poetry লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
poetry লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫

অনু কবিতা - অক্টোবর ২০২৫

দলছুট, প্রায় দিশেহারা তথাপি স্ফুরিত, 
সদা অমলিন তুমি, ফুল ফুটিয়েছো  
নিরুদ এই ঊষর জমিতে নিজ গুনে;
অর্ধ শতাব্দীর উপবাস, দীর্ঘ অপেক্ষার শেষে,    
ফুসফুস ভরি তোমার সুবাসে লালিত 
নীরব সমর্পণে, তোমার অসীম ভালোবাসায়;  
পাওয়া না পাওয়ার বিষন্ন মহাশূন্য পেরিয়ে
নিত্য যা কিছু, ধরা থাক স্মিত তোমার প্রতিবিম্বে। 


==================================


স্মৃতির তো কোনো অবয়ব হয় না
পড়ে তাই তার কোনো ছায়াও রয় না।
তবে ধাওয়া করে কেন ফেরা?
মাঝ রাতে বোবা কান্নায় ঘেরা?
যা কিছু গিয়েছে সরে, বহু দূরে
যে বাঁশি আজ আর বাজে না সুরে,
কি পায় মন অহেতুক হাতড়িয়ে?
সময়ের প্রতিমুখে অযথা সাঁতরিয়ে?
মুঠো খুলে সেই কবে খসেছে যা কিছু,
সময়ের ঝঞ্ঝায় ছাড়ে জেদ যত পিছু,
অশরীরী স্মৃতি রেখে কাল কুঠুরিতে,
মাতো আগামীর রচনায় নব পরিধিতে।
- ভাস্কর ভট্টাচার্য্য
সোমবার, ৪ঠা কার্তিক ১৪৩২


==================================


ঐ চোখ দুটো যেন নীলাভ-সবুজ ঝর্ণাধারার নিস্তব্ধ জল —
গভীর অথচ প্রাণবন্ত, শান্ত অথচ আহ্বানময়।
দৃষ্টির সেই গভীরে যেন লুকিয়ে থাকে
হরিণীর মতো নিষ্পাপ এক বিস্ময়,
ভর করে থাকে অনুরাগের মৃদু অচেনা কম্পন।
চোখ দুটোতে আলো পড়লে, কখনো
তা হারিয়ে যায় সমুদ্রের নীলে, বা কখনো
শিশিরস্নাত সবুজের মতো ঝিকমিক করে ওঠে।
কেবল দেখার জন্য নয়, সেই চোখ
ধরে রাখার, অনুভবে, আবেগের অনুরণনে
মনের গোপন কোণে
যেন অদৃশ্য কোনো টানে
ভিতরভাগের নীরব কষ্ট, কোমল আকুলতা আর আবেশ
ডেকে নিয়ে যায় নীরবে, অদ্ভুত এক কোমল অচেনায়।
খুঁজি অযথাই, সেই দৃষ্টিতে লেখা নেই তেমন কিছুই —
না অভিমান, না আড়াল বা বাসনার অভিসার
শুধু অলক্ষ্যে প্রবাহিত হতে থাকা এক নীরব মায়া।
যেন বারে বারে বলে,
“দু দণ্ড সময় করে চেয়ে দ্যাখো না —
এই চোখে বন্দি হয়ে থাকা এক অনন্ত অপেক্ষা,
সহস্র শতাব্দীর শুন্যতা, অন্তহীন এক নির্বাক ডাক —
মোহনার খোঁজে না হয় হারালাম দুজন”
- ভাস্কর ভট্টাচার্য্য
বৃহস্পতিবার, ১৭ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২

রবিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৩

আকাশ, সিন্ধু, ... নারী

নীল হারায় যেথা দিগন্তের বুকে,

খুঁজেছি সেথায় সুখে আর দুখে;

বারেবার ছুঁয়ে দেখে মুহূর্তরা, 

অপটু পুরুষ মন, দৃষ্টি আনকোরা;     

