bengali poem লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
bengali poem লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬

জমাখরচ

 সেদিন হঠাৎ মনে করালে আমায় ভালোবেসেছো কতটা,

হাতে হাত রেখে সুদীর্ঘ্য ছায়াপথ বরাবর হেঁটেছো যতটা,
ফুলের তোড়া দিয়েছো কটা, সাথে অগুনতি নীলাকাশ,
দিয়েছো গোলাপের কাটায় গাঁথা আবেগ, যত অবকাশ।
যাবতীয় উপহার, সাথে পেঁজা পেঁজা আবেশ অনুরত,
চোখের জল, ঠোঁটের হাসি, হাজার একটা কল্যাণ ব্রত।
কাটিয়েছো কটা অতন্দ্র রাত, অপরিণত স্বপ্নের রেশে,
হিসেবের জমা খাতা জুড়ে লেখাজোখা একপেশে।
বুঝলাম সেদিন বোঝাতে চেয়েছো আমায় ভালোবাসো কতটা,
আকাশের অসীমে বা সমুদ্রের অতলে অজানা সম্পদ যতটা।
কিন্তু কি জানো, মনে হয় তুমি আর আমায় ভালোবাসো না,
হিসেবের খাতা ফেলে সেই আগের মতো কাছে আসো না।
ভালোবাসা ফুরোলেই ঠেলে ওঠে হিসেবের বুদ্বুদ, নিরর্থক দাবি,
ভালোবাসা তো অন্ধ, বধীর; ভালোবাসা উন্মাদ, বেহিসাবি।
বুঝে গেছি, সেই আগের মতো তুমি আর ভালোবাসো না,
হিসেবের খাতা ফেলে আগের মতো আর কাছে আসো না।
- ভাস্কর ভট্টাচার্য্য
মঙ্গলবার, ১৮ ফাল্গুন, ১৪৩২

রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

|| প্রারব্ধ ||

আমার বয়স হয় না, হয় খোলসটার,

হিয়ার মধ্যে, বুকের ঠিক এই মাঝখানটাতে  

হলুদ পাখিরা পাখা ঝাপটায় আজও। 


আমার বুদ্ধি বাড়ে না, বাড়ে বলিরেখাগুলো, 

মাথার মধ্যে, ঝিকুটের যাবতীয় দেহকোষ জুড়ে  

নদীর অবিরাম ছলাৎ ছলাৎ শুনি আজও।


আসে পাশে মানুষরা বাড়ে বহরে, বাড়ে বিত্তে, 

আমি বাড়ি না, ভাবি বাড়বই বা কোন সুখে

চারপাশে যন্ত্রণা, এত দুঃখ, আমি বাড়ি কোন মুখে। 


আমার ধৈর্য বাড়ে না, বাড়ে অসুখ,

আমার শৌর্য বাড়ে না, জানুসন্ধির ব্যথাটা     

কিলবিল, স্নায়ুপথ বেয়ে বিস্মৃতির দিগন্তে বিচরণ।


আমার বোধ বাড়ে না, বাড়ে পায়ের ফাটল 

গালে রং মাখি, কখনো ঢং মাখি, ফাঁদ পেতে 

পানকৌড়ির মতো বসে থাকা, অহেতুক।    


হাতে সময় অঢেল, তবু সুযোগ বাড়ে না,

চাঁদমারি তাক করে বসে থাকি, কাঁপা হাত    

নিরুপায়, বিদ্রুপ মাখা শরীরে স্নানঘর আশ্রয়। 


আজকাল আর ব্যথা লাগেনা, লাগে ঘুম

ঘুম, নিঝুম রাত কাটেনা, ভোর ভোর 

বিছানা হাতড়িয়ে খুঁজে ফিরি সেই দোলনাটা।


অথচ, আমার বয়স বাড়ে না, বাড়ে খোলসটার,

হিয়ার মধ্যে, বুকের ঠিক এই মাঝখানটাতে  

হলুদ পাখিরা পাখা ঝাপটায় আজও। 

       


