিত্র সব কীর্তি কলাপ আর নতুন নতুন আশ্চর্য্যের হাট | একাকিত্ব শব্দ টি তখনও রৈ রৈ করে আমার জীবনে প্রবেশ করেনি | দশ বছর বয়স অবধি সীমাহীন ফূর্তি | অর্ধেক ডিম্ সিদ্ধ জুটলেও হাসছি আবার বড়দাদু  (জ্যাঠার বাবা) কান মুলে দিলেও হাসছি | ছোটকাকা নতুন লাটাই কিনে আনলেও হাসছি আবার পুকুরের পাড়ে পড়ে গিয়ে হাঁটুর চামড়া হাঁ হয়ে গেলেও হাসছি | বন্ধুর ব্যাঙ্গেও হাসছি আবার ফুলদা'র রগড়েও হাসছি | যাই হোক, ওই অপার আনন্দ, ওই অপরিসীম তৃপ্তি বোধহয় নিয়তির গাত্রদাহের কারণ হয়ে উঠলো | ব্যাস, কেল্লা ফতে | দে ব্যাটাচ্ছেলেকে শায়েস্তা করে | ছিটকে গেলাম | এবার একটুকরো ছোট্ট পরিবার | বাবা, মা, আমি আর শূন্যতা | সেই যন্ত্রণার ব্যাখ্যা এই স্বল্প পরিসরে করা সম্ভব নয় | মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লেও হয়তো কম কষ্ট পেতাম | প্রথমবার আমার অভিধানে প্রবেশ ঘটলো একটি নতুন বাংলা শব্দের - একাকিত্ব !

যাই হোক, এমত সময়ে 'নীল' আমার প্রাণের সাথী হয়ে আমার জীবনে পদার্পন করলো | স্বর না থাকলেও আকাশের মতো একটা বড় হৃদয় ছিল তার | আমার সব আনন্দ, যন্ত্রনা, উচ্ছ্বাস, হতাশা, আবেগ, অনুভূতি অবলীলায় শুষে নিতে পারতো বিনা অভিযোগে, অক্লান্ত ভাবে | পাতার পর পাতা শুধু কথা আর কথা - আমার কথা, সবার কথা | নীল যেন নির্বাক অথচ সংবেদনশীল বন্ধু | তার পাতায় পাতায় ধরা থাকলো আমার ছেলেবেলা, বয়োসন্ধি, কৈশোর এবং যৌবনে প্রবেশের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে থাকা অগুনতি কাহিনী | দ্বিধার, বিভ্রান্তির, উল্লাসের, লজ্জার, বিহ্বলতার, সাফল্যের, ব্যর্থতার, বিশৃঙ্খলার, প্রেমের, ঘৃণার, - আরো কত কি | দিনের শেষে তার কাছে সব কিছু সযত্নে সঁপে দিতে পারলেই, ব্যাস - আমার সেকি অনাবিল শান্তি | সেই নীলের বুকেই খচিত আছে আমার দেখা অনেক অনেক মানুষের অবয়ব | তাদেরকে আমি যেমন ভাবে পেয়েছি বা নিদেনপক্ষে দেখেছি | তাদের সেই ছবিগুলো নিতান্তই আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষন এবং মূল্যায়ন থেকেই উদ্ভূত | সেগুলো সঠিক নাকি একেবারেই গোলমেলে সে সব ভাবার ইচ্ছে বা প্রয়োজন তখন বোধ করিনি | সময়ের সাথে সাথে অনেক ছবি বদলেছে, মানছি | তার সাথে সঙ্গতি রেখেই আমার জার্ণালেও বদল এসেছে | কিন্তু স্থায়ী শব্দটার সাথে কোথাও যেন আমার একটা বৈরিতা আছে | সে প্রসঙ্গে অন্য একদিন আড্ডা দেওয়া যাবে | তবে আসল কথা হলো, বেশ অল্প বয়সেই চাকরি পেয়ে যাওয়ায় আবার ছিন্নমূল হওয়ার পালা | আমার প্রিয় শহর থেকে বহু দূরে | সেই শহরের গল্প, আমার নতুন জীবনের গল্প আরেকদিন | যাই হোক সুদূরে চলে যাওয়ার মাস ছয়েক পড়ে বাড়ি ফেরার সুযোগ পেয়েছিলাম | বাড়ি ফিরে আবার সেই শিকড়ের সন্ধান | সব কিছুকে আবার ছুঁয়ে দেখা | নিজের অস্তিত্বের গোড়ার সাথে পুনরায় সংযোগ স্থাপন করার চেষ্টা | নীল কিন্তু হারিয়ে গেলো | সারা বাড়ি তন্ন তন্ন করে খুঁজেও তাকে কোত্থাও পেলাম না | ঝড়ের মতো সে আমার জীবনে এসেছিলো | ম্যাজিকের মতো নিঃশব্দে কোথায় যেন বেমালুম হাপিশ হয়ে গেলো | হয়তো তাকে সাথে নিয়ে যাইনি বলে তার অভিমান হয়েছিল | হয়তো তার মনে হয়েছিল আমার জীবনে তার প্রয়োজন শেষ | তাকে কোনোদিন এটা বোঝানোর সুযোগটাই পেলাম না, যে তার প্রয়োজন আমার জীবনে আজও আছে | 

