adhunik bangla kobita লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
adhunik bangla kobita লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

|| প্রারব্ধ ||

আমার বয়স হয় না, হয় খোলসটার,

হিয়ার মধ্যে, বুকের ঠিক এই মাঝখানটাতে  

হলুদ পাখিরা পাখা ঝাপটায় আজও। 


আমার বুদ্ধি বাড়ে না, বাড়ে বলিরেখাগুলো, 

মাথার মধ্যে, ঝিকুটের যাবতীয় দেহকোষ জুড়ে  

নদীর অবিরাম ছলাৎ ছলাৎ শুনি আজও।


আসে পাশে মানুষরা বাড়ে বহরে, বাড়ে বিত্তে, 

আমি বাড়ি না, ভাবি বাড়বই বা কোন সুখে

চারপাশে যন্ত্রণা, এত দুঃখ, আমি বাড়ি কোন মুখে। 


আমার ধৈর্য বাড়ে না, বাড়ে অসুখ,

আমার শৌর্য বাড়ে না, জানুসন্ধির ব্যথাটা     

কিলবিল, স্নায়ুপথ বেয়ে বিস্মৃতির দিগন্তে বিচরণ।


আমার বোধ বাড়ে না, বাড়ে পায়ের ফাটল 

গালে রং মাখি, কখনো ঢং মাখি, ফাঁদ পেতে 

পানকৌড়ির মতো বসে থাকা, অহেতুক।    


হাতে সময় অঢেল, তবু সুযোগ বাড়ে না,

চাঁদমারি তাক করে বসে থাকি, কাঁপা হাত    

নিরুপায়, বিদ্রুপ মাখা শরীরে স্নানঘর আশ্রয়। 


আজকাল আর ব্যথা লাগেনা, লাগে ঘুম

ঘুম, নিঝুম রাত কাটেনা, ভোর ভোর 

বিছানা হাতড়িয়ে খুঁজে ফিরি সেই দোলনাটা।


অথচ, আমার বয়স বাড়ে না, বাড়ে খোলসটার,

হিয়ার মধ্যে, বুকের ঠিক এই মাঝখানটাতে  

হলুদ পাখিরা পাখা ঝাপটায় আজও। 

       


- ভাস্কর ভট্টাচার্য্য 

রবিবার, ২৫শে মাঘ, ১৪৩২

Sunday, 8th February, 2026

সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬

ফুটনোট

যেদিন আলাদা হলাম —

কোনো দরজা ভাঙেনি,
শুধু জানালার কাচে জমে
কুয়াশায় ভেজা আকাশ।
যেদিন তুমি চলে গেলে —
একটা বিকেলের মতো,
আলো ছিল, তার চেয়ে
ছায়া ছিল বেশি।
শহরের রাস্তা তখনও
নিজের কাজে ব্যস্ত —
বাস থামছে, চা ফুটছে,
একটা অলস কুকুর ঘুমোচ্ছে
ফুটপাথের ইতিহাসে।
আমাদের আলাদা হওয়া
নজরে আসে না কারো।
তোমার কণ্ঠস্বর
এখনো আছে আমার ভেতর —
ভাঙা থার্মোসের মতো,
গরম নেই,
কিন্তু হাত রাখলে
পুরনো উষ্ণতা মনে পড়ে।
ভালোবাসা কি শেষ হয়?
নাকি সে শুধু
ঠিকানা বদলায় —
একটা বুক থেকে
আরেকটা নিঃশ্বাসে?
রাতে আমি বাতি নিভিয়ে রাখি,
অন্ধকারটা পরিষ্কার লাগে।
তুমি হয়তো এখন
অন্য ঘরে আলো জ্বালাও,
সেই আলোয়
আমার নাম নেই।
আমরা দু’জনেই
নিজ নিজ জীবনে
বেঁচে থাকার চেষ্টায় বাঁচি —
কিন্তু মাঝখানে, শুষ্ক
নদীটার বহমান শূন্যতায়,
সাঁতার কাজে আসে না, শুধু
দুই পাড়ে স্তূপাকার বিরহের দীর্ঘশ্বাস।
তোমার অনুপস্থিতি
এখন আর কান্না নয় —
একটা অভ্যাস,
যেমন সকালে খবরের কাগজ
চা ছাড়াও পড়া যায়,
কিন্তু ঠিক জমে ওঠে না।
কখনো কখনো মনে হয়
তুমি আসবে —
ঠিক যেমন মনে হয়
শীত আবার ফিরবে।
জানি, আসবে না।
তবু শরীর
এক-আধখানা গরম কাপড় খোঁজে।
এভাবেই আলাদা থাকা —
উপন্যাস নয়,
একটা ধীর বাক্য,
যার শেষে অদৃশ্য দাঁড়ি থাকলেও
অর্থ এখনো
সম্পূর্ণ রূপ পায়নি, হয়তো।


