bangla poetry লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
bangla poetry লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬

ফুটনোট

যেদিন আলাদা হলাম —

কোনো দরজা ভাঙেনি,
শুধু জানালার কাচে জমে
কুয়াশায় ভেজা আকাশ।
যেদিন তুমি চলে গেলে —
একটা বিকেলের মতো,
আলো ছিল, তার চেয়ে
ছায়া ছিল বেশি।
শহরের রাস্তা তখনও
নিজের কাজে ব্যস্ত —
বাস থামছে, চা ফুটছে,
একটা অলস কুকুর ঘুমোচ্ছে
ফুটপাথের ইতিহাসে।
আমাদের আলাদা হওয়া
নজরে আসে না কারো।
তোমার কণ্ঠস্বর
এখনো আছে আমার ভেতর —
ভাঙা থার্মোসের মতো,
গরম নেই,
কিন্তু হাত রাখলে
পুরনো উষ্ণতা মনে পড়ে।
ভালোবাসা কি শেষ হয়?
নাকি সে শুধু
ঠিকানা বদলায় —
একটা বুক থেকে
আরেকটা নিঃশ্বাসে?
রাতে আমি বাতি নিভিয়ে রাখি,
অন্ধকারটা পরিষ্কার লাগে।
তুমি হয়তো এখন
অন্য ঘরে আলো জ্বালাও,
সেই আলোয়
আমার নাম নেই।
আমরা দু’জনেই
নিজ নিজ জীবনে
বেঁচে থাকার চেষ্টায় বাঁচি —
কিন্তু মাঝখানে, শুষ্ক
নদীটার বহমান শূন্যতায়,
সাঁতার কাজে আসে না, শুধু
দুই পাড়ে স্তূপাকার বিরহের দীর্ঘশ্বাস।
তোমার অনুপস্থিতি
এখন আর কান্না নয় —
একটা অভ্যাস,
যেমন সকালে খবরের কাগজ
চা ছাড়াও পড়া যায়,
কিন্তু ঠিক জমে ওঠে না।
কখনো কখনো মনে হয়
তুমি আসবে —
ঠিক যেমন মনে হয়
শীত আবার ফিরবে।
জানি, আসবে না।
তবু শরীর
এক-আধখানা গরম কাপড় খোঁজে।
এভাবেই আলাদা থাকা —
উপন্যাস নয়,
একটা ধীর বাক্য,
যার শেষে অদৃশ্য দাঁড়ি থাকলেও
অর্থ এখনো
সম্পূর্ণ রূপ পায়নি, হয়তো।


- ভাস্কর ভট্টাচার্য্য
শুক্রবার, ২৫শে পৌষ, ১৪৩২

মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫

অনু কবিতা - অক্টোবর ২০২৫

দলছুট, প্রায় দিশেহারা তথাপি স্ফুরিত, 
সদা অমলিন তুমি, ফুল ফুটিয়েছো  
নিরুদ এই ঊষর জমিতে নিজ গুনে;
অর্ধ শতাব্দীর উপবাস, দীর্ঘ অপেক্ষার শেষে,    
ফুসফুস ভরি তোমার সুবাসে লালিত 
নীরব সমর্পণে, তোমার অসীম ভালোবাসায়;  
পাওয়া না পাওয়ার বিষন্ন মহাশূন্য পেরিয়ে
নিত্য যা কিছু, ধরা থাক স্মিত তোমার প্রতিবিম্বে। 


==================================


স্মৃতির তো কোনো অবয়ব হয় না
পড়ে তাই তার কোনো ছায়াও রয় না।
তবে ধাওয়া করে কেন ফেরা?
মাঝ রাতে বোবা কান্নায় ঘেরা?
যা কিছু গিয়েছে সরে, বহু দূরে
যে বাঁশি আজ আর বাজে না সুরে,
কি পায় মন অহেতুক হাতড়িয়ে?
সময়ের প্রতিমুখে অযথা সাঁতরিয়ে?
মুঠো খুলে সেই কবে খসেছে যা কিছু,
সময়ের ঝঞ্ঝায় ছাড়ে জেদ যত পিছু,
অশরীরী স্মৃতি রেখে কাল কুঠুরিতে,
মাতো আগামীর রচনায় নব পরিধিতে।
- ভাস্কর ভট্টাচার্য্য
সোমবার, ৪ঠা কার্তিক ১৪৩২


