রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬

জমাখরচ

 সেদিন হঠাৎ মনে করালে আমায় ভালোবেসেছো কতটা,

হাতে হাত রেখে সুদীর্ঘ্য ছায়াপথ বরাবর হেঁটেছো যতটা,
ফুলের তোড়া দিয়েছো কটা, সাথে অগুনতি নীলাকাশ,
দিয়েছো গোলাপের কাটায় গাঁথা আবেগ, যত অবকাশ।
যাবতীয় উপহার, সাথে পেঁজা পেঁজা আবেশ অনুরত,
চোখের জল, ঠোঁটের হাসি, হাজার একটা কল্যাণ ব্রত।
কাটিয়েছো কটা অতন্দ্র রাত, অপরিণত স্বপ্নের রেশে,
হিসেবের জমা খাতা জুড়ে লেখাজোখা একপেশে।
বুঝলাম সেদিন বোঝাতে চেয়েছো আমায় ভালোবাসো কতটা,
আকাশের অসীমে বা সমুদ্রের অতলে অজানা সম্পদ যতটা।
কিন্তু কি জানো, মনে হয় তুমি আর আমায় ভালোবাসো না,
হিসেবের খাতা ফেলে সেই আগের মতো কাছে আসো না।
ভালোবাসা ফুরোলেই ঠেলে ওঠে হিসেবের বুদ্বুদ, নিরর্থক দাবি,
ভালোবাসা তো অন্ধ, বধীর; ভালোবাসা উন্মাদ, বেহিসাবি।
বুঝে গেছি, সেই আগের মতো তুমি আর ভালোবাসো না,
হিসেবের খাতা ফেলে আগের মতো আর কাছে আসো না।
- ভাস্কর ভট্টাচার্য্য
মঙ্গলবার, ১৮ ফাল্গুন, ১৪৩২

রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

|| প্রারব্ধ ||

আমার বয়স হয় না, হয় খোলসটার,

হিয়ার মধ্যে, বুকের ঠিক এই মাঝখানটাতে  

হলুদ পাখিরা পাখা ঝাপটায় আজও। 


আমার বুদ্ধি বাড়ে না, বাড়ে বলিরেখাগুলো, 

মাথার মধ্যে, ঝিকুটের যাবতীয় দেহকোষ জুড়ে  

নদীর অবিরাম ছলাৎ ছলাৎ শুনি আজও।


আসে পাশে মানুষরা বাড়ে বহরে, বাড়ে বিত্তে, 

আমি বাড়ি না, ভাবি বাড়বই বা কোন সুখে

চারপাশে যন্ত্রণা, এত দুঃখ, আমি বাড়ি কোন মুখে। 


আমার ধৈর্য বাড়ে না, বাড়ে অসুখ,

আমার শৌর্য বাড়ে না, জানুসন্ধির ব্যথাটা     

কিলবিল, স্নায়ুপথ বেয়ে বিস্মৃতির দিগন্তে বিচরণ।


আমার বোধ বাড়ে না, বাড়ে পায়ের ফাটল 

গালে রং মাখি, কখনো ঢং মাখি, ফাঁদ পেতে 

পানকৌড়ির মতো বসে থাকা, অহেতুক।    


হাতে সময় অঢেল, তবু সুযোগ বাড়ে না,

চাঁদমারি তাক করে বসে থাকি, কাঁপা হাত    

নিরুপায়, বিদ্রুপ মাখা শরীরে স্নানঘর আশ্রয়। 


আজকাল আর ব্যথা লাগেনা, লাগে ঘুম

ঘুম, নিঝুম রাত কাটেনা, ভোর ভোর 

বিছানা হাতড়িয়ে খুঁজে ফিরি সেই দোলনাটা।


অথচ, আমার বয়স বাড়ে না, বাড়ে খোলসটার,

হিয়ার মধ্যে, বুকের ঠিক এই মাঝখানটাতে  

হলুদ পাখিরা পাখা ঝাপটায় আজও। 

       


