সেদিন হঠাৎ মনে করালে আমায় ভালোবেসেছো কতটা,
Vaskar's Bengali Poetry - ভাস্কর এর বেহিসেবি বিস্ফোরণ ... উচ্ছাস | উন্মাদনা | অনুরণন | যন্ত্রনা | হীনমন্যতা | হাসি-কান্না | প্রেম | যৌনতা | অভিঘাত | সফর | বল্গাহীন গদ্য | নির্বাক পদ্য | অভিমান, ইত্যাদি | Bengali Poems | Bangla Poetry | Bengali Poetry
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬
জমাখরচ
রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
|| প্রারব্ধ ||
আমার বয়স হয় না, হয় খোলসটার,
হিয়ার মধ্যে, বুকের ঠিক এই মাঝখানটাতে
হলুদ পাখিরা পাখা ঝাপটায় আজও।
আমার বুদ্ধি বাড়ে না, বাড়ে বলিরেখাগুলো,
মাথার মধ্যে, ঝিকুটের যাবতীয় দেহকোষ জুড়ে
নদীর অবিরাম ছলাৎ ছলাৎ শুনি আজও।
আসে পাশে মানুষরা বাড়ে বহরে, বাড়ে বিত্তে,
আমি বাড়ি না, ভাবি বাড়বই বা কোন সুখে
চারপাশে যন্ত্রণা, এত দুঃখ, আমি বাড়ি কোন মুখে।
আমার ধৈর্য বাড়ে না, বাড়ে অসুখ,
আমার শৌর্য বাড়ে না, জানুসন্ধির ব্যথাটা
কিলবিল, স্নায়ুপথ বেয়ে বিস্মৃতির দিগন্তে বিচরণ।
আমার বোধ বাড়ে না, বাড়ে পায়ের ফাটল
গালে রং মাখি, কখনো ঢং মাখি, ফাঁদ পেতে
পানকৌড়ির মতো বসে থাকা, অহেতুক।
হাতে সময় অঢেল, তবু সুযোগ বাড়ে না,
চাঁদমারি তাক করে বসে থাকি, কাঁপা হাত
নিরুপায়, বিদ্রুপ মাখা শরীরে স্নানঘর আশ্রয়।
আজকাল আর ব্যথা লাগেনা, লাগে ঘুম
ঘুম, নিঝুম রাত কাটেনা, ভোর ভোর
বিছানা হাতড়িয়ে খুঁজে ফিরি সেই দোলনাটা।
অথচ, আমার বয়স বাড়ে না, বাড়ে খোলসটার,
হিয়ার মধ্যে, বুকের ঠিক এই মাঝখানটাতে
হলুদ পাখিরা পাখা ঝাপটায় আজও।
- ভাস্কর ভট্টাচার্য্য
রবিবার, ২৫শে মাঘ, ১৪৩২
Sunday, 8th February, 2026
সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬
ফুটনোট
যেদিন আলাদা হলাম —
মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫
অনু কবিতা - অক্টোবর ২০২৫
সোমবার, ১৬ জুন, ২০২৫
আহ্লাদ
রবিবার, ১১ আগস্ট, ২০২৪
चला जाऊंगा
ज़ख्म से जड़ें चद्दर लपेट चला जाऊँगा
खून से लथपथ जिस्म, गीली आँखों को छुपा लूंगा,
किसी से कोई शिकायत ना करूँगा, चला जाऊँगा
कसम जिंदगी की, अब चला जाऊंगा
मेरा ना कभी कोई ज़रूरत था यहाँ,
किसी की आफ़त और ना बनूँगा, चला जाऊंगा
तेरी चौखट पे थोड़ी देर सो लेने दे, ए जिंदगी
वादा रहा, होश लौटते ही चला जाऊंगा |
- भास्कर भट्टाचार्य | १० अगस्त, २०२४
বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০২৪
অনু কবিতা সংকলন ৯
সোমবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৪
মরে যাই
যে খেলায় হেরেছি হেলায়, সময় ভেলায়
ভেসেছি অজানা সুখের খোঁজে কত বার
যত চাওয়া, ফিরে পাওয়া, সবই মিছে
তবু চাই যে, মরে যাই যে, বারে বার |
তবু চাই যে, মরে যাই যে, বারে বার ||
হায় সজনী, দিন রজনী, খুঁজে ফিরি
তোমাকে তোমার ছায়া থেকে যতবার,
হাতে হাত, সারা রাত, সেই ধারা বহে
কারণে কভু অকারণে ভাসে প্রতিবার |
তবু চাই যে, মরে যাই যে, বারে বার ||
আবেশের মুঠো ভরা মোর ভালোবাসা,
কবেই থমকে গেছে, দুয়ারে তোমার
পড়ে থাকা স্মৃতি রাখা ছাইটুকু দিও শুধু,
তোমা হতে চাইবার কিছু নাই আমার |
তবু চাই যে, মরে যাই যে, বারে বার |
তবু চাই যে, মরে যাই যে, বারে বার ||
সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
ছাই
© ভাস্কর ভট্টাচার্য | রবিবার, ০৬ শ্রাবণ, 1430 (23.07.2023)
ইচ্ছে পাড়ি
যাই বলো বাপু, পড়াশোনাটা বড্ডো ঝক্কির কাজ,
কালকের চিতায় শুয়ে যেন আজকের আজ |
বাপের বকুনি তাও সয়, রাঙাজেঠুটাও সেঁকে হাত
পরিবারের নাকি কুলাঙ্গার আমি, শোনায় দিনরাত |
তা বেশ, আমি না হয় ফালতু, আগাছা, জঞ্জাল,
বাকিরা সব মহারথী বুঝি ? নোবেলটারই আকাল ?