- ভাস্কর ভট্টাচার্য্য 

রবিবার, ২৫শে মাঘ, ১৪৩২

Sunday, 8th February, 2026

সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬

ফুটনোট

যেদিন আলাদা হলাম —

কোনো দরজা ভাঙেনি,
শুধু জানালার কাচে জমে
কুয়াশায় ভেজা আকাশ।
যেদিন তুমি চলে গেলে —
একটা বিকেলের মতো,
আলো ছিল, তার চেয়ে
ছায়া ছিল বেশি।
শহরের রাস্তা তখনও
নিজের কাজে ব্যস্ত —
বাস থামছে, চা ফুটছে,
একটা অলস কুকুর ঘুমোচ্ছে
ফুটপাথের ইতিহাসে।
আমাদের আলাদা হওয়া
নজরে আসে না কারো।
তোমার কণ্ঠস্বর
এখনো আছে আমার ভেতর —
ভাঙা থার্মোসের মতো,
গরম নেই,
কিন্তু হাত রাখলে
পুরনো উষ্ণতা মনে পড়ে।
ভালোবাসা কি শেষ হয়?
নাকি সে শুধু
ঠিকানা বদলায় —
একটা বুক থেকে
আরেকটা নিঃশ্বাসে?
রাতে আমি বাতি নিভিয়ে রাখি,
অন্ধকারটা পরিষ্কার লাগে।
তুমি হয়তো এখন
অন্য ঘরে আলো জ্বালাও,
সেই আলোয়
আমার নাম নেই।
আমরা দু’জনেই
নিজ নিজ জীবনে
বেঁচে থাকার চেষ্টায় বাঁচি —
কিন্তু মাঝখানে, শুষ্ক
নদীটার বহমান শূন্যতায়,
সাঁতার কাজে আসে না, শুধু
দুই পাড়ে স্তূপাকার বিরহের দীর্ঘশ্বাস।
তোমার অনুপস্থিতি
এখন আর কান্না নয় —
একটা অভ্যাস,
যেমন সকালে খবরের কাগজ
চা ছাড়াও পড়া যায়,
কিন্তু ঠিক জমে ওঠে না।
কখনো কখনো মনে হয়
তুমি আসবে —
ঠিক যেমন মনে হয়
শীত আবার ফিরবে।
জানি, আসবে না।
তবু শরীর
এক-আধখানা গরম কাপড় খোঁজে।
এভাবেই আলাদা থাকা —
উপন্যাস নয়,
একটা ধীর বাক্য,
যার শেষে অদৃশ্য দাঁড়ি থাকলেও
অর্থ এখনো
সম্পূর্ণ রূপ পায়নি, হয়তো।


- ভাস্কর ভট্টাচার্য্য
শুক্রবার, ২৫শে পৌষ, ১৪৩২

মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫

অনু কবিতা - অক্টোবর ২০২৫

দলছুট, প্রায় দিশেহারা তথাপি স্ফুরিত, 
সদা অমলিন তুমি, ফুল ফুটিয়েছো  
নিরুদ এই ঊষর জমিতে নিজ গুনে;
অর্ধ শতাব্দীর উপবাস, দীর্ঘ অপেক্ষার শেষে,    
ফুসফুস ভরি তোমার সুবাসে লালিত 
নীরব সমর্পণে, তোমার অসীম ভালোবাসায়;  
পাওয়া না পাওয়ার বিষন্ন মহাশূন্য পেরিয়ে
নিত্য যা কিছু, ধরা থাক স্মিত তোমার প্রতিবিম্বে। 


==================================


স্মৃতির তো কোনো অবয়ব হয় না
পড়ে তাই তার কোনো ছায়াও রয় না।
তবে ধাওয়া করে কেন ফেরা?
মাঝ রাতে বোবা কান্নায় ঘেরা?
যা কিছু গিয়েছে সরে, বহু দূরে
যে বাঁশি আজ আর বাজে না সুরে,
কি পায় মন অহেতুক হাতড়িয়ে?
সময়ের প্রতিমুখে অযথা সাঁতরিয়ে?
মুঠো খুলে সেই কবে খসেছে যা কিছু,
সময়ের ঝঞ্ঝায় ছাড়ে জেদ যত পিছু,
অশরীরী স্মৃতি রেখে কাল কুঠুরিতে,
মাতো আগামীর রচনায় নব পরিধিতে।
- ভাস্কর ভট্টাচার্য্য
সোমবার, ৪ঠা কার্তিক ১৪৩২


==================================


ঐ চোখ দুটো যেন নীলাভ-সবুজ ঝর্ণাধারার নিস্তব্ধ জল —
গভীর অথচ প্রাণবন্ত, শান্ত অথচ আহ্বানময়।
দৃষ্টির সেই গভীরে যেন লুকিয়ে থাকে
হরিণীর মতো নিষ্পাপ এক বিস্ময়,
ভর করে থাকে অনুরাগের মৃদু অচেনা কম্পন।
চোখ দুটোতে আলো পড়লে, কখনো
তা হারিয়ে যায় সমুদ্রের নীলে, বা কখনো
শিশিরস্নাত সবুজের মতো ঝিকমিক করে ওঠে।
কেবল দেখার জন্য নয়, সেই চোখ
ধরে রাখার, অনুভবে, আবেগের অনুরণনে
মনের গোপন কোণে
যেন অদৃশ্য কোনো টানে
ভিতরভাগের নীরব কষ্ট, কোমল আকুলতা আর আবেশ
ডেকে নিয়ে যায় নীরবে, অদ্ভুত এক কোমল অচেনায়।
খুঁজি অযথাই, সেই দৃষ্টিতে লেখা নেই তেমন কিছুই —
না অভিমান, না আড়াল বা বাসনার অভিসার
শুধু অলক্ষ্যে প্রবাহিত হতে থাকা এক নীরব মায়া।
যেন বারে বারে বলে,
“দু দণ্ড সময় করে চেয়ে দ্যাখো না —
এই চোখে বন্দি হয়ে থাকা এক অনন্ত অপেক্ষা,
সহস্র শতাব্দীর শুন্যতা, অন্তহীন এক নির্বাক ডাক —
মোহনার খোঁজে না হয় হারালাম দুজন”
- ভাস্কর ভট্টাচার্য্য
বৃহস্পতিবার, ১৭ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২