যাক গে, আসল কথাটাই এগোলো না | হ্যাঁ, কি যেন বলছিলাম? মনে পড়েছে - বয়সের সাথে ধৈর্য্যের সম্পর্ক | আজকাল যথেষ্ট অধৈর্য্য হয়ে পড়ছি | কেন বলুন তো ? তবে যে মা বলতেন বয়সের সাথে সাথে ধৈর্য্য বাড়বে ? আচ্ছা, বন্ধুরা একটু সাহায্য করতে পারেন ? আপনাদের কি মত ? আপনাদের কি অভিজ্ঞতা ? একটু আলো ফেলুন না, দয়া করে | অন্ধকার কাটুক | অপেক্ষায় থাকলাম ...  


ফেবু

যাত্রাসম্রাট নাট্যাচার্য স্বপনকুমার প্রাতরাশে ছাগলের দুধের চীজ খেতে পছন্দ করতেন কেন ?

আচ্ছা, বলুন তো Facebook এ বসে এতো জ্ঞানের কথা শুনতে ভালো লাগে ? মানে, আপনি ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠেই চোখ কচলাতে কচলাতে FB টা খুললেন | ভাবলেন ছ্যাদলা পড়ে যাওয়া দাঁত গুলো না হয় একটু পরে নতুন আমদানি করা বিলিতি চারকোল পাউডার দিয়ে ঘষা যাবে | নাহলে আবার সেলফি তুলতে গিয়ে দাঁত কেলানো যাবেনা | অবশ্য, "কর্ণের সাথে চা-পান" এর সাম্প্রতিক একটি শো তে কঠিনা কর্পূরের দাঁত টা কেমন যেন ঠেকেছিল - দাঁতগুলোর জোড় ঘেঁষে কিরকম যেন কালো ফ্রেম এর মতো ছোপ | এটা কি চোখের ভুল ? নাকি ছোট বেগম হওয়ার পর এবং পুনরায় আমিষাশী হওয়া ও বাদশাহী মুখশুদ্দি নেশা করার পরবর্তী কালে কালো বর্ডার দেওয়া চকচকে দাঁত হওয়াটাই ওই পরিবারে রেওয়াজ ? কে জানে ? যাগ্গে ওর কথা - না আপনি বিয়েতে প্রাসাদ উপহার পেয়েছিলেন আপনার স্বামীর কাছ থেকে, না গ্রীস এর উপকণ্ঠে হাঁটু গেড়ে বসে আপনাকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল | 

