bangla poem লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
bangla poem লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬

জমাখরচ

 সেদিন হঠাৎ মনে করালে আমায় ভালোবেসেছো কতটা,

হাতে হাত রেখে সুদীর্ঘ্য ছায়াপথ বরাবর হেঁটেছো যতটা,
ফুলের তোড়া দিয়েছো কটা, সাথে অগুনতি নীলাকাশ,
দিয়েছো গোলাপের কাটায় গাঁথা আবেগ, যত অবকাশ।
যাবতীয় উপহার, সাথে পেঁজা পেঁজা আবেশ অনুরত,
চোখের জল, ঠোঁটের হাসি, হাজার একটা কল্যাণ ব্রত।
কাটিয়েছো কটা অতন্দ্র রাত, অপরিণত স্বপ্নের রেশে,
হিসেবের জমা খাতা জুড়ে লেখাজোখা একপেশে।
বুঝলাম সেদিন বোঝাতে চেয়েছো আমায় ভালোবাসো কতটা,
আকাশের অসীমে বা সমুদ্রের অতলে অজানা সম্পদ যতটা।
কিন্তু কি জানো, মনে হয় তুমি আর আমায় ভালোবাসো না,
হিসেবের খাতা ফেলে সেই আগের মতো কাছে আসো না।
ভালোবাসা ফুরোলেই ঠেলে ওঠে হিসেবের বুদ্বুদ, নিরর্থক দাবি,
ভালোবাসা তো অন্ধ, বধীর; ভালোবাসা উন্মাদ, বেহিসাবি।
বুঝে গেছি, সেই আগের মতো তুমি আর ভালোবাসো না,
হিসেবের খাতা ফেলে আগের মতো আর কাছে আসো না।
- ভাস্কর ভট্টাচার্য্য
মঙ্গলবার, ১৮ ফাল্গুন, ১৪৩২

রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

|| প্রারব্ধ ||

আমার বয়স হয় না, হয় খোলসটার,

হিয়ার মধ্যে, বুকের ঠিক এই মাঝখানটাতে  

হলুদ পাখিরা পাখা ঝাপটায় আজও। 


আমার বুদ্ধি বাড়ে না, বাড়ে বলিরেখাগুলো, 

মাথার মধ্যে, ঝিকুটের যাবতীয় দেহকোষ জুড়ে  

নদীর অবিরাম ছলাৎ ছলাৎ শুনি আজও।


আসে পাশে মানুষরা বাড়ে বহরে, বাড়ে বিত্তে, 

আমি বাড়ি না, ভাবি বাড়বই বা কোন সুখে

চারপাশে যন্ত্রণা, এত দুঃখ, আমি বাড়ি কোন মুখে। 


আমার ধৈর্য বাড়ে না, বাড়ে অসুখ,

আমার শৌর্য বাড়ে না, জানুসন্ধির ব্যথাটা     

কিলবিল, স্নায়ুপথ বেয়ে বিস্মৃতির দিগন্তে বিচরণ।


আমার বোধ বাড়ে না, বাড়ে পায়ের ফাটল 

গালে রং মাখি, কখনো ঢং মাখি, ফাঁদ পেতে 

পানকৌড়ির মতো বসে থাকা, অহেতুক।    


হাতে সময় অঢেল, তবু সুযোগ বাড়ে না,

চাঁদমারি তাক করে বসে থাকি, কাঁপা হাত    

নিরুপায়, বিদ্রুপ মাখা শরীরে স্নানঘর আশ্রয়। 


আজকাল আর ব্যথা লাগেনা, লাগে ঘুম

ঘুম, নিঝুম রাত কাটেনা, ভোর ভোর 

বিছানা হাতড়িয়ে খুঁজে ফিরি সেই দোলনাটা।


অথচ, আমার বয়স বাড়ে না, বাড়ে খোলসটার,

হিয়ার মধ্যে, বুকের ঠিক এই মাঝখানটাতে  

হলুদ পাখিরা পাখা ঝাপটায় আজও। 

       