সোমবার, ১৬ জুন, ২০২৫

আহ্লাদ

আমার একটা পাহাড় কেনার খুব শখ, 
সেই কবে থেকেই; একবার 
আমার ভয়ঙ্কর আবদার, ছেলেবেলায়    
কি জানি কি ভেবে, ছোটকাকা 
মুচকি হেঁসে, গাল টিপে দিয়ে বললে, বেশ !  
সে না হয় হবে খন, কিন্তু   
অত বড় পাহাড়টাকে রাখবি কোথায়? 
বললাম, কেন, কয়লা-ভাঙা ঘরের কোণে?
ঝাঁট দিয়ে, বিচুলি পেতে, ঠিক সাজিয়ে নেবো   
পাহাড় ময়লা হবে না, কথা দিচ্ছি।  

আচ্ছা শুনি, তোর কেমন পাহাড় চাই,  
প্রশ্রয়ে যার পর নাই খুশি, বললাম  
আমি বিড়াল ভয় পাই, আমার 
পাহাড়ে যেন বিড়াল না থাকে একটাও; 
বাঘ থাকুক, সাথে উঠোনের চড়ুইগুলোও। 
দিদুন বলে পাহাড়ের গায়ে নাকি শ্যাওলা ধরে 
আমাদের কলতলার ভিজে শ্যাওলার মতো,
তুলতুলে, কালচে সবুজ শ্যাওলা আমার খুব প্রিয়;
নারকেল মালা ঘষে যখন শ্যাওলা ওঠায় জ্যেঠি,    
খুব কষ্ট হয়, আমার টিনের বাক্সে  
কাঁচিয়ে-বাঁচিয়ে শ্যাওলা রাখি খানিক। 
শ্যাওলা মোড়া পাহাড়ী ঝর্ণায়, আমার স্নান 
যখন খুশি, বাবার চোখ রাঙানি         
নেই, 'কি রে আর কতক্ষন জল ঘাটবি'?
পুবের বাগানটার মতো গিজগিজ, সবুজ 
পাহাড়ের কোলে কানামাছি, ভোঁ ভোঁ।  
রাতে নাকি চাঁদ নামে পাহাড়ে, সাথে 
বেমানান কালো দাগগুলো, আমার মায়ের   
গায়েও দেখেছি ওরকম দাগ, চুপচাপ।

আমার পাহাড় হবে সুন্দরী, ছোটোপিসির চাইতেও,   
ইয়া বড় সূর্যের টিপ আর মেঘের নোলক পরে     
আমাকে কোলে নেবে ছোটোপিসির মতো, আমি 
পাহাড়ের গা ঘেঁষে উড়বো, ডানা ঝাপটিয়ে।     
ছেলেরা নাকি পুতুল খেলেনা, সাজিয়ে রাখবো   
রান্না বাটি, কাপড় চোপড়, পুতুলের ঘর, মন চাইলেই  
ঝুলন সাজাবো পাহাড়ের কোনো খাঁজে। 
কাঁড়ি কাঁড়ি বই থাকবে না, কঠিন প্রশ্ন, বেতের ভয়, 
আমি পাহাড়ের গায়ের রোদ্দুর হবো। 
আমার পাহাড় হেডস্যারের মত রুক্ষ হবে না, 
পছন্দের সব ফুল গাছ সাজিয়ে, খুনসুটি দিনভর, 
ফড়িং-মৌমাছিদের সাথে ছোঁয়াছুঁয়ি খেলা, সন্ধ্যে        
নামতেই, সিঁদুর ল্যাপা মায়ের কপালের মতো আকাশ, 
কিন্তু হটাৎ পেটে ব্যাথা হলে? তখন মা'কে কোথায় পাই ?  
পাহাড়ে আমার একটা ফুচকাওয়ালা চাই, ঝর্ণার জলে  
তেঁতুল গুলে, একটার বদলে ফাউ দেবে দুটো। 
নক্ষত্রের চাঁদোয়া টাঙানো খোলা আকাশ, গুনে গুনে     
একশো তারা শেষে, কপালে ঠান্ডা হাওয়ার হাত,
যেন মায়ের কোলের নিশ্চিন্তি, স্বপ্ন দেখবো সারা রাত।         