যাক - আপনি তো FB খুলেই ফেললেন | কিন্তু একি, এসব কি ? একটা কিম্ভূত লোকের একটা প্রকান্ড ভুঁড়ি আর তার পাশে লেখা সাড়ে তিন দিনে ভুঁড়ি কমানোর 'গোপন' ফর্মুলা | স্ক্রোল করতেই এক সাদা পোশাকধারী মহানুভব একটি ভিডিওয় শোনাচ্ছেন যোগক্রিয়া আর ধ্যানের মাধ্যমে কিভাবে পুজোর খরচ কমানো যায় | আরো নিচে নামতেই পরিবেশ সচেতনতা নিয়ে একটা পোস্ট, সাথে কিছু অর্গানিক সার এর মিশ্রণ প্রক্রিয়া যা দিয়ে আপনার বাড়ির ছাদের ছোট্ট টবেতেই প্রমান সাইজের বেগুন ফলানো সম্ভব | আরেকটু নামতেই বেশ কয়েকজন অকালপক্ক কাপ্তেনের রাজনৈতিক জ্ঞান - দেখলেই মনে হয় দেশের গণতন্ত্র সুযোগ দিলে এই দেশ অন্তত আরো ১০-১২ কোটি প্রধান এবং মুখমন্ত্রী হেসেখেলে পেয়েই যেত | আরেকটু নামলেই অর্থনীতি থেকে আকুপাংচার জুতো, উগ্রপন্থা থেকে বার্ধক্য আটকানোর পদ্ধতি, শেয়ার মার্কেট থেকে ডাকসাইটে হিরোইনের ক্লিভেজ, নতুন ভাইরাস থেকে লাতিন আমেরিকায় চাষ হওয়া রোগা দুর্বল আনাকোণ্ডার ডিমের গুনাগুন, বিচার ব্যবস্থা থেকে ফিশ্চুলা এবং পশ্চাৎদেশের অন্নান্য ব্যারাম থেকে মুক্তি পাওয়ার অবর্থ্য উপায়, রোগা হতে কুমড়োর বীজের প্রভাব থেকে মোটা হওয়ায় মলমের প্রয়োগ, কাঁঠালের আঠার গুনাগুন থেকে ছাব্বিশ সপ্তাহে ১০ হাজার টাকা ১ কোটি বানানোর যন্ত্র এবং মন্ত্র, কালী থেকে সামাজিক কৌলিন্য, সাদা শাড়ী থেকে সারদা, পাবলো নেরুদা থেকে পয়গম্বর, লাল ঝড় থেকে রাশিয়ান স্যালাড, ... ধর্ম, অধর্ম, আস্তিকতা, নাস্তিকতা, দেশপ্রেম, আন্তর্জাতিকতাবাদ, দক্ষিনপন্থা, বামপন্থা, মধ্যপন্থা, এক জাতি পাঁচ প্রাণ, পঞ্চতন্ত্রের প্যারোডি, মনীষীর কার্টুন, ঝিঙের কোর্মার রেসিপি, IAS হওয়ার সহজ পদ্ধতি থেকে মনের মানুষ বশ করার দুর্দান্ত কবচ, বিয়ের পর প্রথম রাতেই মালাইকা হয়ে ওঠার যাবতীয় উপায়, যে কোনো পাখির মাংস খাওয়া কেন পাপ, মদিরা সেবনের পর বাম হাতে কি কি কাজ করা উচিত নয়, ইত্যাদি, ইত্যাদি, ইত্যাদি | জ্ঞান, জ্ঞান জ্ঞান |      
  
উফ্ফ, কি বিরক্তিকর | তাই নয় কি ? তাহলে কি আজ আর নতুন সেলফিটা FB তে দেবেন না ? ওমা, তা কেন ? সে হবেখন | নতুন বিলিতি চারকোল পাউডার বলে কথা | শেষ দুপুরে একটু ভাত ঘুম দেওয়ার পর না হয় ...