==================================


ঐ চোখ দুটো যেন নীলাভ-সবুজ ঝর্ণাধারার নিস্তব্ধ জল —
গভীর অথচ প্রাণবন্ত, শান্ত অথচ আহ্বানময়।
দৃষ্টির সেই গভীরে যেন লুকিয়ে থাকে
হরিণীর মতো নিষ্পাপ এক বিস্ময়,
ভর করে থাকে অনুরাগের মৃদু অচেনা কম্পন।
চোখ দুটোতে আলো পড়লে, কখনো
তা হারিয়ে যায় সমুদ্রের নীলে, বা কখনো
শিশিরস্নাত সবুজের মতো ঝিকমিক করে ওঠে।
কেবল দেখার জন্য নয়, সেই চোখ
ধরে রাখার, অনুভবে, আবেগের অনুরণনে
মনের গোপন কোণে
যেন অদৃশ্য কোনো টানে
ভিতরভাগের নীরব কষ্ট, কোমল আকুলতা আর আবেশ
ডেকে নিয়ে যায় নীরবে, অদ্ভুত এক কোমল অচেনায়।
খুঁজি অযথাই, সেই দৃষ্টিতে লেখা নেই তেমন কিছুই —
না অভিমান, না আড়াল বা বাসনার অভিসার
শুধু অলক্ষ্যে প্রবাহিত হতে থাকা এক নীরব মায়া।
যেন বারে বারে বলে,
“দু দণ্ড সময় করে চেয়ে দ্যাখো না —
এই চোখে বন্দি হয়ে থাকা এক অনন্ত অপেক্ষা,
সহস্র শতাব্দীর শুন্যতা, অন্তহীন এক নির্বাক ডাক —
মোহনার খোঁজে না হয় হারালাম দুজন”
- ভাস্কর ভট্টাচার্য্য
বৃহস্পতিবার, ১৭ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২

মঙ্গলবার, ৯ মে, ২০২৩

শুভকামনা

 কখনো অন্যমনে, নির্লিপ্ত অনু ক্ষণে

অবসন্ন অবেলায়, উপেক্ষিত হৃদি কোণে       

হটাৎ মুচড়ে ওঠা স্মৃতির উত্তাল ভিড়ে    

এক খন্ড ছবি যেন ভাসে আনমনে |

বুদ্বুদের মতো টুকরো অতীত, কিছু 

ভারহীন ভাবনারা জড়ো হয় প্রাণে 

যা কিছু ভুল, অযতনে ঝরে যাওয়া ফুল   

একাকী মন ভেজে স্যাঁতসেতে অভিমানে |

তবু, ভাঙা কত জানালার ফাঁক ঢাকা, 

বলিরেখা বরাবর বিবর্ণ হাসি আঁকা,

ভালোবাসা আবছায়া, জড়ো হয়ে দোরে     

বলে যায় নিশিদিন, শুভ হউক প্রতি ক্ষণে |   



© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ০৮.০৫.২০২৩

রবিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৩

আকাশ, সিন্ধু, ... নারী

নীল হারায় যেথা দিগন্তের বুকে,

খুঁজেছি সেথায় সুখে আর দুখে;

বারেবার ছুঁয়ে দেখে মুহূর্তরা, 

অপটু পুরুষ মন, দৃষ্টি আনকোরা;     

সূর্যের অচেনা নীল রঙের খোঁজে,    

আলগা অভিমান, ভরসা রোজের;

অমৃতের সন্ধানে কবেই দিয়েছি পাড়ি,   

সাথে আকাশ, পাশে সিন্ধু ... আর নারী |



© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ২০.০৪.২০২৩

 

সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

ভালো আছি

 ভালো আছি, ভালো থাকারই আয়োজন, 

কখনো ডাইনে, কখনো বা বাঁয়ে

হয়তো বা গতিপথের বুক চিরে, একটু ধীরে  

কোন ঘেসে দাঁড়িয়ে একগুঁয়ে ঠায়ে | 


অগুনতি ছায়ালোক পেরিয়ে, নিশুতে 

মাথার বালিশের ধারে বা লেপের কোনে,

চুপটি করে গুটলি পাকানো ধূমকেতুটা 

ভালো থাকার মন্ত্র আওড়ায় যেখানে এক মনে |   


কত শত ভরা কোটালের কালশিটে গায়ে,  

প্রৌঢ় নৌকোর শরীর জুড়ে সজীব কাঠের কাজ,   

ভাবে যদি নতুনের খোঁজে দেওয়া যায় পাড়ি 

আরেকটিবার, গায়ে জোনাকি গাঁথা নতুন সাজ |


হয়তো বসন্ত, নতুবা বিষয়, বাসনা অন্তহীন,

থাকে যদি থাক সব অবসাদ বা জমাট যত গ্লানি,   

অলস উঠোন পেরিয়ে সরু গলি ছাড়ালেই   

বড় রাস্তার মুখে দাঁড়ানো অমরত্বের হাতছানি |


পরাভব যত, অপমান শত শত, কখনো ভাবিনি    

এই চলন অযথা, যত প্রস্তুতি সব নিষ্প্রয়োজন, 

ভোরের আলোয় নতুন তারে ফের কষেছি বীণা,  

ভালো আছি, আসলে সব ভালো থাকারই আয়োজন | 



© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ১৩.০২.২০২৩

শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

অনু কবিতা - সংকলন ৬

কাঠামটা তো দুর্বল হয়েছে কয়েক দশক আগেই, নিঃশব্দে  

কালের ঝামায় উজ্জ্বল তামাটে ছালটাও ফ্যাকাশে, অচেনা   

ঘোলাটে অতীত, চটচটে যন্ত্রনা আর ধূসর খাঁজগুলির সীমানায়   

জীর্ণ হাপরের বিষন্ন ধোঁয়া আজও বিলোয় মোক্ষলাভের ঠিকানা |




© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ১৯.১২.২০২২

মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর, ২০২২

আস্তর

 কোনো কোনো নিষ্প্রাণ অসহায় রাতে, 

শূন্যতা ফুঁড়ে উঠে আসা আকুতিরা যখন 

শিরদাঁড়া বেয়ে ওঠা-নামার ক্লান্তি ভুলে, 

পাঁজরের এক কোনে জমে থাকা 

মরচে পড়া বিষন্নতা খুঁটে খুচরো যন্ত্রণার মালা গাঁথে, 

নিষ্প্রাণ স্থবির মন রাতের অগোচরে তখন 

তোমার চিহ্ন কুড়োয় আলগোছে, 

আলুথালু তোষকের ছিন্নভিন্ন কার্পাসে |   


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ৩১.১০.২০২২


বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২

জন্ম চিহ্ন

শেষ যেবার রাত ভোর বিবস্ত্র করে 

জন্ম চিহ্ন খোঁজার চেষ্টা করেছিলে, 

প্রতিবাদ করতেই, মানুষ চেনার

এটাই নাকি সাচ্চা উপায়, বলেছিলে |


অন্ধকারের আলোয়, থুতনির খাঁজে 

বাদামি তিলটাকে দেখে বলেছিলে,

অনুরত পুরুষের অমন তিল অশালীন 

নির্ঘাত বেহায়া চরিত্রহীন ভেবেছিলে |    


আমি যে তোমার যোগ্য, প্রমান হোক  

হয়ত তাই মনে মনে চেয়েছিলে,        

তাই বোধ হয় রাত ভোর বিবস্ত্র করে 

জন্ম চিহ্ন খোঁজার চেষ্টা করেছিলে |


ভোরের আলো ভাঙতেই স্যাঁতসেঁতে 

চোখের আকুতি লুকোতে চেয়েছিলে,

জানি ভালোবেসেছিলে অজান্তেই, তাই

অমন করে জন্ম চিহ্ন খোঁজার চেষ্টা করেছিলে |   


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ১৫.০৯.২০২২ 

রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

অনু কবিতা - সংকলন ১

এক চিলতে আকাশে হাঁটু গেড়ে 
চেয়েছি শুধু মুঠো নীল যন্ত্রনা, যত 
ছায়া পোড়া ছাই, তাই দাও সই,
খুচরো ভালো থাকা, তাও দামি |


---------------------------------------

তোমার কাছে তো আমি ফাগুন চাইনি,
চেয়েছিলাম একটু উষ্ণতা আধা ভোরে |
সূর্যমুখী নয়, চেয়েছি তোমার মুখ, তবে 
হৃদয় শূন্য করে নীরবে কেন গেলে সরে ?
তোমার কাছে তো আমি আকাশ চাইনি
চেয়েছিলাম একটা দীর্ঘ্য উড়ান সাথে |
আসমান রাত জাগে তোমার অপেক্ষায়,
একাকী আমি হাত রাখি কোন হাতে ?


---------------------------------------


ঘষা কাঁচের ওপারে মেঘ না রোদ্দুর, 
বৃষ্টি থামার শেষেও জানা হলো না;  
গোধূলির নরম আলোয় সেঁকা আশ্বাস
আবেগ না পরিহাস, জানা হলো না; 
কোন অভিশাপে বাসি হলো নেশাতুর মন, 
রাতের তারারা কেন ছল ছল, জানা হলো না; 
দুদণ্ড কাঁধে মাথা রাখার নিশ্চিন্তি
ভালোবাসায় না ক্লান্তিতে, জানা হলো না;   
জানা হলো না, জানা গেলো না; 
সব জেনেও জানা হলো না |


---------------------------------------


আকাশের নীল তোমার গালে লেপে দেওয়াটা তো নিছক অজুহাত,
আসল উদ্দেশ্য তো তোমার সংশয়ী চোয়ালের কাঠিন্য মুছে দেওয়া;
ভালোবাসা ভেবে আঁচল ভরেছো যা দিয়ে, আসলে সেটা পুরাতন অভ্যাস,  
উষ্ণতা পাওয়া যেতে পারে আস্তাকুঁড়েও, দায়িত্ত্ব শুধু খুঁজে নেওয়া |


---------------------------------------



- ভাস্কর ভট্টাচার্য