সূর্যের অচেনা নীল রঙের খোঁজে,    

আলগা অভিমান, ভরসা রোজের;

অমৃতের সন্ধানে কবেই দিয়েছি পাড়ি,   

সাথে আকাশ, পাশে সিন্ধু ... আর নারী |



© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ২০.০৪.২০২৩

 

বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৩

অঙ্গীকার

সেবার সেই যে তুমি কথা দিয়েছিলে পাশে থাকবে   

বহু ব্যবহারে বিবর্ণ ক্যানভাসেও এক সাথে ছবি আঁকবে |  

সকালের চা শেষে, দুজনে দুজনের বলিরেখা গুনবো  

কান পেতে আমাদের পুরোনো ঘড়িটার টিক টিক শুনবো | 


আর একবার পাশবালিশের গন্ডি পেরোনোর দুষ্কর চেষ্টায়,   

কখনো বা অশক্ত আঙুলের শিরাগুলো ছুঁয়ে দেখার শেষটায়,   

টান টান চামড়ার দাপাদাপি শেষে পড়ে থাকা যেটুকু,    

অতি সযত্নে আগলে রাখা একরাশ আস্থা বুকে সেটুকু, 

ঘষা কাঁচে ধুলো মতো জমা যত মলিন স্বপ্ন আর কিছু হাসি, 

দেয়ালের কোন ঘেঁষে পড়ে থাকা অকেজো তুরুপের রাশি, 

কেন গেলোনা তবে শেষ পর্যন্ত ভাগের কষ্ট একসাথে সওয়া ?    

অগুনতি পিঙ্গল ঋতুচক্র শেষে একসাথে পরিণত হওয়া ? 


তুমি সেদিন বড়ো মুখ করে কথা দিয়েছিলে পাশে থাকবে,  

মনে আছে বলেছিলে ধূসর ক্যানভাসেও রঙিন ছবি আঁকবে |  



© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ০৭.১২.২০২২

মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর, ২০২২

অনু কবিতা - সংকলন ৪

 দেখেছো দগ্ধ্যাতে আমায়, 

করেছো উদযাপন আমার 

আগুনে ঝলসানো অস্থি, 

আমার অন্তর পোড়া ভস্ম বিনা   

বিজয়ীর তিলক কাটতে 

কোন ছাই দিয়ে, ভেবেছো কি ?


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ২১.১০.২০২২




কখনো উদাস নির্জনতায়, কখনো বা ভীরু আনমনে 

খুঁজে ফিরি কম্পিত এক ধূসর অবয়ব ক্ষনে ক্ষনে,   

নিঃসঙ্গতার জোয়ার-ভাটায়, অগোছালো অন্য মনে  

অচেনা মুখের ভিড়ে অথবা অন্তরের গহীন কোনে,

অস্ফূট সেই তুমি ছিলে, আছো নিশিদিন এই প্রাণে |


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ০১.১১.২০২২  

বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট, ২০২২

অন্য মনে

যদি পাশে নাই বা পেলে কুয়াশা ভোরে, 

শিউলি তলায়, ধানের খেতে,   

যদি কাছে নাই বা পেলে উদাস সাঁঝে   

বা মন খারাপের বিজন রাতে;


নাই বা হলো খুনসুটি আর কপট রাগ,    

সেই দ্বিপ্রহরে ঘর বেঘরে পুতুল খেলা,  

নাই বা পেলে বৃষ্টি ভেজা ঠোঁটের আদর,      

মন কুড়িয়ে জমাট বুনট প্রেমের মালা;

  

নাই বা পেলে কালচে হতাশ দিনের শেষে, 

সবটা কবে কে পেয়েছে অন্তমিলে ? 