স্বপ্নাদেশ

বিশিষ্ট সমাজ কর্মী, পরলোকগত মহাত্মা মহানুভব ঈশ্বর মাগনলাল মেঘরাজ (বৃদ্ধ, জরাক্লিষ্ট অর্জুনের ছুরির খেলা মনে আছে নিশ্চই), গত তরশু কাক ভোরে আমায় স্বপ্নাদেশ দিলেন | বললেন, 'বাছা, সবই তো হোলো, ইহলোকে তো বহু ব্যাঘ্রই বধ করে ফেলেছো দেখছি | তবে, তোমাদের ইহলোকের অনুরূপ অমৃতলোকেও কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি শিল্পের প্রভূত উন্নতি ঘটেছে | ইহলোক থেকে প্রক্ষিপ্ত হাজার হাজার অধিবাসনের আবেদন আমাদের মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর 'কৃত্রিম-বুদ্ধিমত্তা' নামক প্রযুক্তি দিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে অবলোকন করছেন | অমৃতলোকে প্রবেশের অগ্রাধিকার তারাই পাচ্ছেন যেসকল সহৃদয় ব্যক্তি নব নব সামাজিক এবং অসামাজিক মাধ্যমগুলিতে নিজেদেরকে সাফল্যের সহিত স্থাপন করেছেন এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বমহিমায় বিচরণ করছেন | তো বাছা, কৃপাসিন্ধু পার হওয়ার জন্য তোমাকে কিন্তু কিছু বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে | তোমাকে চট করে এক নতুন প্রজাতির সামাজিক নৌকোয় সত্তয়ারি হতে হবে - মর্তলোকে যার নামকরণ তোমরা করেছো ইনস্টাগ্রাম | কাজেই, যদি মুক্তি এবং হরি প্রাপ্তি চাও, তার সাথে  স্বর্গে একটা ভালো তিন কামরার বাসা, তবে চটপট ইন্সটা নৌকোয় আরোহন করে ফেলো ... ' 

আমি সবে কিছু মৌলিক প্রশ্ন কর্তার সামনে রাখার কথা ভাবতে শুরু করেছি, এমত সময়, প্রভু মেঘরাজের কথা শেষ হওয়ার আগেই, পিঠে এক মোক্ষম গুঁতো অনুভব করলাম | ভোর ঘুমে ঢুলুঢুলু চোখ আধা খুলে দেখি সাক্ষাৎ মা জগদম্বা শিওরে দাঁড়িয়ে বড়ো বড়ো চোখ পাকিয়ে, ডান হাতের বেলান টা মুগুরের মতো ভাঁজছেন আর বাম হাতের তর্জনী দিয়ে আমার পাঁজরে ক্রমাগত কলিং বেল টিপে চলেছেন | বুঝলাম ভাঁড়ারএ টান পড়েছে | তারপর অবশ্য মাড়োয়ারির অফিসে পৌঁছে ক্রেতা ও মক্কেলদের নিরলস পদসেবা | যাই হোক, খাট থেকে কোনোক্রমে নামা এবং সংসারের জোয়াল টানতে টানতে ভারাক্রান্ত স্থুল শরীরটাকে টেনে হিচড়ে কমোড অবধি পৌঁছে দেওয়াটাই ঝক্কির কাজ | বাকি যেটুকু শরীর চাঙ্গা করার ক্রিয়া-প্রক্রিয়া, তার দায়িত্ব আমার মধ্যবিত্ত্ব ক্রনিক কোষ্টকাঠিন্যই প্রত্যেক সকালে নিষ্ঠাভরে পালন করে থাকে !    

তবে ভাববেন না যে গুরুর দেওয়া স্বপ্নাদেশ আমি ভুলে গিয়েছি | ঘুণাক্ষরেও না | দুদিন আগেই ইনস্টাগ্রাম নামক সামাজিক নৌকোয় রীতিমতো পদার্পন করেছি | দেখা যাক স্বর্গসুখ মেলে কি না | তো বন্ধুরা, আপনাদের সুবিদার্থে চুপিচুপি জানিয়ে রাখি আপনারাও চাইলে আমার সাথে যোগ দিতে পারেন | অনেক কথা আছে, সবটা এক্ষুনি, এখানে বলছি না | আসুন, জমিয়ে আড্ডা হবে |