- ভাস্কর ভট্টাচার্য্য 

রবিবার, ২৫শে মাঘ, ১৪৩২

Sunday, 8th February, 2026

সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬

ফুটনোট

যেদিন আলাদা হলাম —

কোনো দরজা ভাঙেনি,
শুধু জানালার কাচে জমে
কুয়াশায় ভেজা আকাশ।
যেদিন তুমি চলে গেলে —
একটা বিকেলের মতো,
আলো ছিল, তার চেয়ে
ছায়া ছিল বেশি।
শহরের রাস্তা তখনও
নিজের কাজে ব্যস্ত —
বাস থামছে, চা ফুটছে,
একটা অলস কুকুর ঘুমোচ্ছে
ফুটপাথের ইতিহাসে।
আমাদের আলাদা হওয়া
নজরে আসে না কারো।
তোমার কণ্ঠস্বর
এখনো আছে আমার ভেতর —
ভাঙা থার্মোসের মতো,
গরম নেই,
কিন্তু হাত রাখলে
পুরনো উষ্ণতা মনে পড়ে।
ভালোবাসা কি শেষ হয়?
নাকি সে শুধু
ঠিকানা বদলায় —
একটা বুক থেকে
আরেকটা নিঃশ্বাসে?
রাতে আমি বাতি নিভিয়ে রাখি,
অন্ধকারটা পরিষ্কার লাগে।
তুমি হয়তো এখন
অন্য ঘরে আলো জ্বালাও,
সেই আলোয়
আমার নাম নেই।
আমরা দু’জনেই
নিজ নিজ জীবনে
বেঁচে থাকার চেষ্টায় বাঁচি —
কিন্তু মাঝখানে, শুষ্ক
নদীটার বহমান শূন্যতায়,
সাঁতার কাজে আসে না, শুধু
দুই পাড়ে স্তূপাকার বিরহের দীর্ঘশ্বাস।
তোমার অনুপস্থিতি
এখন আর কান্না নয় —
একটা অভ্যাস,
যেমন সকালে খবরের কাগজ
চা ছাড়াও পড়া যায়,
কিন্তু ঠিক জমে ওঠে না।
কখনো কখনো মনে হয়
তুমি আসবে —
ঠিক যেমন মনে হয়
শীত আবার ফিরবে।
জানি, আসবে না।
তবু শরীর
এক-আধখানা গরম কাপড় খোঁজে।
এভাবেই আলাদা থাকা —
উপন্যাস নয়,
একটা ধীর বাক্য,
যার শেষে অদৃশ্য দাঁড়ি থাকলেও
অর্থ এখনো
সম্পূর্ণ রূপ পায়নি, হয়তো।