- ভাস্কর ভট্টাচার্য্য 

রবিবার, ২৫শে মাঘ, ১৪৩২

Sunday, 8th February, 2026

সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬

ফুটনোট

যেদিন আলাদা হলাম —

কোনো দরজা ভাঙেনি,
শুধু জানালার কাচে জমে
কুয়াশায় ভেজা আকাশ।
যেদিন তুমি চলে গেলে —
একটা বিকেলের মতো,
আলো ছিল, তার চেয়ে
ছায়া ছিল বেশি।
শহরের রাস্তা তখনও
নিজের কাজে ব্যস্ত —
বাস থামছে, চা ফুটছে,
একটা অলস কুকুর ঘুমোচ্ছে
ফুটপাথের ইতিহাসে।
আমাদের আলাদা হওয়া
নজরে আসে না কারো।
তোমার কণ্ঠস্বর
এখনো আছে আমার ভেতর —
ভাঙা থার্মোসের মতো,
গরম নেই,
কিন্তু হাত রাখলে
পুরনো উষ্ণতা মনে পড়ে।
ভালোবাসা কি শেষ হয়?
নাকি সে শুধু
ঠিকানা বদলায় —
একটা বুক থেকে
আরেকটা নিঃশ্বাসে?
রাতে আমি বাতি নিভিয়ে রাখি,
অন্ধকারটা পরিষ্কার লাগে।
তুমি হয়তো এখন
অন্য ঘরে আলো জ্বালাও,
সেই আলোয়
আমার নাম নেই।
আমরা দু’জনেই
নিজ নিজ জীবনে
বেঁচে থাকার চেষ্টায় বাঁচি —
কিন্তু মাঝখানে, শুষ্ক
নদীটার বহমান শূন্যতায়,
সাঁতার কাজে আসে না, শুধু
দুই পাড়ে স্তূপাকার বিরহের দীর্ঘশ্বাস।
তোমার অনুপস্থিতি
এখন আর কান্না নয় —
একটা অভ্যাস,
যেমন সকালে খবরের কাগজ
চা ছাড়াও পড়া যায়,
কিন্তু ঠিক জমে ওঠে না।
কখনো কখনো মনে হয়
তুমি আসবে —
ঠিক যেমন মনে হয়
শীত আবার ফিরবে।
জানি, আসবে না।
তবু শরীর
এক-আধখানা গরম কাপড় খোঁজে।
এভাবেই আলাদা থাকা —
উপন্যাস নয়,
একটা ধীর বাক্য,
যার শেষে অদৃশ্য দাঁড়ি থাকলেও
অর্থ এখনো
সম্পূর্ণ রূপ পায়নি, হয়তো।


- ভাস্কর ভট্টাচার্য্য
শুক্রবার, ২৫শে পৌষ, ১৪৩২

মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫

অনু কবিতা - অক্টোবর ২০২৫

দলছুট, প্রায় দিশেহারা তথাপি স্ফুরিত, 
সদা অমলিন তুমি, ফুল ফুটিয়েছো  
নিরুদ এই ঊষর জমিতে নিজ গুনে;
অর্ধ শতাব্দীর উপবাস, দীর্ঘ অপেক্ষার শেষে,    
ফুসফুস ভরি তোমার সুবাসে লালিত 
নীরব সমর্পণে, তোমার অসীম ভালোবাসায়;  
পাওয়া না পাওয়ার বিষন্ন মহাশূন্য পেরিয়ে
নিত্য যা কিছু, ধরা থাক স্মিত তোমার প্রতিবিম্বে। 


==================================


স্মৃতির তো কোনো অবয়ব হয় না
পড়ে তাই তার কোনো ছায়াও রয় না।
তবে ধাওয়া করে কেন ফেরা?
মাঝ রাতে বোবা কান্নায় ঘেরা?
যা কিছু গিয়েছে সরে, বহু দূরে
যে বাঁশি আজ আর বাজে না সুরে,
কি পায় মন অহেতুক হাতড়িয়ে?
সময়ের প্রতিমুখে অযথা সাঁতরিয়ে?
মুঠো খুলে সেই কবে খসেছে যা কিছু,
সময়ের ঝঞ্ঝায় ছাড়ে জেদ যত পিছু,
অশরীরী স্মৃতি রেখে কাল কুঠুরিতে,
মাতো আগামীর রচনায় নব পরিধিতে।
- ভাস্কর ভট্টাচার্য্য
সোমবার, ৪ঠা কার্তিক ১৪৩২