না পাওয়ারও তৃপ্তি বোনা হালকা ধূসর,

বুকেই থাকুক না চাইতেই যেটুক পেলে | 

   

সেদিন ছিলাম বৃষ্টি ধোয়া তোমার গালে,

সেদিন ছিলাম নরম হাতে আমার হাত,   

সেদিন ছিলাম প্রথম আদর শীত দুপুরে,

সেদিন ছিলাম নদীর পথে আস্ত রাত;


সেদিন ছিলাম চোখের জলের সঙ্গী হয়ে,

সেদিন ছিলাম সব হারানোর দিন শেষে,  

সেদিন ছিলাম সকল ব্যাথার কান্ডারি,

সেদিন ছিলাম একলা পথে তোমার পাশে |


আজও আছি তোমার পাশে তেমনটাই,   

আজও তোমার মিষ্টি ঠোঁটের ওই ভেলায়,

খুনসুটি আর ঝগড়াঝাটির রাত শেষে,  

আজও আছি তোমার সাথে সেই খেলায়;


আজও জাগাই অঙ্গে তোমার সেই কাঁপন,      

আজও আছি শাড়ীর খুঁট আর নিঃশ্বাসে,

আজও পাবে শিউলি তলায় তোমার আমি, 

শুধু অতল মনের তল খোঁজো, বিশ্বাসে |

সোমবার, ২৫ জুলাই, ২০২২

ভালো থেকো

নিভিয়েই দেবে যদি নীরবে, 

চুপিসাড়ে, মোর অজান্তে 

চেয়েছিলে কেন তবে  

এক মুঠো আগুন, একান্তে |

আমার যা ছিল উষ্ণ, অন্তরে  

দিয়েছি করে সব নিংড়ে উজাড়, 

হিম অন্তর খোঁজে ইন্ধন আজ  

আঁধারে পিদিম জ্বালাবার |

কালো রাত ভেঙে ভোর হয় রোজ,    

হতাশার বুক চিরে সবুজের বানভাসি, 

তবু কেন চোরা গলি হাতড়িয়ে     

শূন্য মনে নিয়ত আছড়ায় অট্টহাসি | 

যেখানে যা কিছু শুভ, শ্রেষ্ঠ যা কিছু,   

শুভ্র বাসনা যত এই শূন্যগর্ভ মনে, 

সবটুকু থাক শুধু তোমারই ভাগে, 

দগ্ধ হৃদয় থাকুক মোর, তমসাবৃত কোনে | 


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | "মন উথাল" সিরিজ | ২১.০৭.২০২২


শনিবার, ১৬ জুলাই, ২০২২

স্তবক, তুমি কার?

 ফুলের গোছাটা তোমার দিকে এগিয়ে দিতেই 

তুমি চমকে উঠলে - 'ওমা এসব আবার কি?'

আমি অপ্রস্তুত, গোলাপগুলোও খানিক বিব্রত যেন 

ভুলে গেছিলাম, আসলে তুমি অন্য কারো;

খানিক ঢোক গিলে ঈষৎ কাঁপা গলায় বললাম 

প্রথম বার তুমি এলে, কথা রাখলে    

শূন্য হাতে আসাটা আমার কি ভালো দেখায়?

কি জানি কি বুঝলে, ঠোঁট দুটো মৃদু ফাঁক করে 

কিছু একটা বলার চেষ্টা করলে, কিন্তু 

পেলাম একটা হালকা হাসির ঝিলিক,

আশ্বস্ত হলাম, বড় অন্যায় হয়নি তবে;

বললাম, ভালো না লাগলে ফিরিয়ে দিয়ো   

বললে - 'তা কেন? বলো কোথায় যাবে' | 


তারপর শুধু কথা আর কথা, যেন 

কথার মালায় আষ্ঠে পৃষ্ঠে বাঁধবে আমায়,  

যেন নেই সময় বেশি তোমার হাতে, 

যেন কঠিন পাঞ্জা কষে অদৃষ্টের সাথে 

ছিনিয়ে এনেছ কয়েকটা মুহূর্ত আমার জন্য !    