- ভাস্কর ভট্টাচার্য্য
শুক্রবার, ২৫শে পৌষ, ১৪৩২

মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫

অনু কবিতা - অক্টোবর ২০২৫

দলছুট, প্রায় দিশেহারা তথাপি স্ফুরিত, 
সদা অমলিন তুমি, ফুল ফুটিয়েছো  
নিরুদ এই ঊষর জমিতে নিজ গুনে;
অর্ধ শতাব্দীর উপবাস, দীর্ঘ অপেক্ষার শেষে,    
ফুসফুস ভরি তোমার সুবাসে লালিত 
নীরব সমর্পণে, তোমার অসীম ভালোবাসায়;  
পাওয়া না পাওয়ার বিষন্ন মহাশূন্য পেরিয়ে
নিত্য যা কিছু, ধরা থাক স্মিত তোমার প্রতিবিম্বে। 


==================================


স্মৃতির তো কোনো অবয়ব হয় না
পড়ে তাই তার কোনো ছায়াও রয় না।
তবে ধাওয়া করে কেন ফেরা?
মাঝ রাতে বোবা কান্নায় ঘেরা?
যা কিছু গিয়েছে সরে, বহু দূরে
যে বাঁশি আজ আর বাজে না সুরে,
কি পায় মন অহেতুক হাতড়িয়ে?
সময়ের প্রতিমুখে অযথা সাঁতরিয়ে?
মুঠো খুলে সেই কবে খসেছে যা কিছু,
সময়ের ঝঞ্ঝায় ছাড়ে জেদ যত পিছু,
অশরীরী স্মৃতি রেখে কাল কুঠুরিতে,
মাতো আগামীর রচনায় নব পরিধিতে।
- ভাস্কর ভট্টাচার্য্য
সোমবার, ৪ঠা কার্তিক ১৪৩২


==================================


ঐ চোখ দুটো যেন নীলাভ-সবুজ ঝর্ণাধারার নিস্তব্ধ জল —
গভীর অথচ প্রাণবন্ত, শান্ত অথচ আহ্বানময়।
দৃষ্টির সেই গভীরে যেন লুকিয়ে থাকে
হরিণীর মতো নিষ্পাপ এক বিস্ময়,
ভর করে থাকে অনুরাগের মৃদু অচেনা কম্পন।
চোখ দুটোতে আলো পড়লে, কখনো
তা হারিয়ে যায় সমুদ্রের নীলে, বা কখনো
শিশিরস্নাত সবুজের মতো ঝিকমিক করে ওঠে।
কেবল দেখার জন্য নয়, সেই চোখ
ধরে রাখার, অনুভবে, আবেগের অনুরণনে
মনের গোপন কোণে
যেন অদৃশ্য কোনো টানে
ভিতরভাগের নীরব কষ্ট, কোমল আকুলতা আর আবেশ
ডেকে নিয়ে যায় নীরবে, অদ্ভুত এক কোমল অচেনায়।
খুঁজি অযথাই, সেই দৃষ্টিতে লেখা নেই তেমন কিছুই —
না অভিমান, না আড়াল বা বাসনার অভিসার
শুধু অলক্ষ্যে প্রবাহিত হতে থাকা এক নীরব মায়া।
যেন বারে বারে বলে,
“দু দণ্ড সময় করে চেয়ে দ্যাখো না —
এই চোখে বন্দি হয়ে থাকা এক অনন্ত অপেক্ষা,
সহস্র শতাব্দীর শুন্যতা, অন্তহীন এক নির্বাক ডাক —
মোহনার খোঁজে না হয় হারালাম দুজন”
- ভাস্কর ভট্টাচার্য্য
বৃহস্পতিবার, ১৭ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২