ছেলেবেলায় পাহাড় দেখা হয়নি, বড়বেলার    
পাহাড়গুলো ঠিক আমার পাহাড় নয়, 
প্রতিবার ইতি উতি, হন্যে হয়ে খুঁজি, ছেলেবেলার  
আমার সেই পাহাড়; জানি খুঁজে আমি পাবই, তাই         
বেঁচে থাকুক আমার একটা পাহাড় কেনার শখ।

© ভাস্কর ভট্টাচার্য্য  
শনিবার, ২৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩২

শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

অনু কবিতা সংকলন ৮

 যন্ত্রণাকে কবচ করতে শিখিয়েছিলে তুমিই 

দিব্যি দিচ্ছি, চিরঋণী আমি তোমার  

সেই কবেই, আমায় তুমি যত্ন করে না ভাঙলে 

হয়তো বা টুকরো হতাম বার হাজার |   



--------------------------------------------------------------


যন্ত্রণাকে কবচ করতে শিখিয়েছিলে তুমিই 

দিব্যি দিচ্ছি, চিরঋণী আমি তোমার  

সেই কবেই, আমায় তুমি যত্ন করে না ভাঙলে 

হয়তো বা টুকরো হতাম হাজার বার |   


--------------------------------------------------------------

স্থবির, রুক্ষ বৃক্ষশাখার আনাচে কানাচে, সন্তর্পনে  

কখনো শতাব্দী দীর্ঘ নির্মম ইতিহাসে দগ্ধ ইঁটের খাঁজে, 

প্রতি রাত খুঁজে ফেরে তোমারই অশ্রু স্ফুলিঙ্গ |


--------------------------------------------------------------


বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৩

অঙ্গীকার

সেবার সেই যে তুমি কথা দিয়েছিলে পাশে থাকবে   

বহু ব্যবহারে বিবর্ণ ক্যানভাসেও এক সাথে ছবি আঁকবে |  

সকালের চা শেষে, দুজনে দুজনের বলিরেখা গুনবো  

কান পেতে আমাদের পুরোনো ঘড়িটার টিক টিক শুনবো | 


আর একবার পাশবালিশের গন্ডি পেরোনোর দুষ্কর চেষ্টায়,   

কখনো বা অশক্ত আঙুলের শিরাগুলো ছুঁয়ে দেখার শেষটায়,   

টান টান চামড়ার দাপাদাপি শেষে পড়ে থাকা যেটুকু,    

অতি সযত্নে আগলে রাখা একরাশ আস্থা বুকে সেটুকু, 

ঘষা কাঁচে ধুলো মতো জমা যত মলিন স্বপ্ন আর কিছু হাসি, 

দেয়ালের কোন ঘেঁষে পড়ে থাকা অকেজো তুরুপের রাশি, 

কেন গেলোনা তবে শেষ পর্যন্ত ভাগের কষ্ট একসাথে সওয়া ?    

অগুনতি পিঙ্গল ঋতুচক্র শেষে একসাথে পরিণত হওয়া ? 


তুমি সেদিন বড়ো মুখ করে কথা দিয়েছিলে পাশে থাকবে,  

মনে আছে বলেছিলে ধূসর ক্যানভাসেও রঙিন ছবি আঁকবে |  



© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ০৭.১২.২০২২

বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২২

নিছক প্রত্যয়ী

কুয়াশার ঠিক ওপারেই আছো 

ফজরের আজানের সূচনায় তুমি,   

বসন্তের আশু সবুজে আছো 

ঝঞ্ঝা শেষের শান্ত প্রকৃতি তুমি |  

নিকষ ক্লান্তির অবসানে আছো 

কৈশোরের নাছোড় আবদারে তুমি, 

সগর্ভার যন্ত্রনার উপশমে আছো   

নবজাত প্রাণের উন্মেষে তুমি |

আছো মেঘের ক্ষীণ রুপালি রেখায়  

ভীষণ মহামারীর প্রতিষেধকে তুমি, 

ঘন আঁধার জ্বলে তোমার শিখায়  

ভাঙা প্রত্যাশে নব সঞ্জীবন তুমি |  

অনিমেশ আমি নিমেষের খোঁজে 

                                 গভীর আবেশে সিক্ত, 

মুঠো আমার চির মুক্ত জেনো, বারেবার 

                                   করো আমায় রিক্ত | 



© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ১৬.১১.২০২২

রবিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২২

অনু কবিতা - সংকলন ৩

|| প্রতীক্ষা || 


রামধনুর নোলক পরে, সেই যে মেঘের ওড়না জড়ালে, তারপর 

অগুনতি নিঃসঙ্গ নিশুতি পেরিয়ে বিষণ্ণ দরবারী কানাড়া

যখন সারেঙ্গীর তার ছুঁয়ে শেষ রাতে ললিতের সন্ধানে বেরোতো    

বার বার, কতবার তারাদের ভিড়ে তন্ন তন্ন খুঁজেছি তোমায় |

যদি একবার অগোচরে খসে পড়ে অভিমানের ওড়না, ভোর রাতে 

ঘুম ভেঙে চাঁদের আলোয় যদি করি স্নান, আলোর চন্দনে 

সেজে ওঠা তোমার মুখ কাছ থেকে দেখবো একবার, প্রতিবার 

তুমি দেবে অঞ্জলি, আমি শুধু দেখবো তোমায়, ফিরে এসো একবার |      

        

© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ৩০.০৯.২০২২

   

  


|| আমার শহর, তোমার শহর ||

            

আমার শহর, তোমার শহর, প্রাণের শহর, একলা শহর,

আলোর শহর, অবাক শহর, বেবাক শহর, একলা শহর,

গানের শহর, টানের শহর, মানের শহর, একলা শহর, 

রবির শহর, রাতের শহর, তারার শহর, একলার শহর, 

পুজোর শহর, প্রেমের শহর, ক্ষোভের শহর, এই শহর,

আমার শহর, তোমার শহর, প্রাণের শহর, একলা শহর |


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ৩০.০৯.২০২২

সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২

অনু কবিতা - সংকলন ২

 সাহস লাগে এক আকাশ লক্ষ তারা গুনতে ,

স্পর্ধা লাগে অন্ধকারে আলোর মালা বুনতে | 

সাহস বিনে কিসের জোরে ঝড়ের সাথে লড়াই ?  

স্পর্ধা বিনে কোন সাহসে ভালোবাসার বড়াই ?


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ২১.০৯.২০২২


===============================================================


বদনাম তো সেদিনই হয়েছিলাম, প্রিয়  

তোমার উঠোনে যেদিন পা রেখেছিলাম,

কখনো তোমাতে, কখনো তোমার ছায়ায় 

বেঁচে থাকার খোরাক খুঁজেছিলাম |

ওপথ সরল নয়, সুদীর্ঘ, তা কি মানিনে ?

সমান্তরালের নৈরাশা, তা কি জানিনে ?

নৈরাশ্যের পথ্য একটাই, কেবল আশা 

ভালোবাসার অজুহাত, শুধুই ভালোবাসা 

বদনাম তো সেদিনই হয়েছিলাম, তোমার 

বুকে যেদিন এক ফালি জমি খুঁজেছিলাম | 


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ২৬.০৯.২০২২

বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২

জন্ম চিহ্ন

শেষ যেবার রাত ভোর বিবস্ত্র করে 

জন্ম চিহ্ন খোঁজার চেষ্টা করেছিলে, 

প্রতিবাদ করতেই, মানুষ চেনার

এটাই নাকি সাচ্চা উপায়, বলেছিলে |


অন্ধকারের আলোয়, থুতনির খাঁজে 

বাদামি তিলটাকে দেখে বলেছিলে,

অনুরত পুরুষের অমন তিল অশালীন 

নির্ঘাত বেহায়া চরিত্রহীন ভেবেছিলে |    


আমি যে তোমার যোগ্য, প্রমান হোক  

হয়ত তাই মনে মনে চেয়েছিলে,        

তাই বোধ হয় রাত ভোর বিবস্ত্র করে 

জন্ম চিহ্ন খোঁজার চেষ্টা করেছিলে |


ভোরের আলো ভাঙতেই স্যাঁতসেঁতে 

চোখের আকুতি লুকোতে চেয়েছিলে,

জানি ভালোবেসেছিলে অজান্তেই, তাই

অমন করে জন্ম চিহ্ন খোঁজার চেষ্টা করেছিলে |   


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ১৫.০৯.২০২২ 

রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

খেলাঘর

ভালো বাসা'র টানে নয়, হয়তো  
এসেছিলে খেলাঘরের খোঁজে |
মেঝেতে আড়াআড়ি পড়ে থাকা  
আঁচড়গুলোর সূক্ষ্ম ভাঁজে, 
তেলচিটে পড়া যে আব্দারগুলো 
ঘেঁষাঘেঁষি হয়ে শেষ শ্বাস গুনছে,     
মাটিতে কান পেতে শুনছে,
সহসা কোনো বিজলীর ঝটকায়  
ভাঙা খেলাঘর যদি ফের প্রাণ প্রায়,
আবার যদি ইচ্ছে জাগে, যত্ন করে 
তোলা আছে সরঞ্জাম যত, 
জেনো, সব তোমারই মন মতো | 


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | "মন উথাল" সিরিজ | ০৯.০৯.২০২২

অনু কবিতা - সংকলন ১

এক চিলতে আকাশে হাঁটু গেড়ে 
চেয়েছি শুধু মুঠো নীল যন্ত্রনা, যত 
ছায়া পোড়া ছাই, তাই দাও সই,
খুচরো ভালো থাকা, তাও দামি |


---------------------------------------

তোমার কাছে তো আমি ফাগুন চাইনি,
চেয়েছিলাম একটু উষ্ণতা আধা ভোরে |
সূর্যমুখী নয়, চেয়েছি তোমার মুখ, তবে 
হৃদয় শূন্য করে নীরবে কেন গেলে সরে ?
তোমার কাছে তো আমি আকাশ চাইনি
চেয়েছিলাম একটা দীর্ঘ্য উড়ান সাথে |
আসমান রাত জাগে তোমার অপেক্ষায়,
একাকী আমি হাত রাখি কোন হাতে ?