আমার কাজ এক্কেবারে সোজা, মুগ্ধ হয়ে

তোমায় দেখা আর ভেসে যাওয়া 

তোমার রূপের জোয়ারে, কথার স্রোতে; 

এতো কাছে, তবু যেন ছায়াছবি কালোয় সাদায়,

দূর থেকে শুধু দেখতে হয়, কাছে গেলে ধোঁয়া,  

ভুলে গেছিলাম, তুমি আসলে অন্য কারো; বললাম, 

তোমার ভালো না লাগলে এই শেষ, বাড়ি যাবে?    

বললে - 'তা কেন? তুমি চাইলেই আমায় আবার পাবে' |


ইচ্ছে করেনি সেদিন ছেড়ে আসতে তোমায়,

এক অপূর্ব ভয়, কি জানি বোধহয় এমনটাই হয় 

নাকি সবটাই আমার কল্পনা, চপল মনের ভান  

নিঠুর মরীচিকাকে ভাবা শীতল মরুদ্যান;

সেদিন চেয়েছিলো মন, থাকুক থমকে সময় কিছুক্ষন |   

যেদিন তুমি চলে গেলে, বলে গেলে, হয়তো 

দেখা হবে তুমি চাইলে, কথা হবে আবার,   

ভুলে গেছিলাম ফের, তুমি তো আসলে অন্য কারো,    

নও আমার; তবু জানতে ইচ্ছে করে, আমার দেওয়া 

একটা শুকনো গোলাপও কি আছে বইয়ের ফাঁকে  

রাখা সযত্নে, অথবা তোমার মনের গোপন কোনে?  

হোক মরীচিকা, তবু বারে বারে তোমাকেই চায় মন; অথচ   

কাল স্বপ্নে এসে হায়, শিয়রে বসে মৃদু হেসে, বললে -    

'তা কি করে হয়? আমি যে অন্য কারো, তোমার তো নয়' |     


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | "মন উথাল" সিরিজ | ১৬.০৭.২০২২

সোমবার, ৪ জুলাই, ২০২২

স্মৃতি শুধুই যন্ত্রণার

মুহূর্তরা ক্ষণিক ভিড় করে অলিন্দে 
নিমেষে ছুঁয়ে ফিরে আসা, কিছু ক্ষণ
বন্ধ জানালার কাঁচে দুর্বল আকুতি
এর বেশি কি বা চায় বিবশ, অসহায় মন |  

খানিক অযথা আনমনা, খেদ ভুলে  
অকারণ উদাসীন রোমন্থন,   
এক আঁজলা আলোর পাপড়ি কুড়িয়ে  
নিভৃতে নীরবে কাঁদে অবসন্ন মন | 

কত কথা, স্মৃতি, কত অভিঘাত
কত আবরণ ভাঙা দুর্বহ আলোড়ন  
ফ্যাকাশে কিছু রয়ে যাওয়া ছেঁড়া ছবি  
সময়ের ধুলো মুছে, অস্তি হাতড়ায় মন |

স্মৃতি শুধুই যন্ত্রণার, বিস্মৃতিই উপশম ?
দুরূহ প্রশ্ন, অধরা উত্তর নির্জীব অচেতন,
নিরবধি দ্বারে ভিড় করা স্মৃতিগুলি    
কোন সুখে তবু এই নিবিড় আলিঙ্গন ?   


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | "মন উথাল" সিরিজ | ০৩.০৭.২০২২