==================================


ঐ চোখ দুটো যেন নীলাভ-সবুজ ঝর্ণাধারার নিস্তব্ধ জল —
গভীর অথচ প্রাণবন্ত, শান্ত অথচ আহ্বানময়।
দৃষ্টির সেই গভীরে যেন লুকিয়ে থাকে
হরিণীর মতো নিষ্পাপ এক বিস্ময়,
ভর করে থাকে অনুরাগের মৃদু অচেনা কম্পন।
চোখ দুটোতে আলো পড়লে, কখনো
তা হারিয়ে যায় সমুদ্রের নীলে, বা কখনো
শিশিরস্নাত সবুজের মতো ঝিকমিক করে ওঠে।
কেবল দেখার জন্য নয়, সেই চোখ
ধরে রাখার, অনুভবে, আবেগের অনুরণনে
মনের গোপন কোণে
যেন অদৃশ্য কোনো টানে
ভিতরভাগের নীরব কষ্ট, কোমল আকুলতা আর আবেশ
ডেকে নিয়ে যায় নীরবে, অদ্ভুত এক কোমল অচেনায়।
খুঁজি অযথাই, সেই দৃষ্টিতে লেখা নেই তেমন কিছুই —
না অভিমান, না আড়াল বা বাসনার অভিসার
শুধু অলক্ষ্যে প্রবাহিত হতে থাকা এক নীরব মায়া।
যেন বারে বারে বলে,
“দু দণ্ড সময় করে চেয়ে দ্যাখো না —
এই চোখে বন্দি হয়ে থাকা এক অনন্ত অপেক্ষা,
সহস্র শতাব্দীর শুন্যতা, অন্তহীন এক নির্বাক ডাক —
মোহনার খোঁজে না হয় হারালাম দুজন”
- ভাস্কর ভট্টাচার্য্য
বৃহস্পতিবার, ১৭ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২

সোমবার, ১৬ জুন, ২০২৫

আহ্লাদ

আমার একটা পাহাড় কেনার খুব শখ, 
সেই কবে থেকেই; একবার 
আমার ভয়ঙ্কর আবদার, ছেলেবেলায়    
কি জানি কি ভেবে, ছোটকাকা 
মুচকি হেঁসে, গাল টিপে দিয়ে বললে, বেশ !  
সে না হয় হবে খন, কিন্তু   
অত বড় পাহাড়টাকে রাখবি কোথায়? 
বললাম, কেন, কয়লা-ভাঙা ঘরের কোণে?
ঝাঁট দিয়ে, বিচুলি পেতে, ঠিক সাজিয়ে নেবো   
পাহাড় ময়লা হবে না, কথা দিচ্ছি।  

আচ্ছা শুনি, তোর কেমন পাহাড় চাই,  
প্রশ্রয়ে যার পর নাই খুশি, বললাম  
আমি বিড়াল ভয় পাই, আমার 
পাহাড়ে যেন বিড়াল না থাকে একটাও; 
বাঘ থাকুক, সাথে উঠোনের চড়ুইগুলোও। 
দিদুন বলে পাহাড়ের গায়ে নাকি শ্যাওলা ধরে 
আমাদের কলতলার ভিজে শ্যাওলার মতো,
তুলতুলে, কালচে সবুজ শ্যাওলা আমার খুব প্রিয়;
নারকেল মালা ঘষে যখন শ্যাওলা ওঠায় জ্যেঠি,    
খুব কষ্ট হয়, আমার টিনের বাক্সে  
কাঁচিয়ে-বাঁচিয়ে শ্যাওলা রাখি খানিক। 
শ্যাওলা মোড়া পাহাড়ী ঝর্ণায়, আমার স্নান 
যখন খুশি, বাবার চোখ রাঙানি         
নেই, 'কি রে আর কতক্ষন জল ঘাটবি'?
পুবের বাগানটার মতো গিজগিজ, সবুজ 
পাহাড়ের কোলে কানামাছি, ভোঁ ভোঁ।  
রাতে নাকি চাঁদ নামে পাহাড়ে, সাথে 
বেমানান কালো দাগগুলো, আমার মায়ের   
গায়েও দেখেছি ওরকম দাগ, চুপচাপ।

আমার পাহাড় হবে সুন্দরী, ছোটোপিসির চাইতেও,   
ইয়া বড় সূর্যের টিপ আর মেঘের নোলক পরে     
আমাকে কোলে নেবে ছোটোপিসির মতো, আমি 
পাহাড়ের গা ঘেঁষে উড়বো, ডানা ঝাপটিয়ে।     
ছেলেরা নাকি পুতুল খেলেনা, সাজিয়ে রাখবো   
রান্না বাটি, কাপড় চোপড়, পুতুলের ঘর, মন চাইলেই  
ঝুলন সাজাবো পাহাড়ের কোনো খাঁজে। 
কাঁড়ি কাঁড়ি বই থাকবে না, কঠিন প্রশ্ন, বেতের ভয়, 
আমি পাহাড়ের গায়ের রোদ্দুর হবো। 
আমার পাহাড় হেডস্যারের মত রুক্ষ হবে না, 
পছন্দের সব ফুল গাছ সাজিয়ে, খুনসুটি দিনভর, 
ফড়িং-মৌমাছিদের সাথে ছোঁয়াছুঁয়ি খেলা, সন্ধ্যে        
নামতেই, সিঁদুর ল্যাপা মায়ের কপালের মতো আকাশ, 
কিন্তু হটাৎ পেটে ব্যাথা হলে? তখন মা'কে কোথায় পাই ?  
পাহাড়ে আমার একটা ফুচকাওয়ালা চাই, ঝর্ণার জলে  
তেঁতুল গুলে, একটার বদলে ফাউ দেবে দুটো। 
নক্ষত্রের চাঁদোয়া টাঙানো খোলা আকাশ, গুনে গুনে     
একশো তারা শেষে, কপালে ঠান্ডা হাওয়ার হাত,
যেন মায়ের কোলের নিশ্চিন্তি, স্বপ্ন দেখবো সারা রাত।         