---------------------------------------


ঘষা কাঁচের ওপারে মেঘ না রোদ্দুর, 
বৃষ্টি থামার শেষেও জানা হলো না;  
গোধূলির নরম আলোয় সেঁকা আশ্বাস
আবেগ না পরিহাস, জানা হলো না; 
কোন অভিশাপে বাসি হলো নেশাতুর মন, 
রাতের তারারা কেন ছল ছল, জানা হলো না; 
দুদণ্ড কাঁধে মাথা রাখার নিশ্চিন্তি
ভালোবাসায় না ক্লান্তিতে, জানা হলো না;   
জানা হলো না, জানা গেলো না; 
সব জেনেও জানা হলো না |


---------------------------------------


আকাশের নীল তোমার গালে লেপে দেওয়াটা তো নিছক অজুহাত,
আসল উদ্দেশ্য তো তোমার সংশয়ী চোয়ালের কাঠিন্য মুছে দেওয়া;
ভালোবাসা ভেবে আঁচল ভরেছো যা দিয়ে, আসলে সেটা পুরাতন অভ্যাস,  
উষ্ণতা পাওয়া যেতে পারে আস্তাকুঁড়েও, দায়িত্ত্ব শুধু খুঁজে নেওয়া |


---------------------------------------



- ভাস্কর ভট্টাচার্য     




বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট, ২০২২

অন্য মনে

যদি পাশে নাই বা পেলে কুয়াশা ভোরে, 

শিউলি তলায়, ধানের খেতে,   

যদি কাছে নাই বা পেলে উদাস সাঁঝে   

বা মন খারাপের বিজন রাতে;


নাই বা হলো খুনসুটি আর কপট রাগ,    

সেই দ্বিপ্রহরে ঘর বেঘরে পুতুল খেলা,  

নাই বা পেলে বৃষ্টি ভেজা ঠোঁটের আদর,      

মন কুড়িয়ে জমাট বুনট প্রেমের মালা;

  

নাই বা পেলে কালচে হতাশ দিনের শেষে, 

সবটা কবে কে পেয়েছে অন্তমিলে ? 

না পাওয়ারও তৃপ্তি বোনা হালকা ধূসর,

বুকেই থাকুক না চাইতেই যেটুক পেলে | 

   

সেদিন ছিলাম বৃষ্টি ধোয়া তোমার গালে,

সেদিন ছিলাম নরম হাতে আমার হাত,   

সেদিন ছিলাম প্রথম আদর শীত দুপুরে,

সেদিন ছিলাম নদীর পথে আস্ত রাত;


সেদিন ছিলাম চোখের জলের সঙ্গী হয়ে,

সেদিন ছিলাম সব হারানোর দিন শেষে,  

সেদিন ছিলাম সকল ব্যাথার কান্ডারি,

সেদিন ছিলাম একলা পথে তোমার পাশে |


আজও আছি তোমার পাশে তেমনটাই,   

আজও তোমার মিষ্টি ঠোঁটের ওই ভেলায়,

খুনসুটি আর ঝগড়াঝাটির রাত শেষে,  

আজও আছি তোমার সাথে সেই খেলায়;


আজও জাগাই অঙ্গে তোমার সেই কাঁপন,      

আজও আছি শাড়ীর খুঁট আর নিঃশ্বাসে,

আজও পাবে শিউলি তলায় তোমার আমি, 

শুধু অতল মনের তল খোঁজো, বিশ্বাসে |

সোমবার, ২৫ জুলাই, ২০২২

ভালো থেকো

নিভিয়েই দেবে যদি নীরবে, 

চুপিসাড়ে, মোর অজান্তে 

চেয়েছিলে কেন তবে  

এক মুঠো আগুন, একান্তে |

আমার যা ছিল উষ্ণ, অন্তরে  

দিয়েছি করে সব নিংড়ে উজাড়, 

হিম অন্তর খোঁজে ইন্ধন আজ  

আঁধারে পিদিম জ্বালাবার |

কালো রাত ভেঙে ভোর হয় রোজ,    

হতাশার বুক চিরে সবুজের বানভাসি, 

তবু কেন চোরা গলি হাতড়িয়ে     

শূন্য মনে নিয়ত আছড়ায় অট্টহাসি | 

যেখানে যা কিছু শুভ, শ্রেষ্ঠ যা কিছু,   

শুভ্র বাসনা যত এই শূন্যগর্ভ মনে, 

সবটুকু থাক শুধু তোমারই ভাগে, 

দগ্ধ হৃদয় থাকুক মোর, তমসাবৃত কোনে | 


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | "মন উথাল" সিরিজ | ২১.০৭.২০২২


শনিবার, ১৬ জুলাই, ২০২২

স্তবক, তুমি কার?