শুক্রবার, ১ জুলাই, ২০২২

অভিনয়

 মন খারাপের ভোরে, বিবর্ণ ধূসর কোনে

জমা যত গ্লানি, নিথর শায়িত মনে |   

রূঢ় প্রশ্নে বেআব্রু, সংসার চার আনা   

বাদামি গন্ধে রুদ্ধ, নিষ্প্রাণ হাসনুহানা || 


রাত ভেঙে হাতড়ানো, টুকরো স্বপ্ন গোটা কয় 

কালচে ঊষর আবেগে, লেপ্টে সেপ্টে দিনক্ষয় |

শীতল পাঁজরে ঠাসা, গোঙায় ফুসফুস নিশ্চুপ      

গুমোট মুকুরে নিত্য, ঝলসায় অচেনা রূপ || 


জীর্ণ দেহ, খেলাপি সত্তা, স্খলিত অভিমান   

কালের প্রবাহে প্রতারক অভিনয় নিষ্প্রাণ |   

শীর্ণ আশার আলগা বাঁধনে শিথিল অঙ্গীকার 

শূন্য বুকে তোলপাড় গাঁথা শুধুই হাহাকার ||   


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | "মন উথাল" সিরিজ | ৩০.০৬.২০২২

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন, ২০২২

অনন্যা, তোমায়

 আগে বুঝিনি তুমি এতো সুন্দর |

স্যাঁতসেতে শহরের নীল আলোয়
তোমার কপালে ঝাঁপিয়ে এক গুচ্ছ স্বপ্ন,
ইচ্ছে হয় আলতো করে সরিয়ে দি;
না থাক, ওদের ভাগে ভাগ বসাবো না |
তোমার গালের টোল আগলে যে তিল টা
পাহারা দেয় মিষ্টি হাসি টাকে,
মন চায় ঠিক ওখানেই বাসা বাঁধি গোপনে |
আবার ভাবি কুচুটে ওই তিলের খুনসুঁটিই
তোমার্ হাসিকে করেছে দীপ্ত, তোমাকে অনন্যা |
মসৃন পিঠ বেয়ে নামা চুলের ঝর্ণায়
অসংযত মন আগল খুলে যখন বেসামাল,
তখন খুব ঈর্ষা হয় তোমার্ চুলের উপর;
তবু কত সন্ধ্যা কেটেছে তোমার চুলের গন্ধে
মৌতাত করে, নেশার আবেশে, ভালোবেসে |
সম্মোহনের মৃদু উন্মেষে ভিজে যাওয়া
আমার মন, তোমার প্রত্যাশায় উতলা নিরন্তর;
তোমার অধরের কানায় চলকে যাওয়া সুধার
নেশায় বুঁদ, আমি অবিরাম রাত-ভোর
আগে বুঝিনি তুই এতো সুন্দর |
সোনালী জ্যোৎসনা ফিকে তোমার ছটায়,
তোমার মুখের আদল পায়নি চাঁদ
অনুপমা প্রকৃতির চক্ষুশূল তুমি
তবু ওরা তোমায় পাবে না,
তুমি যে পেয়েছো নদী, নদীর পথ |
আগে বুঝিনি তুমি এতো সুন্দর |

© ভাস্কর ভট্টাচার্য | "মন উথাল" সিরিজ | ১৬.০৬.২০২২

শুক্রবার, ৩ জুন, ২০২২

অধিকার

শাপলায় জন্মা শামুক ভাবে 
শাপলায় অধিকার তার, 
উচ্ছিষ্টে পুষ্ট শরীর ভাবে
উচ্ছিষ্টে দাবি শুধু তার |

মাঝি ভাবে তরী-নদ  
চাষি ভাবে জমি তার
আমি শুধু ভেবে মরি
আদপে অধিকার কার ?   

বিহগের দাবি আকাশ নীল    
তরু বোঝে মৃত্তিকায় স্বত্ব তার,,  
আগাছার দাবি উর্বর বনবীথি  
মন বলে ভালোবাসায় হক তার |
 
খালি হাতে আসা-যাওয়া, শেষে  
অনন্ত শূন্যতাই পরিণতি যার    
কি হেতু মিথ্যে দাবি নিরন্তর ?   
কিসের তবে এই অধিকার ?