সে যাই হোক, কোনো মতে ঘষ্টেশিষ্টে চলি
বুঝি অপদার্থ আমি, তাই অনেক ভেবেচিন্তে বলি
লাগুক ভালো ছবির রং, কিম্বা বাঁশির সুর
- ওসব এক্কেবারে চলবে না,
পারো-না-পারো বাপু, ভুলেও
- 'পারবো না' কথাটি বলবে না |
বলদ-গলায় দড়ির শোভা, কিন্তু আমার গলায় টাই,
নিজের জন্য বাঁচতে ভুলি, মন খারাপ প্রায়ই |
অসাড় মনের ঘুলঘুলিতে জমা খুচরো অভিমান,
আমি কি চাই, জানে কি কেউ, কি চায় আমার প্রাণ ?
তবুও মুখে রা কাটা নেই, নেই ক্ষণিক অবসর,
শুধু সবার স্বপ্ন সাকার করার পরখ পরের পর |
আরে বোকা, ডাক্তার নয় ইঞ্জিনিয়ার, কিছু একটা করো,
বাঁশি বাজিয়ে, মূর্তি গড়ে, কেউ হয়েছে বড়ো ?
বেশ, তাই হবে, কথা দিচ্ছি, লড়ে যাবো শেষে,
নাক উঁচিয়েই থাকবে তোমরা, সমাবর্তনে এসে |
কিন্তু জানতে ইচ্ছে করে, ততদিন আমি বাঁচবো তো ?
ওরা কার্নিশ ধরে হাঁটতে বললে, আমি ঠিক পারবো তো ?
যৌনাঙ্গে ছেঁকার জ্বালা, অজানা সে যন্ত্রনা,
বিষ্ঠা ঘষা মুখে, চোখের জল ধরে রাখতে পারবো তো ?
সে না হয় হলো, যদি আমার মা কে গাল পাড়ে ?
চোখের সামনে মিদনাপুরের রোগা ছেলেটাকে মারে ?
তখন যদি আমার পালাতে ইচ্ছে করে ?
সবার থেকে, এই পৃথিবী থেকে অনেকটা দূরে ?
তখন কি দেবে ছুটি, তোমরা আমায় ? একটু অবসর ?