সোমবার, ১৬ জুন, ২০২৫

আহ্লাদ

আমার একটা পাহাড় কেনার খুব শখ, 
সেই কবে থেকেই; একবার 
আমার ভয়ঙ্কর আবদার, ছেলেবেলায়    
কি জানি কি ভেবে, ছোটকাকা 
মুচকি হেঁসে, গাল টিপে দিয়ে বললে, বেশ !  
সে না হয় হবে খন, কিন্তু   
অত বড় পাহাড়টাকে রাখবি কোথায়? 
বললাম, কেন, কয়লা-ভাঙা ঘরের কোণে?
ঝাঁট দিয়ে, বিচুলি পেতে, ঠিক সাজিয়ে নেবো   
পাহাড় ময়লা হবে না, কথা দিচ্ছি।  

আচ্ছা শুনি, তোর কেমন পাহাড় চাই,  
প্রশ্রয়ে যার পর নাই খুশি, বললাম  
আমি বিড়াল ভয় পাই, আমার 
পাহাড়ে যেন বিড়াল না থাকে একটাও; 
বাঘ থাকুক, সাথে উঠোনের চড়ুইগুলোও। 
দিদুন বলে পাহাড়ের গায়ে নাকি শ্যাওলা ধরে 
আমাদের কলতলার ভিজে শ্যাওলার মতো,
তুলতুলে, কালচে সবুজ শ্যাওলা আমার খুব প্রিয়;
নারকেল মালা ঘষে যখন শ্যাওলা ওঠায় জ্যেঠি,    
খুব কষ্ট হয়, আমার টিনের বাক্সে  
কাঁচিয়ে-বাঁচিয়ে শ্যাওলা রাখি খানিক। 
শ্যাওলা মোড়া পাহাড়ী ঝর্ণায়, আমার স্নান 
যখন খুশি, বাবার চোখ রাঙানি         
নেই, 'কি রে আর কতক্ষন জল ঘাটবি'?
পুবের বাগানটার মতো গিজগিজ, সবুজ 
পাহাড়ের কোলে কানামাছি, ভোঁ ভোঁ।  
রাতে নাকি চাঁদ নামে পাহাড়ে, সাথে 
বেমানান কালো দাগগুলো, আমার মায়ের   
গায়েও দেখেছি ওরকম দাগ, চুপচাপ।