© ভাস্কর ভট্টাচার্য | "মন উথাল" সিরিজ

ফাটল

খেলা ভাঙার ঘন্টা বাজতেই 

ছাদের কার্নিশ বেয়ে ঝুপ করে 

নেমে আসা অন্ধকারে জবুথবু  

দু হাঁটুর খাঁজে আশ্রয় তল্লাশে

নিরর্থ যন্ত্রনা মুঠো কান্নায় ভিজে  

পলেস্তারা খসা বিশ্রী দেয়ালের 

কোনে জানালার ঘষা কাঁচের

ফাটলের গ্লানি কলুষিত মর্যাদা 

নখে খুঁটে সাফ করার মূঢ়তা  

বওয়ার দায় বর্তায় যার কাঁধে 

তার আসা যাওয়া ফিরে চাওয়া 

বিনি সুতোয় বাঁধা সম্পর্কের  

ছিঁড়ে যাওয়া পীড়া ধমনীর 

গুমটি গলিতে কুরে কুরে 

দগদগে ক্ষত চিরে কালচে 

রক্তের প্রবাহ তৃষ্ণা মেটায় 

কোন প্রাণে, কোন খানে, কে জানে ?     


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | "মন উথাল" সিরিজ

বেইমান

খবর দিলে বৃষ্টি হবে 
আকাশ ভেঙে অনাসৃষ্টি হবে, 
রবির জেদে রুষ্ট আকাশ 
সলিল স্পর্শে তুষ্ট হবে,
আজ নাকি কেবল বৃষ্টি হবে |

সকাল থেকে মেঘের গুমর  
নীরদ দর্পে আকাশ কাঁপে,  
অধীর ত্রাসে স্তব্ধ বাতাস 
জমাট ব্যাথার মুক্তি হবে,  
আজ নাকি ভরা বৃষ্টি হবে | 

গুমোট অভিমানের কলস  
উপচে হৃদয় শূন্য হবে,    
বিরহ রাগে সিক্ত হয়ে 
সকল অহং নিঃস্ব হবে, 
আজ নাকি দারুন বৃষ্টি হবে |

কথার খেলাপ তবে কেন 
শুষ্ক মাটি ক্লিষ্ট যেন 
বলেছিলে যে বৃষ্টি হবে 
শুচি নুতন দৃষ্টি হবে, 
আগমনের প্রহর গোনা 
প্রতীক্ষায় স্বপ্ন বোনা, 
সবই কি বেইমানি তবে, 
বললে যে বড় বৃষ্টি হবে ?
কোমল অনুরাগের সৃষ্টি হবে ? 

© ভাস্কর ভট্টাচার্য | "মন উথাল" সিরিজ

ভাঙ্গন

 চাঁদের আদলে কি মুখ হয়,

বা ব্যাথার জঠরে সুখ ?  

অন্ধকারের কি কিরণ হয়,

বা প্রেমের কোটরে দুখ ?


গোপনে দানা বাঁধা অন্ধকার 

কখনো করে কি ঝলমল?

কাঁটার মুকুট কি হয়ে ওঠে  

কখনো মসলিন মখমল ? 


সব প্রশ্নের কি জবাব হয় ? 

নাকি সব পরীক্ষাই সোজা ?

অনির্দিষ্টের নির্দিষ্ট চাইতে চাওয়া 

কতটা সরল সে উত্তর খোঁজা ?


সব জেনেও অবুঝ তুমি,

প্রশ্নের জোয়ারে তোলপাড় |  

ঝড় সে শুধুই ভাঙতে জানে,. 