- ভাস্কর ভট্টাচার্য্য
শুক্রবার, ২৫শে পৌষ, ১৪৩২

সোমবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৪

মরে যাই

 যে খেলায় হেরেছি হেলায়, সময় ভেলায়  

ভেসেছি অজানা সুখের খোঁজে কত বার

যত চাওয়া, ফিরে পাওয়া, সবই মিছে 

তবু চাই যে, মরে যাই যে, বারে বার |    


তবু চাই যে, মরে যাই যে, বারে বার ||


হায় সজনী, দিন রজনী, খুঁজে ফিরি    

তোমাকে তোমার ছায়া থেকে যতবার, 

হাতে হাত, সারা রাত, সেই ধারা বহে 

কারণে কভু অকারণে ভাসে প্রতিবার |  


তবু চাই যে, মরে যাই যে, বারে বার ||    


আবেশের মুঠো ভরা মোর ভালোবাসা,   

কবেই থমকে গেছে, দুয়ারে তোমার   

পড়ে থাকা স্মৃতি রাখা ছাইটুকু দিও শুধু,    

তোমা হতে চাইবার কিছু নাই আমার | 


তবু চাই যে, মরে যাই যে, বারে বার |  

তবু চাই যে, মরে যাই যে, বারে বার ||


মঙ্গলবার, ৯ মে, ২০২৩

শুভকামনা

 কখনো অন্যমনে, নির্লিপ্ত অনু ক্ষণে

অবসন্ন অবেলায়, উপেক্ষিত হৃদি কোণে       

হটাৎ মুচড়ে ওঠা স্মৃতির উত্তাল ভিড়ে    

এক খন্ড ছবি যেন ভাসে আনমনে |

বুদ্বুদের মতো টুকরো অতীত, কিছু 

ভারহীন ভাবনারা জড়ো হয় প্রাণে 

যা কিছু ভুল, অযতনে ঝরে যাওয়া ফুল   

একাকী মন ভেজে স্যাঁতসেতে অভিমানে |

তবু, ভাঙা কত জানালার ফাঁক ঢাকা, 

বলিরেখা বরাবর বিবর্ণ হাসি আঁকা,

ভালোবাসা আবছায়া, জড়ো হয়ে দোরে     

বলে যায় নিশিদিন, শুভ হউক প্রতি ক্ষণে |   



© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ০৮.০৫.২০২৩

রবিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৩

আকাশ, সিন্ধু, ... নারী

নীল হারায় যেথা দিগন্তের বুকে,

খুঁজেছি সেথায় সুখে আর দুখে;

বারেবার ছুঁয়ে দেখে মুহূর্তরা, 

অপটু পুরুষ মন, দৃষ্টি আনকোরা;     

সূর্যের অচেনা নীল রঙের খোঁজে,    

আলগা অভিমান, ভরসা রোজের;

অমৃতের সন্ধানে কবেই দিয়েছি পাড়ি,   

সাথে আকাশ, পাশে সিন্ধু ... আর নারী |



© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ২০.০৪.২০২৩

 

সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

ভালো আছি

 ভালো আছি, ভালো থাকারই আয়োজন, 

কখনো ডাইনে, কখনো বা বাঁয়ে

হয়তো বা গতিপথের বুক চিরে, একটু ধীরে  

কোন ঘেসে দাঁড়িয়ে একগুঁয়ে ঠায়ে | 


অগুনতি ছায়ালোক পেরিয়ে, নিশুতে 

মাথার বালিশের ধারে বা লেপের কোনে,

চুপটি করে গুটলি পাকানো ধূমকেতুটা 

ভালো থাকার মন্ত্র আওড়ায় যেখানে এক মনে |   


কত শত ভরা কোটালের কালশিটে গায়ে,  

প্রৌঢ় নৌকোর শরীর জুড়ে সজীব কাঠের কাজ,   

ভাবে যদি নতুনের খোঁজে দেওয়া যায় পাড়ি 

আরেকটিবার, গায়ে জোনাকি গাঁথা নতুন সাজ |


হয়তো বসন্ত, নতুবা বিষয়, বাসনা অন্তহীন,

থাকে যদি থাক সব অবসাদ বা জমাট যত গ্লানি,   

অলস উঠোন পেরিয়ে সরু গলি ছাড়ালেই   

বড় রাস্তার মুখে দাঁড়ানো অমরত্বের হাতছানি |


পরাভব যত, অপমান শত শত, কখনো ভাবিনি    

এই চলন অযথা, যত প্রস্তুতি সব নিষ্প্রয়োজন, 

ভোরের আলোয় নতুন তারে ফের কষেছি বীণা,  

ভালো আছি, আসলে সব ভালো থাকারই আয়োজন | 



© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ১৩.০২.২০২৩

শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

অনু কবিতা - সংকলন ৬

কাঠামটা তো দুর্বল হয়েছে কয়েক দশক আগেই, নিঃশব্দে  

কালের ঝামায় উজ্জ্বল তামাটে ছালটাও ফ্যাকাশে, অচেনা   

ঘোলাটে অতীত, চটচটে যন্ত্রনা আর ধূসর খাঁজগুলির সীমানায়   

জীর্ণ হাপরের বিষন্ন ধোঁয়া আজও বিলোয় মোক্ষলাভের ঠিকানা |




© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ১৯.১২.২০২২

বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৩

অঙ্গীকার

সেবার সেই যে তুমি কথা দিয়েছিলে পাশে থাকবে   

বহু ব্যবহারে বিবর্ণ ক্যানভাসেও এক সাথে ছবি আঁকবে |  

সকালের চা শেষে, দুজনে দুজনের বলিরেখা গুনবো  

কান পেতে আমাদের পুরোনো ঘড়িটার টিক টিক শুনবো | 


আর একবার পাশবালিশের গন্ডি পেরোনোর দুষ্কর চেষ্টায়,   

কখনো বা অশক্ত আঙুলের শিরাগুলো ছুঁয়ে দেখার শেষটায়,   

টান টান চামড়ার দাপাদাপি শেষে পড়ে থাকা যেটুকু,    

অতি সযত্নে আগলে রাখা একরাশ আস্থা বুকে সেটুকু, 

ঘষা কাঁচে ধুলো মতো জমা যত মলিন স্বপ্ন আর কিছু হাসি, 

দেয়ালের কোন ঘেঁষে পড়ে থাকা অকেজো তুরুপের রাশি, 

কেন গেলোনা তবে শেষ পর্যন্ত ভাগের কষ্ট একসাথে সওয়া ?    

অগুনতি পিঙ্গল ঋতুচক্র শেষে একসাথে পরিণত হওয়া ? 


তুমি সেদিন বড়ো মুখ করে কথা দিয়েছিলে পাশে থাকবে,  

মনে আছে বলেছিলে ধূসর ক্যানভাসেও রঙিন ছবি আঁকবে |  



© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ০৭.১২.২০২২

বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২২

নিছক প্রত্যয়ী

কুয়াশার ঠিক ওপারেই আছো 

ফজরের আজানের সূচনায় তুমি,   

বসন্তের আশু সবুজে আছো 

ঝঞ্ঝা শেষের শান্ত প্রকৃতি তুমি |  

নিকষ ক্লান্তির অবসানে আছো 

কৈশোরের নাছোড় আবদারে তুমি, 

সগর্ভার যন্ত্রনার উপশমে আছো   

নবজাত প্রাণের উন্মেষে তুমি |

আছো মেঘের ক্ষীণ রুপালি রেখায়  

ভীষণ মহামারীর প্রতিষেধকে তুমি, 

ঘন আঁধার জ্বলে তোমার শিখায়  

ভাঙা প্রত্যাশে নব সঞ্জীবন তুমি |  

অনিমেশ আমি নিমেষের খোঁজে 

                                 গভীর আবেশে সিক্ত, 

মুঠো আমার চির মুক্ত জেনো, বারেবার 

                                   করো আমায় রিক্ত | 



© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ১৬.১১.২০২২

বুধবার, ৯ নভেম্বর, ২০২২

ছবি

 বাহবা কুড়োনোর জন্য নয়, ছাদের কার্নিশে হেঁটেছি  

তোমাকে আরেকটু কাছ থেকে দেখতে পাওয়ার লোভে,   

কখনো দারুন রোদে, কখনো অবেলার জলে ভিজে

বারবার দেখেছি তোমায় মুগ্ধ বিস্ময়ে, কিভাবে কবে  

কোন অছিলায়, জানলার ফ্রেমে ধরা সেই অপরূপ

রূপ বেশুমার, বেহিসাবি ব্যস্ততায় পান করেছি প্রানভরে, 

কতশত পিচ্ছিল পথের শেষে, নিদারুন নীরব সংকল্পে, 

ক্ষত বিক্ষত শরীরে পৌঁছে গিয়েছি সবার অগোচরে |


সময়ের ঘাতে বেইমান ঋতু নিয়ত বদলায়, আজ অসহায়   

জানালার ফ্রেমে খুঁজি বারেবার, সেই অপরূপ ছবি, হায় |  

    


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ০৮.১১.২০২২

মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর, ২০২২

অনু কবিতা - সংকলন ৪

 দেখেছো দগ্ধ্যাতে আমায়, 

করেছো উদযাপন আমার 

আগুনে ঝলসানো অস্থি, 

আমার অন্তর পোড়া ভস্ম বিনা   

বিজয়ীর তিলক কাটতে 

কোন ছাই দিয়ে, ভেবেছো কি ?