আমার পাহাড় হবে সুন্দরী, ছোটোপিসির চাইতেও,   
ইয়া বড় সূর্যের টিপ আর মেঘের নোলক পরে     
আমাকে কোলে নেবে ছোটোপিসির মতো, আমি 
পাহাড়ের গা ঘেঁষে উড়বো, ডানা ঝাপটিয়ে।     
ছেলেরা নাকি পুতুল খেলেনা, সাজিয়ে রাখবো   
রান্না বাটি, কাপড় চোপড়, পুতুলের ঘর, মন চাইলেই  
ঝুলন সাজাবো পাহাড়ের কোনো খাঁজে। 
কাঁড়ি কাঁড়ি বই থাকবে না, কঠিন প্রশ্ন, বেতের ভয়, 
আমি পাহাড়ের গায়ের রোদ্দুর হবো। 
আমার পাহাড় হেডস্যারের মত রুক্ষ হবে না, 
পছন্দের সব ফুল গাছ সাজিয়ে, খুনসুটি দিনভর, 
ফড়িং-মৌমাছিদের সাথে ছোঁয়াছুঁয়ি খেলা, সন্ধ্যে        
নামতেই, সিঁদুর ল্যাপা মায়ের কপালের মতো আকাশ, 
কিন্তু হটাৎ পেটে ব্যাথা হলে? তখন মা'কে কোথায় পাই ?  
পাহাড়ে আমার একটা ফুচকাওয়ালা চাই, ঝর্ণার জলে  
তেঁতুল গুলে, একটার বদলে ফাউ দেবে দুটো। 
নক্ষত্রের চাঁদোয়া টাঙানো খোলা আকাশ, গুনে গুনে     
একশো তারা শেষে, কপালে ঠান্ডা হাওয়ার হাত,
যেন মায়ের কোলের নিশ্চিন্তি, স্বপ্ন দেখবো সারা রাত।         

ছেলেবেলায় পাহাড় দেখা হয়নি, বড়বেলার    
পাহাড়গুলো ঠিক আমার পাহাড় নয়, 
প্রতিবার ইতি উতি, হন্যে হয়ে খুঁজি, ছেলেবেলার  
আমার সেই পাহাড়; জানি খুঁজে আমি পাবই, তাই         
বেঁচে থাকুক আমার একটা পাহাড় কেনার শখ।

© ভাস্কর ভট্টাচার্য্য  
শনিবার, ২৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩২

সোমবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৪

মরে যাই

 যে খেলায় হেরেছি হেলায়, সময় ভেলায়  

ভেসেছি অজানা সুখের খোঁজে কত বার

যত চাওয়া, ফিরে পাওয়া, সবই মিছে 

তবু চাই যে, মরে যাই যে, বারে বার |    


তবু চাই যে, মরে যাই যে, বারে বার ||


হায় সজনী, দিন রজনী, খুঁজে ফিরি    

তোমাকে তোমার ছায়া থেকে যতবার, 

হাতে হাত, সারা রাত, সেই ধারা বহে 

কারণে কভু অকারণে ভাসে প্রতিবার |  


তবু চাই যে, মরে যাই যে, বারে বার ||    


আবেশের মুঠো ভরা মোর ভালোবাসা,   

কবেই থমকে গেছে, দুয়ারে তোমার   

পড়ে থাকা স্মৃতি রাখা ছাইটুকু দিও শুধু,    

তোমা হতে চাইবার কিছু নাই আমার | 


তবু চাই যে, মরে যাই যে, বারে বার |  

তবু চাই যে, মরে যাই যে, বারে বার ||


মঙ্গলবার, ৯ মে, ২০২৩

শুভকামনা

 কখনো অন্যমনে, নির্লিপ্ত অনু ক্ষণে

অবসন্ন অবেলায়, উপেক্ষিত হৃদি কোণে       

হটাৎ মুচড়ে ওঠা স্মৃতির উত্তাল ভিড়ে    

এক খন্ড ছবি যেন ভাসে আনমনে |

বুদ্বুদের মতো টুকরো অতীত, কিছু 

ভারহীন ভাবনারা জড়ো হয় প্রাণে 

যা কিছু ভুল, অযতনে ঝরে যাওয়া ফুল   

একাকী মন ভেজে স্যাঁতসেতে অভিমানে |

তবু, ভাঙা কত জানালার ফাঁক ঢাকা, 

বলিরেখা বরাবর বিবর্ণ হাসি আঁকা,

ভালোবাসা আবছায়া, জড়ো হয়ে দোরে     

বলে যায় নিশিদিন, শুভ হউক প্রতি ক্ষণে |   



© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ০৮.০৫.২০২৩