ভাঙে চৌকাঠ, ভাঙে নদীর পাড় |


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | "মন উথাল" সিরিজ

দেহাবশেষ

এই শহর যেন অজানা, ক্রমশ নিরুত্তাপ 
বিষন্ন আবেশে ঘন রাত্রির দীর্ঘশ্বাস | 

এতো ভিড়েও একলা আমি খুঁজে ফিরি    
নিঃস্ব নগরীর নিত্য নূতন পৌষ মাস |

পোড়া আকাশে কালো আবিরের টিলা,  
খেচরের দেহ শব ঝলসানো বেবাক |   

বেহুদা আকুতি শিয়রে আছড়ে দেদার  
নিকষ শামিয়ানায় মোড়া মহল্লা নির্বাক | 

চোখে মরুভূমি, দিশাহীন শীৎকারে 
খুঁজে ফেরে চেনা মুখ পরিজন | 

বুকে জ্বালা অবিরাম, সস্তা বিনোদনে  
ঢাকা ক্ষত কত, চুরমার ভীরু মন |  
 
চেনা গলি অচেনা অকস্মাৎ, ফাটলের 
গা বেয়ে নামে আগাছার অভিশাপ |

তীক্ষ্ণ আঘাতে বিবস্ত্র নিষ্প্রাণ ভালোবাসার     
রুদ্ধ আর্তনাদে লালিত ক্ষীণ অনুতাপ | 

দূষিত শহর সংকোচে ভীরু নিস্তাপ, 
আমার শহর যেন ক্রমশ অজানা, নিরুত্তাপ | 

© ভাস্কর ভট্টাচার্য | "মন উথাল" সিরিজ

ভীরু

যেতে চাইলেই কি যাওয়া যায় ?

ছুটি চাইলেই কি পাওয়া যায় ?


ছাদে ফুটে থাকা চন্দ্রমল্লিকাগুলি  

আঁচলের খুঁটে বাঁধা অচল আধুলি, 

বিছানার সাদা চাদরে চায়ের দাগ 

বাড়ির মেনি টার কপট রাগ,

মেঝেতে শুকনো নখ পালিশ

বহু বাতুলতায় বিপর্যস্ত পাশ বালিশ,

ঘুলঘুলিতে কচি মাকড়সার উঁকি ঝুঁকি

কড়িকাঠে সংসার পাতা ভীতু টিকটিকি,  

কূয়োর পাশে আগাছায় ঠাসা জঙ্গল  

আমের লোভে ছুটে আসা শিশুর দঙ্গল, 

শরতের ভোরে বাজা আলোর বেনু 

হাওয়ায় পাখনা মেলা পরাগ পুষ্পরেণু 

নিবিড় অযত্নে লালিত ছেঁড়া কার্পেট

বিষণ্ণ মরচে ধরা স্থবির গেট,  

ফটকে আছড়ে পড়া গাজনের গান 

অক্লেশে বেড়ে ওঠা তুলসীর প্রাণ,   

আঁকা বাঁকা কর্কশ মোরাম রাস্তা   

সরু সুতোয় ঝোলা ভীরু আস্থা, 

এসব ছেড়ে কি সহসা যাওয়া যায় ?


আচ্ছা, যেতে চাইলেই কি যাওয়া যায় ?

ছুটি চাইলেই কি পাওয়া যায় ?


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | "মন উথাল" সিরিজ

মূঢ়

 তুমি বললে গন্ড মূর্খ  

আমি বললাম জানি, 

তুমি বললে মস্ত বোকা 

আমি বললাম মানি | 


তোমার চাই তূর্য্য ঢাল 

আমার আছে মন টা,

তুমি বললে সময় কই  

তোমায় দিই কোনটা ?


তোমার খেলার সঙ্গী কত 

তোমার কত কাজ, 

আমার কেবল অঢেল সময় 

জিরান সকাল সাঁঝ |  


তুমি ওড়ো মহাকাশে 

আমার মেঠো পথ, 

আমার পা ধুলোয় ধূসর 

তোমার রঙ্গীন রথ | 


তোমার যীশু রবীন্দ্রনাথ 

আমার সুনীল-শক্তি, 

তোমার ঘৃণা আমার কিরীট 

হেরেও আমার মুক্তি |


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | "মন উথাল" সিরিজ

আগুন ফাগুন

তোমার জন্য কাশবনে আজ অকাল বোধন, 

আউল বাউল কন্ঠী ধারীর উদার গান; 

তোমার জন্য হটাৎ বাঁচার খুব তাগিদ, 

তোমার কথায় গভীর প্রেমের লাল নিশান | 


তোমার নিটোল চিবুক ছুঁয়ে দীর্ঘ রাত, 

তোমার জন্য বেলপাহাড়ীর মাদল বাজে; 