 ফুলের গোছাটা তোমার দিকে এগিয়ে দিতেই 

তুমি চমকে উঠলে - 'ওমা এসব আবার কি?'

আমি অপ্রস্তুত, গোলাপগুলোও খানিক বিব্রত যেন 

ভুলে গেছিলাম, আসলে তুমি অন্য কারো;

খানিক ঢোক গিলে ঈষৎ কাঁপা গলায় বললাম 

প্রথম বার তুমি এলে, কথা রাখলে    

শূন্য হাতে আসাটা আমার কি ভালো দেখায়?

কি জানি কি বুঝলে, ঠোঁট দুটো মৃদু ফাঁক করে 

কিছু একটা বলার চেষ্টা করলে, কিন্তু 

পেলাম একটা হালকা হাসির ঝিলিক,

আশ্বস্ত হলাম, বড় অন্যায় হয়নি তবে;

বললাম, ভালো না লাগলে ফিরিয়ে দিয়ো   

বললে - 'তা কেন? বলো কোথায় যাবে' | 


তারপর শুধু কথা আর কথা, যেন 

কথার মালায় আষ্ঠে পৃষ্ঠে বাঁধবে আমায়,  

যেন নেই সময় বেশি তোমার হাতে, 

যেন কঠিন পাঞ্জা কষে অদৃষ্টের সাথে 

ছিনিয়ে এনেছ কয়েকটা মুহূর্ত আমার জন্য !    

আমার কাজ এক্কেবারে সোজা, মুগ্ধ হয়ে

তোমায় দেখা আর ভেসে যাওয়া 

তোমার রূপের জোয়ারে, কথার স্রোতে; 

এতো কাছে, তবু যেন ছায়াছবি কালোয় সাদায়,

দূর থেকে শুধু দেখতে হয়, কাছে গেলে ধোঁয়া,  

ভুলে গেছিলাম, তুমি আসলে অন্য কারো; বললাম, 

তোমার ভালো না লাগলে এই শেষ, বাড়ি যাবে?    

বললে - 'তা কেন? তুমি চাইলেই আমায় আবার পাবে' |


ইচ্ছে করেনি সেদিন ছেড়ে আসতে তোমায়,

এক অপূর্ব ভয়, কি জানি বোধহয় এমনটাই হয় 

নাকি সবটাই আমার কল্পনা, চপল মনের ভান  

নিঠুর মরীচিকাকে ভাবা শীতল মরুদ্যান;

সেদিন চেয়েছিলো মন, থাকুক থমকে সময় কিছুক্ষন |   

যেদিন তুমি চলে গেলে, বলে গেলে, হয়তো 

দেখা হবে তুমি চাইলে, কথা হবে আবার,   

ভুলে গেছিলাম ফের, তুমি তো আসলে অন্য কারো,    

নও আমার; তবু জানতে ইচ্ছে করে, আমার দেওয়া 

একটা শুকনো গোলাপও কি আছে বইয়ের ফাঁকে  

রাখা সযত্নে, অথবা তোমার মনের গোপন কোনে?  

হোক মরীচিকা, তবু বারে বারে তোমাকেই চায় মন; অথচ   

কাল স্বপ্নে এসে হায়, শিয়রে বসে মৃদু হেসে, বললে -    

'তা কি করে হয়? আমি যে অন্য কারো, তোমার তো নয়' |     


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | "মন উথাল" সিরিজ | ১৬.০৭.২০২২

সোমবার, ৪ জুলাই, ২০২২

স্মৃতি শুধুই যন্ত্রণার

মুহূর্তরা ক্ষণিক ভিড় করে অলিন্দে 
নিমেষে ছুঁয়ে ফিরে আসা, কিছু ক্ষণ
বন্ধ জানালার কাঁচে দুর্বল আকুতি
এর বেশি কি বা চায় বিবশ, অসহায় মন |  

খানিক অযথা আনমনা, খেদ ভুলে  
অকারণ উদাসীন রোমন্থন,   
এক আঁজলা আলোর পাপড়ি কুড়িয়ে  
নিভৃতে নীরবে কাঁদে অবসন্ন মন | 

কত কথা, স্মৃতি, কত অভিঘাত
কত আবরণ ভাঙা দুর্বহ আলোড়ন  
ফ্যাকাশে কিছু রয়ে যাওয়া ছেঁড়া ছবি  
সময়ের ধুলো মুছে, অস্তি হাতড়ায় মন |

স্মৃতি শুধুই যন্ত্রণার, বিস্মৃতিই উপশম ?
দুরূহ প্রশ্ন, অধরা উত্তর নির্জীব অচেতন,
নিরবধি দ্বারে ভিড় করা স্মৃতিগুলি    
কোন সুখে তবু এই নিবিড় আলিঙ্গন ?   