ছেলেবেলায় পাহাড় দেখা হয়নি, বড়বেলার    
পাহাড়গুলো ঠিক আমার পাহাড় নয়, 
প্রতিবার ইতি উতি, হন্যে হয়ে খুঁজি, ছেলেবেলার  
আমার সেই পাহাড়; জানি খুঁজে আমি পাবই, তাই         
বেঁচে থাকুক আমার একটা পাহাড় কেনার শখ।

© ভাস্কর ভট্টাচার্য্য  
শনিবার, ২৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩২

রবিবার, ১১ আগস্ট, ২০২৪

चला जाऊंगा

ज़ख्म से जड़ें चद्दर लपेट चला जाऊँगा 

खून से लथपथ जिस्म, गीली आँखों को छुपा लूंगा,

किसी से कोई शिकायत ना करूँगा, चला जाऊँगा

कसम जिंदगी की, अब चला जाऊंगा 


मेरा ना कभी कोई ज़रूरत था यहाँ,

किसी की आफ़त और ना बनूँगा, चला जाऊंगा 

तेरी चौखट पे थोड़ी देर सो लेने दे, ए जिंदगी

वादा रहा, होश लौटते ही चला जाऊंगा |


- भास्कर भट्टाचार्य | १० अगस्त, २०२४

বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০২৪

অনু কবিতা সংকলন ৯

তর্ক নিষ্প্রয়োজন, সেই কবেই মেনেছি তোমার মূল্যায়ন   
হতে পারি মূর্খ, আমি হতে পারি নির্বোধ  
তবে, সার কথা কি জানো? ঠিক তোমার মতোই অহর্নিশ,
আমিও হাতড়ে ফিরি বেঁচে থাকার রসদ |


-------------------------------------------------------------------

সোমবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৪

মরে যাই

 যে খেলায় হেরেছি হেলায়, সময় ভেলায়  

ভেসেছি অজানা সুখের খোঁজে কত বার

যত চাওয়া, ফিরে পাওয়া, সবই মিছে 

তবু চাই যে, মরে যাই যে, বারে বার |    


তবু চাই যে, মরে যাই যে, বারে বার ||


হায় সজনী, দিন রজনী, খুঁজে ফিরি    

তোমাকে তোমার ছায়া থেকে যতবার, 

হাতে হাত, সারা রাত, সেই ধারা বহে 

কারণে কভু অকারণে ভাসে প্রতিবার |  


তবু চাই যে, মরে যাই যে, বারে বার ||    


আবেশের মুঠো ভরা মোর ভালোবাসা,   

কবেই থমকে গেছে, দুয়ারে তোমার   

পড়ে থাকা স্মৃতি রাখা ছাইটুকু দিও শুধু,    

তোমা হতে চাইবার কিছু নাই আমার | 


তবু চাই যে, মরে যাই যে, বারে বার |  

তবু চাই যে, মরে যাই যে, বারে বার ||


সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

ছাই

ভালো লাগে কানায় লেগে থাকা লিপ্সার হলদেটে গন্ধ
উশখুশ লালসার চুঁইয়ে নামা নোনতা স্বাদ ভালো লাগে,
ভালো লাগে অসতর্ক মুহূর্তের রাঙতায় মোড়া নষ্টামী
জীর্ণ ত্বকে কস্তুরী, কামনায় পোড়া রাত ভালো লাগে |
বলিরেখা পিঠে বয়ে ফেরা অসহায়তা একপাশে রেখে
হামাগুড়ি দিয়ে মনের দিগন্তে পৌঁছে যাওয়া ভালো লাগে,
ভালো লাগে বিলি কাটা আরামের স্ফুলিঙ্গ চেখে দেখে
অগোছালো আঁচলের অহেতুক খসে পড়া ভালো লাগে |
শেকলের ফেলে যাওয়া উদাসীন রক্ত জমাট নিথর
অগোছালো বৃষ্টির জলে ধোওয়া অঙ্গীকার ভালো লাগে,
ভালো লাগে হাপুস কান্না ভেজা তারাদের আনাগোনা
গড়ার চাইতে, না জানি কেন আজ ভাঙতে ভালো লাগে |
পলকে বদলে, জানি থাকবে এক আকাশ শূন্যতা, তবু
তোমার উষ্ণ ঘ্রান বুকে ভরে মুহূর্তে বাঁচাটাই ভালো লাগে,
যতবার চোখ পড়ে ওই চোখে, অসাড় যন্ত্রনা সাঁতরে
প্রতিদিন তোমার আগুনে পুড়ে ছাই হতে ভালো লাগে |