তোমার জন্য শীতের ভোরে উষ্ণ আবেগ, 

তোমার জন্য মন লাগে না আজ কাজে |


তোমার জন্য ভ্রমর ভাঙে সব বাঁধা,

তোমার জন্য সন্ধ্যাকাশে কলকা জরি ;   

তোমার জন্য হাসনুহানা রাত বিরেতে,

তোমার জন্য আল্পনা দেয় সাত পরী |


তোমার চোখের আদুল পাতায় স্বপ্ন নীল,  

তোমার বুকের নরম জগৎ টালমাটাল;  

তোমার প্রেমে সব অজুহাত লুটোয় ধুলোয়,   

দিনের শেষে সর্বনাশের রং মশাল |


সর্বনাশের আকর্ষণেই নবীন দিন,

আগুন ফাগুন ভোরের টানে নতুন গান;

তোমার জন্য শ্যাওলা সবুজ নরম ঠোঁট, 

এক পশলা কান্না শেষে নতুন প্রাণ |


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | "মন উথাল" সিরিজ

দেশ রাগ

এমনও সময় আসে,

তানপুরা নিজ সুর বাঁধে অবকাশে 

দেশ রাগে গাল বেয়ে সন্ধ্যা নামে অগোচরে  

আহ্নিক শেষে, দুরু দুরু বুকে বধূ  

থিরি থিরি কাঁপে কোন অজানা ত্রাসে,   

এমনও সময় আসে |


প্রণয়ের প্রথম বসন্তে মিলেছিল

আঁখি, মন তারই সাথে  

শিউলির ঘ্রানে, শিশিরের উচাটনে

বিবর্ণ সিঁথি রক্তিম সহসা, ধূমায়িত

উষ্ণ আবেগে ভাসে,

এমনও সময় আসে |


ক্ষমাহীন যুদ্ধ, বোঝেনি সে প্রেম

বাকি থাকা কথা, কিছু পিছুটান   

ভাঙে কত ঘর, নির্বাক অভিমান      

রাজা বলে দেশ বড়ো, মন বলে ঘর  

খসে সব আভরণ, ডোবে শেষ চর 

আসে বার্তা দূরভাষে, এমনও সময় আসে |


বিবর্ণ সিঁথি মরে মাথা কুটে

অভাগা শয্যা রিক্ত হাহাকারে     

নিবিড় আশ্লেষ, কত কথা, আশ্বাস

অবুঝ অন্তর খোঁজে আশ্রয় অন্ধকারে  

ধূসর প্রেম করুন স্মৃতি বয়ে ভাসে

এমনও সময় আসে |


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | "মন উথাল" সিরিজ

নিজ বাসা

দিনশেষে পসরা গুটিয়ে বণিক্ 

দিগন্তে শায়িত গোধূলির আবছায়ারা, 

নগদের হিসেব মেলা অবধি 

ছেঁদো ছুতো ভেঙেচুরে দিশেহারা |


দীর্ঘ ছায়াপথ নিমেষে নিঃশেষ

ক্ষীণ আলোক উৎস হাতছানি, 

সুচারু চেতনা ক্রমশ ক্ষীণ  

শ্রবণে থরথর মঞ্জীরধ্বনি |


ঝরে পাতা, কিছু সম্পর্ক 

সন্তান সন্ততি আত্মীয় পরিজন, 

দড়িদড়া ছেঁড়া স্বপ্ন মলিন  

অনন্ত আনন্দে বিলীন প্রাণমন |


বহু ব্যবহারে জীর্ণ ডানা 

বাতাসের সাথে বহুকাল আড়ি, 

অখণ্ড অবসরে শ্রান্ত আঁখি,  

দীর্ঘ ছুটি, অবশেষে নিজ বাড়ি |  


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | "মন উথাল" সিরিজ |