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ২১.১০.২০২২




কখনো উদাস নির্জনতায়, কখনো বা ভীরু আনমনে 

খুঁজে ফিরি কম্পিত এক ধূসর অবয়ব ক্ষনে ক্ষনে,   

নিঃসঙ্গতার জোয়ার-ভাটায়, অগোছালো অন্য মনে  

অচেনা মুখের ভিড়ে অথবা অন্তরের গহীন কোনে,

অস্ফূট সেই তুমি ছিলে, আছো নিশিদিন এই প্রাণে |


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ০১.১১.২০২২  

রবিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২২

অনু কবিতা - সংকলন ৩

|| প্রতীক্ষা || 


রামধনুর নোলক পরে, সেই যে মেঘের ওড়না জড়ালে, তারপর 

অগুনতি নিঃসঙ্গ নিশুতি পেরিয়ে বিষণ্ণ দরবারী কানাড়া

যখন সারেঙ্গীর তার ছুঁয়ে শেষ রাতে ললিতের সন্ধানে বেরোতো    

বার বার, কতবার তারাদের ভিড়ে তন্ন তন্ন খুঁজেছি তোমায় |

যদি একবার অগোচরে খসে পড়ে অভিমানের ওড়না, ভোর রাতে 

ঘুম ভেঙে চাঁদের আলোয় যদি করি স্নান, আলোর চন্দনে 

সেজে ওঠা তোমার মুখ কাছ থেকে দেখবো একবার, প্রতিবার 

তুমি দেবে অঞ্জলি, আমি শুধু দেখবো তোমায়, ফিরে এসো একবার |      

        

© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ৩০.০৯.২০২২

   

  


|| আমার শহর, তোমার শহর ||

            

আমার শহর, তোমার শহর, প্রাণের শহর, একলা শহর,

আলোর শহর, অবাক শহর, বেবাক শহর, একলা শহর,

গানের শহর, টানের শহর, মানের শহর, একলা শহর, 

রবির শহর, রাতের শহর, তারার শহর, একলার শহর, 

পুজোর শহর, প্রেমের শহর, ক্ষোভের শহর, এই শহর,

আমার শহর, তোমার শহর, প্রাণের শহর, একলা শহর |


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ৩০.০৯.২০২২

সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২

অনু কবিতা - সংকলন ২

 সাহস লাগে এক আকাশ লক্ষ তারা গুনতে ,

স্পর্ধা লাগে অন্ধকারে আলোর মালা বুনতে | 

সাহস বিনে কিসের জোরে ঝড়ের সাথে লড়াই ?  

স্পর্ধা বিনে কোন সাহসে ভালোবাসার বড়াই ?


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ২১.০৯.২০২২


===============================================================


বদনাম তো সেদিনই হয়েছিলাম, প্রিয়  

তোমার উঠোনে যেদিন পা রেখেছিলাম,

কখনো তোমাতে, কখনো তোমার ছায়ায় 

বেঁচে থাকার খোরাক খুঁজেছিলাম |

ওপথ সরল নয়, সুদীর্ঘ, তা কি মানিনে ?

সমান্তরালের নৈরাশা, তা কি জানিনে ?