না না, এখানে নয়, অন্য কোথাও হবে আমার ঘর |
© ভাস্কর ভট্টাচার্য | রবিবার, ০২ ভাদ্র, ১৪৩০
20th August 2023, কলকাতা |
শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
অনু কবিতা সংকলন ৮
যন্ত্রণাকে কবচ করতে শিখিয়েছিলে তুমিই
দিব্যি দিচ্ছি, চিরঋণী আমি তোমার
সেই কবেই, আমায় তুমি যত্ন করে না ভাঙলে
হয়তো বা টুকরো হতাম বার হাজার |
--------------------------------------------------------------
যন্ত্রণাকে কবচ করতে শিখিয়েছিলে তুমিই
দিব্যি দিচ্ছি, চিরঋণী আমি তোমার
সেই কবেই, আমায় তুমি যত্ন করে না ভাঙলে
হয়তো বা টুকরো হতাম হাজার বার |
--------------------------------------------------------------
স্থবির, রুক্ষ বৃক্ষশাখার আনাচে কানাচে, সন্তর্পনে
কখনো শতাব্দী দীর্ঘ নির্মম ইতিহাসে দগ্ধ ইঁটের খাঁজে,
প্রতি রাত খুঁজে ফেরে তোমারই অশ্রু স্ফুলিঙ্গ |
--------------------------------------------------------------
বুধবার, ১০ মে, ২০২৩
সময়, মানুষ ও ভালোবাসা
সময় কোথাও যায় না, মানুষ দূরে চলে যায় |
ভালোবাসার দমবন্ধ করা চিলেকোঠাতেই বাস ভয়ের,
ভয় হারিয়ে যাওয়ার, হারিয়ে ফ্যালার;
ভালোবাসায় খালি হাতটাও উল্টোতে ভয় পায় মানুষ;
বিনিদ্র রাত হাতড়িয়ে, মনের পিঠে হাত বুলিয়ে,
কাকভোরে ফুসফুসে আস্থার রসদ জমিয়ে ভাবে
যাক, সে আছে, তার সাথে তার ভালোবাসাও আছে |
অথচ ভারি অচেনা ঠেকে সেই ভাবনার অনুরণন,
তাতে উষ্ণতা কম, সংশয়ের শৈত্য যেন ঢের বেশি |
ভালোবাসায় মানুষ বড় একা হয়ে যায়, বড্ড একঘরে;
আঙুলে আঙ্গুল গেঁথে আকাশের তারা গুনতে গুনতেও
অপরকে হারিয়ে ফ্যালে পেয়ে-হারানোর চোরাবালিতে |
আদর থাকে, অভ্যাসটাও থেকে যায়, অথচ ভালোবাসা
যত বাড়ে, ভালোবাসার মানুষ যেন আরো দূরে,
হারিয়ে ফ্যালার ভয়েই, হারিয়ে বসে ভালোবাসাকেই |
সময় কোথাও যায় না, মানুষই দূরে চলে যায় |
© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ১০.০৪.২০২৩
মঙ্গলবার, ৯ মে, ২০২৩
শুভকামনা
কখনো অন্যমনে, নির্লিপ্ত অনু ক্ষণে
অবসন্ন অবেলায়, উপেক্ষিত হৃদি কোণে
হটাৎ মুচড়ে ওঠা স্মৃতির উত্তাল ভিড়ে
এক খন্ড ছবি যেন ভাসে আনমনে |
বুদ্বুদের মতো টুকরো অতীত, কিছু
ভারহীন ভাবনারা জড়ো হয় প্রাণে
যা কিছু ভুল, অযতনে ঝরে যাওয়া ফুল
একাকী মন ভেজে স্যাঁতসেতে অভিমানে |
তবু, ভাঙা কত জানালার ফাঁক ঢাকা,
বলিরেখা বরাবর বিবর্ণ হাসি আঁকা,
ভালোবাসা আবছায়া, জড়ো হয়ে দোরে
বলে যায় নিশিদিন, শুভ হউক প্রতি ক্ষণে |
© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ০৮.০৫.২০২৩
রবিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৩
অনু কবিতা - সংকলন ৭
ঘরে তো সকলকেই ফিরতে হয়
চিরায়ত সত্য বই আর কিছু নয়,
তবু আসা যাওয়ার মাঝে এই খেলা
কেউ বলে মায়া, কেউ বলে মেলা,
সময় ফুরোলে ধুলায় যাবো মিশে
যন্ত্রনা নির্মূল, হবে বিষক্ষয় বিষে |
© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ২৩.০৪.২০২৩
আকাশ, সিন্ধু, ... নারী
নীল হারায় যেথা দিগন্তের বুকে,
খুঁজেছি সেথায় সুখে আর দুখে;
বারেবার ছুঁয়ে দেখে মুহূর্তরা,
অপটু পুরুষ মন, দৃষ্টি আনকোরা;
সূর্যের অচেনা নীল রঙের খোঁজে,
আলগা অভিমান, ভরসা রোজের;
অমৃতের সন্ধানে কবেই দিয়েছি পাড়ি,