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | রবিবার, ০৬ শ্রাবণ, 1430 (23.07.2023)  

ইচ্ছে পাড়ি

যাই বলো বাপু, পড়াশোনাটা বড্ডো ঝক্কির কাজ, 

কালকের চিতায় শুয়ে যেন আজকের আজ | 


বাপের বকুনি তাও সয়, রাঙাজেঠুটাও সেঁকে হাত

পরিবারের নাকি কুলাঙ্গার আমি, শোনায় দিনরাত |


তা বেশ, আমি না হয় ফালতু, আগাছা, জঞ্জাল,

বাকিরা সব মহারথী বুঝি ? নোবেলটারই আকাল ?


সে যাই হোক, কোনো মতে ঘষ্টেশিষ্টে চলি           

বুঝি অপদার্থ আমি, তাই অনেক ভেবেচিন্তে বলি  


লাগুক ভালো ছবির রং, কিম্বা বাঁশির সুর 

- ওসব এক্কেবারে চলবে না,

পারো-না-পারো বাপু, ভুলেও 

- 'পারবো না' কথাটি বলবে না |

 

বলদ-গলায় দড়ির শোভা, কিন্তু আমার গলায় টাই,   

নিজের জন্য বাঁচতে ভুলি, মন খারাপ প্রায়ই |


অসাড় মনের ঘুলঘুলিতে জমা খুচরো অভিমান,  

আমি কি চাই, জানে কি কেউ, কি চায় আমার প্রাণ ?   


তবুও মুখে রা কাটা নেই, নেই ক্ষণিক অবসর,     

শুধু সবার স্বপ্ন সাকার করার পরখ পরের পর | 


আরে বোকা, ডাক্তার নয় ইঞ্জিনিয়ার, কিছু একটা করো, 

বাঁশি বাজিয়ে, মূর্তি গড়ে, কেউ হয়েছে বড়ো ? 


বেশ, তাই হবে, কথা দিচ্ছি, লড়ে যাবো শেষে,   

নাক উঁচিয়েই থাকবে তোমরা, সমাবর্তনে এসে |


কিন্তু জানতে ইচ্ছে করে, ততদিন আমি বাঁচবো তো ?

ওরা কার্নিশ ধরে হাঁটতে বললে, আমি ঠিক পারবো তো ?

যৌনাঙ্গে ছেঁকার জ্বালা, অজানা সে যন্ত্রনা, 

বিষ্ঠা ঘষা মুখে, চোখের জল ধরে রাখতে পারবো তো ?


সে না হয় হলো, যদি আমার মা কে গাল পাড়ে ?

চোখের সামনে মিদনাপুরের রোগা ছেলেটাকে মারে ?

তখন যদি আমার পালাতে ইচ্ছে করে ?

সবার থেকে, এই পৃথিবী থেকে অনেকটা দূরে ?


তখন কি দেবে ছুটি, তোমরা আমায় ? একটু অবসর ?

