ফুলের আগুনেই কি বনানীর পূর্ণতা ? পুষ্পোদ্গম ক্ষিতিজই কি পরম পরিপূর্ণতার একমাত্র শর্ত ? যে বৃক্ষের ফুল মোটে আসেই না, বা সহজে আসতে চায়না, তাদের কি ? তাদের স্থান এবং মর্যাদা কি তলানির কাছাকাছি ?
জন্মালে মরতেই হবে | অমোঘ সত্য | জন্মানোর সার্থকতা কি শুধুই সহজাত দক্ষতার প্রকাশ, সামাজিক প্রতিষ্ঠা, জগৎ ব্যাপি পরিচিতি আর খ্যাতি, অর্থনৈতিক শ্ৰীবৃদ্ধিতেই সীমাবদ্ধ ? যাদের এই জনমে রবীন্দ্রনাথ, রবিশঙ্কর, মেঘনাথ সাহা বা তেন্ডুলকর হয়ে ওঠা হলো না ? যে নারী মা হয়ে উঠতে পারলেন না কিম্বা হতে চাইলেন না ? যে পুরুষ অমানুষিক পরিশ্রম আর নিরলস প্রচেষ্টা সত্ত্বেও পরিবারের কাছে আদর্শপুরুষ হয়ে উঠতে পারলেন না ? যে শিশু জীবনের যাঁতাকলে পিষেও সমাজের তৈরী কাঠামো ও মান অনুযায়ী নিজেকে প্রমান করতে সক্ষম হলো না ? তাদের জীবন কি অসম্পূর্ণ ? এই ধোঁয়াটে প্রশ্নের উত্তরও অস্পষ্ট, কুয়াশাবৃত |
সম্পূর্ণতার সংজ্ঞা আমার জানা নেই | তবে অসম্পূর্ণতার লাবণ্যও কিন্তু কম নয় | একটু ভালো করে ভেবে দেখলে, সাফল্যের তুলনায় যে অসফলতার মাধুর্য্য কোনো অংশে কম নয়, তা বেশ বোঝা যায় | কুমোরটুলিতে কাঠামোয় লেপ্টে থাকা মাটির পরিত্যক্ত প্রতিমা দেখেছেন ? কোনো মণ্ডন বা অলঙ্করণ ছাড়াই ? কোনো কারনে হয়তো সেই অসম্পূর্ণ মূর্তি প্রতিমায় রূপান্তরিত হয়নি | তার প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়নি | সেবা-আরাধনা-অর্চনা হয়নি | তবু সেই মূর্তি অপরূপা | আমার কাছে নৈসর্গিক এবং সম্পূর্ণ |
সবাই মিলে কি সেই অপরূপ অসম্পূর্ণতাকেও উদযাপন করা যায় না ?
© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ১৭.০৯.২০২২