bengali poems লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
bengali poems লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৪

মরে যাই

 যে খেলায় হেরেছি হেলায়, সময় ভেলায়  

ভেসেছি অজানা সুখের খোঁজে কত বার

যত চাওয়া, ফিরে পাওয়া, সবই মিছে 

তবু চাই যে, মরে যাই যে, বারে বার |    


তবু চাই যে, মরে যাই যে, বারে বার ||


হায় সজনী, দিন রজনী, খুঁজে ফিরি    

তোমাকে তোমার ছায়া থেকে যতবার, 

হাতে হাত, সারা রাত, সেই ধারা বহে 

কারণে কভু অকারণে ভাসে প্রতিবার |  


তবু চাই যে, মরে যাই যে, বারে বার ||    


আবেশের মুঠো ভরা মোর ভালোবাসা,   

কবেই থমকে গেছে, দুয়ারে তোমার   

পড়ে থাকা স্মৃতি রাখা ছাইটুকু দিও শুধু,    

তোমা হতে চাইবার কিছু নাই আমার | 


তবু চাই যে, মরে যাই যে, বারে বার |  

তবু চাই যে, মরে যাই যে, বারে বার ||


সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

ছাই

ভালো লাগে কানায় লেগে থাকা লিপ্সার হলদেটে গন্ধ
উশখুশ লালসার চুঁইয়ে নামা নোনতা স্বাদ ভালো লাগে,
ভালো লাগে অসতর্ক মুহূর্তের রাঙতায় মোড়া নষ্টামী
জীর্ণ ত্বকে কস্তুরী, কামনায় পোড়া রাত ভালো লাগে |
বলিরেখা পিঠে বয়ে ফেরা অসহায়তা একপাশে রেখে
হামাগুড়ি দিয়ে মনের দিগন্তে পৌঁছে যাওয়া ভালো লাগে,
ভালো লাগে বিলি কাটা আরামের স্ফুলিঙ্গ চেখে দেখে
অগোছালো আঁচলের অহেতুক খসে পড়া ভালো লাগে |
শেকলের ফেলে যাওয়া উদাসীন রক্ত জমাট নিথর
অগোছালো বৃষ্টির জলে ধোওয়া অঙ্গীকার ভালো লাগে,
ভালো লাগে হাপুস কান্না ভেজা তারাদের আনাগোনা
গড়ার চাইতে, না জানি কেন আজ ভাঙতে ভালো লাগে |
পলকে বদলে, জানি থাকবে এক আকাশ শূন্যতা, তবু
তোমার উষ্ণ ঘ্রান বুকে ভরে মুহূর্তে বাঁচাটাই ভালো লাগে,
যতবার চোখ পড়ে ওই চোখে, অসাড় যন্ত্রনা সাঁতরে
প্রতিদিন তোমার আগুনে পুড়ে ছাই হতে ভালো লাগে |


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | রবিবার, ০৬ শ্রাবণ, 1430 (23.07.2023)  

ইচ্ছে পাড়ি

যাই বলো বাপু, পড়াশোনাটা বড্ডো ঝক্কির কাজ, 

কালকের চিতায় শুয়ে যেন আজকের আজ | 


বাপের বকুনি তাও সয়, রাঙাজেঠুটাও সেঁকে হাত

পরিবারের নাকি কুলাঙ্গার আমি, শোনায় দিনরাত |


তা বেশ, আমি না হয় ফালতু, আগাছা, জঞ্জাল,

বাকিরা সব মহারথী বুঝি ? নোবেলটারই আকাল ?


সে যাই হোক, কোনো মতে ঘষ্টেশিষ্টে চলি           

বুঝি অপদার্থ আমি, তাই অনেক ভেবেচিন্তে বলি  


লাগুক ভালো ছবির রং, কিম্বা বাঁশির সুর 

- ওসব এক্কেবারে চলবে না,

পারো-না-পারো বাপু, ভুলেও 

- 'পারবো না' কথাটি বলবে না |

 

বলদ-গলায় দড়ির শোভা, কিন্তু আমার গলায় টাই,   

নিজের জন্য বাঁচতে ভুলি, মন খারাপ প্রায়ই |


অসাড় মনের ঘুলঘুলিতে জমা খুচরো অভিমান,  

আমি কি চাই, জানে কি কেউ, কি চায় আমার প্রাণ ?   


তবুও মুখে রা কাটা নেই, নেই ক্ষণিক অবসর,     

শুধু সবার স্বপ্ন সাকার করার পরখ পরের পর | 


আরে বোকা, ডাক্তার নয় ইঞ্জিনিয়ার, কিছু একটা করো, 

বাঁশি বাজিয়ে, মূর্তি গড়ে, কেউ হয়েছে বড়ো ? 


বেশ, তাই হবে, কথা দিচ্ছি, লড়ে যাবো শেষে,   

নাক উঁচিয়েই থাকবে তোমরা, সমাবর্তনে এসে |


কিন্তু জানতে ইচ্ছে করে, ততদিন আমি বাঁচবো তো ?

ওরা কার্নিশ ধরে হাঁটতে বললে, আমি ঠিক পারবো তো ?

যৌনাঙ্গে ছেঁকার জ্বালা, অজানা সে যন্ত্রনা, 

বিষ্ঠা ঘষা মুখে, চোখের জল ধরে রাখতে পারবো তো ?


সে না হয় হলো, যদি আমার মা কে গাল পাড়ে ?

চোখের সামনে মিদনাপুরের রোগা ছেলেটাকে মারে ?

তখন যদি আমার পালাতে ইচ্ছে করে ?

সবার থেকে, এই পৃথিবী থেকে অনেকটা দূরে ?


তখন কি দেবে ছুটি, তোমরা আমায় ? একটু অবসর ?

না না, এখানে নয়, অন্য কোথাও হবে আমার ঘর |

© ভাস্কর ভট্টাচার্য | রবিবার, ০২ ভাদ্র, ১৪৩০ 

20th August 2023, কলকাতা |


রবিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৩

অনু কবিতা - সংকলন ৭

ঘরে তো সকলকেই ফিরতে হয়

চিরায়ত সত্য বই আর কিছু নয়,

তবু আসা যাওয়ার মাঝে এই খেলা

কেউ বলে মায়া, কেউ বলে মেলা,

সময় ফুরোলে ধুলায় যাবো মিশে

যন্ত্রনা নির্মূল, হবে বিষক্ষয় বিষে |




© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ২৩.০৪.২০২৩

মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর, ২০২২

আস্তর

 কোনো কোনো নিষ্প্রাণ অসহায় রাতে, 

শূন্যতা ফুঁড়ে উঠে আসা আকুতিরা যখন 

শিরদাঁড়া বেয়ে ওঠা-নামার ক্লান্তি ভুলে, 

পাঁজরের এক কোনে জমে থাকা 

মরচে পড়া বিষন্নতা খুঁটে খুচরো যন্ত্রণার মালা গাঁথে, 

নিষ্প্রাণ স্থবির মন রাতের অগোচরে তখন 

তোমার চিহ্ন কুড়োয় আলগোছে, 

আলুথালু তোষকের ছিন্নভিন্ন কার্পাসে |   


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ৩১.১০.২০২২