না না, এখানে নয়, অন্য কোথাও হবে আমার ঘর |

© ভাস্কর ভট্টাচার্য | রবিবার, ০২ ভাদ্র, ১৪৩০ 

20th August 2023, কলকাতা |


শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

অনু কবিতা সংকলন ৮

 যন্ত্রণাকে কবচ করতে শিখিয়েছিলে তুমিই 

দিব্যি দিচ্ছি, চিরঋণী আমি তোমার  

সেই কবেই, আমায় তুমি যত্ন করে না ভাঙলে 

হয়তো বা টুকরো হতাম বার হাজার |   



--------------------------------------------------------------


যন্ত্রণাকে কবচ করতে শিখিয়েছিলে তুমিই 

দিব্যি দিচ্ছি, চিরঋণী আমি তোমার  

সেই কবেই, আমায় তুমি যত্ন করে না ভাঙলে 

হয়তো বা টুকরো হতাম হাজার বার |   


--------------------------------------------------------------

স্থবির, রুক্ষ বৃক্ষশাখার আনাচে কানাচে, সন্তর্পনে  

কখনো শতাব্দী দীর্ঘ নির্মম ইতিহাসে দগ্ধ ইঁটের খাঁজে, 

প্রতি রাত খুঁজে ফেরে তোমারই অশ্রু স্ফুলিঙ্গ |


--------------------------------------------------------------


বুধবার, ১০ মে, ২০২৩

সময়, মানুষ ও ভালোবাসা

 সময় কোথাও যায় না, মানুষ দূরে চলে যায় | 

ভালোবাসার দমবন্ধ করা চিলেকোঠাতেই বাস ভয়ের, 

ভয় হারিয়ে যাওয়ার, হারিয়ে ফ্যালার;  

ভালোবাসায় খালি হাতটাও উল্টোতে ভয় পায় মানুষ; 

বিনিদ্র রাত হাতড়িয়ে, মনের পিঠে হাত বুলিয়ে,  

কাকভোরে ফুসফুসে আস্থার রসদ জমিয়ে ভাবে 

যাক, সে আছে, তার সাথে তার ভালোবাসাও আছে | 

অথচ ভারি অচেনা ঠেকে সেই ভাবনার অনুরণন,  

তাতে উষ্ণতা কম, সংশয়ের শৈত্য যেন ঢের বেশি |

ভালোবাসায় মানুষ বড় একা হয়ে যায়, বড্ড একঘরে;

আঙুলে আঙ্গুল গেঁথে আকাশের তারা গুনতে গুনতেও 

অপরকে হারিয়ে ফ্যালে পেয়ে-হারানোর চোরাবালিতে |

আদর থাকে, অভ্যাসটাও থেকে যায়, অথচ ভালোবাসা      

যত বাড়ে, ভালোবাসার মানুষ যেন আরো দূরে,

হারিয়ে ফ্যালার ভয়েই, হারিয়ে বসে ভালোবাসাকেই |

সময় কোথাও যায় না, মানুষই দূরে চলে যায় |   


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ১০.০৪.২০২৩

মঙ্গলবার, ৯ মে, ২০২৩

শুভকামনা

 কখনো অন্যমনে, নির্লিপ্ত অনু ক্ষণে

অবসন্ন অবেলায়, উপেক্ষিত হৃদি কোণে       

হটাৎ মুচড়ে ওঠা স্মৃতির উত্তাল ভিড়ে    

এক খন্ড ছবি যেন ভাসে আনমনে |

বুদ্বুদের মতো টুকরো অতীত, কিছু 

ভারহীন ভাবনারা জড়ো হয় প্রাণে 

যা কিছু ভুল, অযতনে ঝরে যাওয়া ফুল   

একাকী মন ভেজে স্যাঁতসেতে অভিমানে |

তবু, ভাঙা কত জানালার ফাঁক ঢাকা, 

বলিরেখা বরাবর বিবর্ণ হাসি আঁকা,

ভালোবাসা আবছায়া, জড়ো হয়ে দোরে     

বলে যায় নিশিদিন, শুভ হউক প্রতি ক্ষণে |   



© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ০৮.০৫.২০২৩

রবিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৩

অনু কবিতা - সংকলন ৭

ঘরে তো সকলকেই ফিরতে হয়

চিরায়ত সত্য বই আর কিছু নয়,

তবু আসা যাওয়ার মাঝে এই খেলা

কেউ বলে মায়া, কেউ বলে মেলা,

সময় ফুরোলে ধুলায় যাবো মিশে

যন্ত্রনা নির্মূল, হবে বিষক্ষয় বিষে |




© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ২৩.০৪.২০২৩

আকাশ, সিন্ধু, ... নারী

নীল হারায় যেথা দিগন্তের বুকে,

খুঁজেছি সেথায় সুখে আর দুখে;

বারেবার ছুঁয়ে দেখে মুহূর্তরা, 

অপটু পুরুষ মন, দৃষ্টি আনকোরা;     

সূর্যের অচেনা নীল রঙের খোঁজে,    

আলগা অভিমান, ভরসা রোজের;

অমৃতের সন্ধানে কবেই দিয়েছি পাড়ি,   

সাথে আকাশ, পাশে সিন্ধু ... আর নারী |



© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ২০.০৪.২০২৩

 

সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

ভালো আছি

 ভালো আছি, ভালো থাকারই আয়োজন, 

কখনো ডাইনে, কখনো বা বাঁয়ে

হয়তো বা গতিপথের বুক চিরে, একটু ধীরে  

কোন ঘেসে দাঁড়িয়ে একগুঁয়ে ঠায়ে | 


অগুনতি ছায়ালোক পেরিয়ে, নিশুতে 

মাথার বালিশের ধারে বা লেপের কোনে,

চুপটি করে গুটলি পাকানো ধূমকেতুটা 

ভালো থাকার মন্ত্র আওড়ায় যেখানে এক মনে |   


কত শত ভরা কোটালের কালশিটে গায়ে,  

প্রৌঢ় নৌকোর শরীর জুড়ে সজীব কাঠের কাজ,   

ভাবে যদি নতুনের খোঁজে দেওয়া যায় পাড়ি 

আরেকটিবার, গায়ে জোনাকি গাঁথা নতুন সাজ |


হয়তো বসন্ত, নতুবা বিষয়, বাসনা অন্তহীন,

থাকে যদি থাক সব অবসাদ বা জমাট যত গ্লানি,   

অলস উঠোন পেরিয়ে সরু গলি ছাড়ালেই   

বড় রাস্তার মুখে দাঁড়ানো অমরত্বের হাতছানি |


পরাভব যত, অপমান শত শত, কখনো ভাবিনি    

এই চলন অযথা, যত প্রস্তুতি সব নিষ্প্রয়োজন, 

ভোরের আলোয় নতুন তারে ফের কষেছি বীণা,  

ভালো আছি, আসলে সব ভালো থাকারই আয়োজন | 



© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ১৩.০২.২০২৩

শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

অনু কবিতা - সংকলন ৬

কাঠামটা তো দুর্বল হয়েছে কয়েক দশক আগেই, নিঃশব্দে  

কালের ঝামায় উজ্জ্বল তামাটে ছালটাও ফ্যাকাশে, অচেনা   

ঘোলাটে অতীত, চটচটে যন্ত্রনা আর ধূসর খাঁজগুলির সীমানায়   

জীর্ণ হাপরের বিষন্ন ধোঁয়া আজও বিলোয় মোক্ষলাভের ঠিকানা |




© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ১৯.১২.২০২২

বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৩

অঙ্গীকার

সেবার সেই যে তুমি কথা দিয়েছিলে পাশে থাকবে   

বহু ব্যবহারে বিবর্ণ ক্যানভাসেও এক সাথে ছবি আঁকবে |  

সকালের চা শেষে, দুজনে দুজনের বলিরেখা গুনবো  

কান পেতে আমাদের পুরোনো ঘড়িটার টিক টিক শুনবো | 


আর একবার পাশবালিশের গন্ডি পেরোনোর দুষ্কর চেষ্টায়,   

কখনো বা অশক্ত আঙুলের শিরাগুলো ছুঁয়ে দেখার শেষটায়,   

টান টান চামড়ার দাপাদাপি শেষে পড়ে থাকা যেটুকু,    

অতি সযত্নে আগলে রাখা একরাশ আস্থা বুকে সেটুকু, 

ঘষা কাঁচে ধুলো মতো জমা যত মলিন স্বপ্ন আর কিছু হাসি, 

দেয়ালের কোন ঘেঁষে পড়ে থাকা অকেজো তুরুপের রাশি, 

কেন গেলোনা তবে শেষ পর্যন্ত ভাগের কষ্ট একসাথে সওয়া ?    

অগুনতি পিঙ্গল ঋতুচক্র শেষে একসাথে পরিণত হওয়া ? 


তুমি সেদিন বড়ো মুখ করে কথা দিয়েছিলে পাশে থাকবে,  

মনে আছে বলেছিলে ধূসর ক্যানভাসেও রঙিন ছবি আঁকবে |  



© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ০৭.১২.২০২২

বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২২

অভাব

শৈশবে, বাবার কাছে একটা কথা প্রায়শই শুনতাম | বার বার বলতেন, 'অভাব মানুষকে মহীয়ান করে' !