নৈরাশ্যের পথ্য একটাই, কেবল আশা 

ভালোবাসার অজুহাত, শুধুই ভালোবাসা 

বদনাম তো সেদিনই হয়েছিলাম, তোমার 

বুকে যেদিন এক ফালি জমি খুঁজেছিলাম | 


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ২৬.০৯.২০২২

বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২

জন্ম চিহ্ন

শেষ যেবার রাত ভোর বিবস্ত্র করে 

জন্ম চিহ্ন খোঁজার চেষ্টা করেছিলে, 

প্রতিবাদ করতেই, মানুষ চেনার

এটাই নাকি সাচ্চা উপায়, বলেছিলে |


অন্ধকারের আলোয়, থুতনির খাঁজে 

বাদামি তিলটাকে দেখে বলেছিলে,

অনুরত পুরুষের অমন তিল অশালীন 

নির্ঘাত বেহায়া চরিত্রহীন ভেবেছিলে |    


আমি যে তোমার যোগ্য, প্রমান হোক  

হয়ত তাই মনে মনে চেয়েছিলে,        

তাই বোধ হয় রাত ভোর বিবস্ত্র করে 

জন্ম চিহ্ন খোঁজার চেষ্টা করেছিলে |


ভোরের আলো ভাঙতেই স্যাঁতসেঁতে 

চোখের আকুতি লুকোতে চেয়েছিলে,

জানি ভালোবেসেছিলে অজান্তেই, তাই

অমন করে জন্ম চিহ্ন খোঁজার চেষ্টা করেছিলে |   


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ১৫.০৯.২০২২ 

রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

খেলাঘর

ভালো বাসা'র টানে নয়, হয়তো  
এসেছিলে খেলাঘরের খোঁজে |
মেঝেতে আড়াআড়ি পড়ে থাকা  
আঁচড়গুলোর সূক্ষ্ম ভাঁজে, 
তেলচিটে পড়া যে আব্দারগুলো 
ঘেঁষাঘেঁষি হয়ে শেষ শ্বাস গুনছে,     
মাটিতে কান পেতে শুনছে,
সহসা কোনো বিজলীর ঝটকায়  
ভাঙা খেলাঘর যদি ফের প্রাণ প্রায়,
আবার যদি ইচ্ছে জাগে, যত্ন করে 
তোলা আছে সরঞ্জাম যত, 
জেনো, সব তোমারই মন মতো | 


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | "মন উথাল" সিরিজ | ০৯.০৯.২০২২

অনু কবিতা - সংকলন ১

এক চিলতে আকাশে হাঁটু গেড়ে 
চেয়েছি শুধু মুঠো নীল যন্ত্রনা, যত 
ছায়া পোড়া ছাই, তাই দাও সই,
খুচরো ভালো থাকা, তাও দামি |


---------------------------------------

তোমার কাছে তো আমি ফাগুন চাইনি,
চেয়েছিলাম একটু উষ্ণতা আধা ভোরে |
সূর্যমুখী নয়, চেয়েছি তোমার মুখ, তবে 
হৃদয় শূন্য করে নীরবে কেন গেলে সরে ?
তোমার কাছে তো আমি আকাশ চাইনি
চেয়েছিলাম একটা দীর্ঘ্য উড়ান সাথে |
আসমান রাত জাগে তোমার অপেক্ষায়,
একাকী আমি হাত রাখি কোন হাতে ?


---------------------------------------


ঘষা কাঁচের ওপারে মেঘ না রোদ্দুর, 
বৃষ্টি থামার শেষেও জানা হলো না;  
গোধূলির নরম আলোয় সেঁকা আশ্বাস
আবেগ না পরিহাস, জানা হলো না; 
কোন অভিশাপে বাসি হলো নেশাতুর মন, 
রাতের তারারা কেন ছল ছল, জানা হলো না; 
দুদণ্ড কাঁধে মাথা রাখার নিশ্চিন্তি
ভালোবাসায় না ক্লান্তিতে, জানা হলো না;   
জানা হলো না, জানা গেলো না; 
সব জেনেও জানা হলো না |


---------------------------------------


আকাশের নীল তোমার গালে লেপে দেওয়াটা তো নিছক অজুহাত,
আসল উদ্দেশ্য তো তোমার সংশয়ী চোয়ালের কাঠিন্য মুছে দেওয়া;
ভালোবাসা ভেবে আঁচল ভরেছো যা দিয়ে, আসলে সেটা পুরাতন অভ্যাস,  
উষ্ণতা পাওয়া যেতে পারে আস্তাকুঁড়েও, দায়িত্ত্ব শুধু খুঁজে নেওয়া |


---------------------------------------



- ভাস্কর ভট্টাচার্য