সাথে আকাশ, পাশে সিন্ধু ... আর নারী |
© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ২০.০৪.২০২৩
সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
ভালো আছি
ভালো আছি, ভালো থাকারই আয়োজন,
কখনো ডাইনে, কখনো বা বাঁয়ে
হয়তো বা গতিপথের বুক চিরে, একটু ধীরে
কোন ঘেসে দাঁড়িয়ে একগুঁয়ে ঠায়ে |
অগুনতি ছায়ালোক পেরিয়ে, নিশুতে
মাথার বালিশের ধারে বা লেপের কোনে,
চুপটি করে গুটলি পাকানো ধূমকেতুটা
ভালো থাকার মন্ত্র আওড়ায় যেখানে এক মনে |
কত শত ভরা কোটালের কালশিটে গায়ে,
প্রৌঢ় নৌকোর শরীর জুড়ে সজীব কাঠের কাজ,
ভাবে যদি নতুনের খোঁজে দেওয়া যায় পাড়ি
আরেকটিবার, গায়ে জোনাকি গাঁথা নতুন সাজ |
হয়তো বসন্ত, নতুবা বিষয়, বাসনা অন্তহীন,
থাকে যদি থাক সব অবসাদ বা জমাট যত গ্লানি,
অলস উঠোন পেরিয়ে সরু গলি ছাড়ালেই
বড় রাস্তার মুখে দাঁড়ানো অমরত্বের হাতছানি |
পরাভব যত, অপমান শত শত, কখনো ভাবিনি
এই চলন অযথা, যত প্রস্তুতি সব নিষ্প্রয়োজন,
ভোরের আলোয় নতুন তারে ফের কষেছি বীণা,
ভালো আছি, আসলে সব ভালো থাকারই আয়োজন |
© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ১৩.০২.২০২৩
শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
অনু কবিতা - সংকলন ৬
কাঠামটা তো দুর্বল হয়েছে কয়েক দশক আগেই, নিঃশব্দে
কালের ঝামায় উজ্জ্বল তামাটে ছালটাও ফ্যাকাশে, অচেনা
ঘোলাটে অতীত, চটচটে যন্ত্রনা আর ধূসর খাঁজগুলির সীমানায়
জীর্ণ হাপরের বিষন্ন ধোঁয়া আজও বিলোয় মোক্ষলাভের ঠিকানা |
বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৩
অঙ্গীকার
সেবার সেই যে তুমি কথা দিয়েছিলে পাশে থাকবে
বহু ব্যবহারে বিবর্ণ ক্যানভাসেও এক সাথে ছবি আঁকবে |
সকালের চা শেষে, দুজনে দুজনের বলিরেখা গুনবো
কান পেতে আমাদের পুরোনো ঘড়িটার টিক টিক শুনবো |
আর একবার পাশবালিশের গন্ডি পেরোনোর দুষ্কর চেষ্টায়,
কখনো বা অশক্ত আঙুলের শিরাগুলো ছুঁয়ে দেখার শেষটায়,
টান টান চামড়ার দাপাদাপি শেষে পড়ে থাকা যেটুকু,
অতি সযত্নে আগলে রাখা একরাশ আস্থা বুকে সেটুকু,
ঘষা কাঁচে ধুলো মতো জমা যত মলিন স্বপ্ন আর কিছু হাসি,
দেয়ালের কোন ঘেঁষে পড়ে থাকা অকেজো তুরুপের রাশি,
কেন গেলোনা তবে শেষ পর্যন্ত ভাগের কষ্ট একসাথে সওয়া ?
অগুনতি পিঙ্গল ঋতুচক্র শেষে একসাথে পরিণত হওয়া ?
তুমি সেদিন বড়ো মুখ করে কথা দিয়েছিলে পাশে থাকবে,
মনে আছে বলেছিলে ধূসর ক্যানভাসেও রঙিন ছবি আঁকবে |
© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ০৭.১২.২০২২
বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২২
অভাব
নিছক প্রত্যয়ী
কুয়াশার ঠিক ওপারেই আছো
ফজরের আজানের সূচনায় তুমি,
বসন্তের আশু সবুজে আছো
ঝঞ্ঝা শেষের শান্ত প্রকৃতি তুমি |
নিকষ ক্লান্তির অবসানে আছো
কৈশোরের নাছোড় আবদারে তুমি,
সগর্ভার যন্ত্রনার উপশমে আছো
নবজাত প্রাণের উন্মেষে তুমি |
আছো মেঘের ক্ষীণ রুপালি রেখায়
ভীষণ মহামারীর প্রতিষেধকে তুমি,
ঘন আঁধার জ্বলে তোমার শিখায়
ভাঙা প্রত্যাশে নব সঞ্জীবন তুমি |
অনিমেশ আমি নিমেষের খোঁজে
গভীর আবেশে সিক্ত,
মুঠো আমার চির মুক্ত জেনো, বারেবার
করো আমায় রিক্ত |
© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ১৬.১১.২০২২