শিকার করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই, কথাটা আমার এক্কেবারে পছন্দের ছিল না | শৈশবে কথাটির নিগূঢ় অর্থ বুঝতেই পারতাম না | খালি ভাবতাম, বাবার সামর্থের বাইরে কিছু চেয়ে বসলেই ওই অমোঘ বাণী নিশ্চিত আমার দিকে ২০০ কিমি বেগে ধেয়ে আসবে | আর আমার বয়সন্ধিকালে যখন সবার কথার বিরোধিতা করা এবং নিজের ভাবনাটাকে সঠিক প্রমান করাটাকে একটা শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেলাম, তখন সেই অদ্ভুত বাক্যটি শুনলেই বমকে যেতাম | ভাবতাম বাবা 'দারিদ্র্য'-কে অহেতুক রোমান্টিসাইস করার চেষ্টা করছেন এবং খরচ বাঁচানোর ফন্দি হিসেবে ওই বাক্যটি ব্যবহার করছেন | ভাবতাম কি সাংঘাতিক নেগেটিভ একটা ভাবনা জোর করে একটা বাচ্চার মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে | তার আত্মবিশ্বাস আর বড় কিছু করার খিদেটাকেই সমূলে উৎপাটন করার চেষ্টা চলছে | বাবাকে যেহেতু যমের থেকে সামান্য বেশি ভয় পেতাম, তাই মুখের উপর প্রতিবাদ করার সাহস জোগাড় করতে পারতাম না | মুষ্টি বদ্ধ করতেই, সব ক্লেশ নীরব জেদে রূপান্তরিত হয়ে মনের এক কোণে জমা হতে থাকতো | ভাবতাম একদিন বাবার কাছে প্রমান করেই ছাড়বো, প্রাচুর্য্য খারাপ জিনিস নয় এবং অভাব যে অপরিহার্যভাবে মানুষকে মহীয়ান করবেই এর কোনো নিশ্চয়তা নেই|        

ওই কথাটির প্রকৃত অর্থ বুঝতে অনেক দেরি করে ফেলেছি | তবে দেরিতে হলেও বুঝেছি | বুঝেছি বললে কম বলা হবে, উপলব্ধি করেছি | প্রতিনিয়ত করে চলেছি | 'অভাব' বলতে বাবা কোনোদিন 'দারিদ্র' বোঝাতে চান নি | অভাব বলতে বাবা বারবার 'অসম্পূর্ণ আকাঙ্খা' বা 'অপ্রাপ্ত প্রসিদ্ধি'র কথা বোঝাতে চেয়েছিলেন | অসমাপ্ত স্বপ্নের কথা বা অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে যে ক্ষুদার প্রয়োজন পড়ে, তার কথা বলতে চেয়েছিলেন | একটা ধ্রুব সত্য, একটা মৌলিক অথচ দারুন অনুপ্রেরণা দায়ক ভাবনাকে আমি তখন বুঝতেই পারিনি বা চাইনি | বাবা চলে গিয়েছেন | শেষ পর্যন্ত বাবার পাশেই ছিলাম | তবু মাঝে মাঝে মন কেমন করে, মনে হয় পাশে থেকেও আক্ষরিক অর্থেই কি বাবার "সাথে" কোনোদিন থাকতে পেরেছি ? 

ওঁনাকে, ওনার চিন্তনকে আমি নতুন আলোয় চিনতে শিখছি, প্রতিদিন | কথায় বলে "when you are too close to something, you tend to lose objectivity" | খুব খাঁটি কথা | খুব কাছাকাছিতে দৃষ্টি এবং বোধ, দুটোই বেশ ঘোলাটে হয়ে যায় |  অনেক সময় মানুষের সঠিক মূল্যায়ন করতে গেলে একটু দূরে সরে গিয়ে করতে হয় | বাবা দূরে চলে গিয়ে যেন আরো প্রজ্জ্যল হয়ে আমার জীবনে থেকে গিয়েছেন ধ্রুবতারার মতন |     


© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ২৩.১১.২০২২

নিছক প্রত্যয়ী

কুয়াশার ঠিক ওপারেই আছো 

ফজরের আজানের সূচনায় তুমি,   

বসন্তের আশু সবুজে আছো 

ঝঞ্ঝা শেষের শান্ত প্রকৃতি তুমি |  

নিকষ ক্লান্তির অবসানে আছো 

কৈশোরের নাছোড় আবদারে তুমি, 

সগর্ভার যন্ত্রনার উপশমে আছো   

নবজাত প্রাণের উন্মেষে তুমি |

আছো মেঘের ক্ষীণ রুপালি রেখায়  

ভীষণ মহামারীর প্রতিষেধকে তুমি, 

ঘন আঁধার জ্বলে তোমার শিখায়  

ভাঙা প্রত্যাশে নব সঞ্জীবন তুমি |  

অনিমেশ আমি নিমেষের খোঁজে 

                                 গভীর আবেশে সিক্ত, 

মুঠো আমার চির মুক্ত জেনো, বারেবার 

                                   করো আমায় রিক্ত | 



© ভাস্কর ভট্টাচার্য | ১৬.১১.২০২২