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | "মন উথাল" সিরিজ | ০৩.০৭.২০২২

শুক্রবার, ১ জুলাই, ২০২২

অভিনয়

 মন খারাপের ভোরে, বিবর্ণ ধূসর কোনে

জমা যত গ্লানি, নিথর শায়িত মনে |   

রূঢ় প্রশ্নে বেআব্রু, সংসার চার আনা   

বাদামি গন্ধে রুদ্ধ, নিষ্প্রাণ হাসনুহানা || 


রাত ভেঙে হাতড়ানো, টুকরো স্বপ্ন গোটা কয় 

কালচে ঊষর আবেগে, লেপ্টে সেপ্টে দিনক্ষয় |

শীতল পাঁজরে ঠাসা, গোঙায় ফুসফুস নিশ্চুপ      

গুমোট মুকুরে নিত্য, ঝলসায় অচেনা রূপ || 


জীর্ণ দেহ, খেলাপি সত্তা, স্খলিত অভিমান   

কালের প্রবাহে প্রতারক অভিনয় নিষ্প্রাণ |   

শীর্ণ আশার আলগা বাঁধনে শিথিল অঙ্গীকার 

শূন্য বুকে তোলপাড় গাঁথা শুধুই হাহাকার ||   


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | "মন উথাল" সিরিজ | ৩০.০৬.২০২২

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন, ২০২২

অনন্যা, তোমায়

 আগে বুঝিনি তুমি এতো সুন্দর |

স্যাঁতসেতে শহরের নীল আলোয়
তোমার কপালে ঝাঁপিয়ে এক গুচ্ছ স্বপ্ন,
ইচ্ছে হয় আলতো করে সরিয়ে দি;
না থাক, ওদের ভাগে ভাগ বসাবো না |
তোমার গালের টোল আগলে যে তিল টা
পাহারা দেয় মিষ্টি হাসি টাকে,
মন চায় ঠিক ওখানেই বাসা বাঁধি গোপনে |
আবার ভাবি কুচুটে ওই তিলের খুনসুঁটিই
তোমার্ হাসিকে করেছে দীপ্ত, তোমাকে অনন্যা |
মসৃন পিঠ বেয়ে নামা চুলের ঝর্ণায়
অসংযত মন আগল খুলে যখন বেসামাল,
তখন খুব ঈর্ষা হয় তোমার্ চুলের উপর;
তবু কত সন্ধ্যা কেটেছে তোমার চুলের গন্ধে
মৌতাত করে, নেশার আবেশে, ভালোবেসে |
সম্মোহনের মৃদু উন্মেষে ভিজে যাওয়া
আমার মন, তোমার প্রত্যাশায় উতলা নিরন্তর;
তোমার অধরের কানায় চলকে যাওয়া সুধার
নেশায় বুঁদ, আমি অবিরাম রাত-ভোর
আগে বুঝিনি তুই এতো সুন্দর |
সোনালী জ্যোৎসনা ফিকে তোমার ছটায়,
তোমার মুখের আদল পায়নি চাঁদ
অনুপমা প্রকৃতির চক্ষুশূল তুমি
তবু ওরা তোমায় পাবে না,
তুমি যে পেয়েছো নদী, নদীর পথ |
আগে বুঝিনি তুমি এতো সুন্দর |

© ভাস্কর ভট্টাচার্য | "মন উথাল" সিরিজ | ১৬.০৬.২০২২

শুক্রবার, ৩ জুন, ২০২২

অধিকার

শাপলায় জন্মা শামুক ভাবে 
শাপলায় অধিকার তার, 
উচ্ছিষ্টে পুষ্ট শরীর ভাবে
উচ্ছিষ্টে দাবি শুধু তার |

মাঝি ভাবে তরী-নদ  
চাষি ভাবে জমি তার
আমি শুধু ভেবে মরি
আদপে অধিকার কার ?   

বিহগের দাবি আকাশ নীল    
তরু বোঝে মৃত্তিকায় স্বত্ব তার,,  
আগাছার দাবি উর্বর বনবীথি  
মন বলে ভালোবাসায় হক তার |
 
খালি হাতে আসা-যাওয়া, শেষে  
অনন্ত শূন্যতাই পরিণতি যার    
কি হেতু মিথ্যে দাবি নিরন্তর ?   
কিসের তবে এই অধিকার ?

© ভাস্কর ভট্টাচার্য | "মন উথাল" সিরিজ