রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

ফিরে দেখা

ঠাকুরদা ছিলেন কলিকাতা ট্রাম কোম্পানিতে কন্ডাক্টর | বাবা সরকারি আপিসে কর্মরত যৎসামান্য লোয়ার ডিভিশন কেরানি | সুবৃহৎ সংযুক্ত পরিবারের ক্ষুন্নিবৃত্তির পর বিশেষ পুঁজি অবশিষ্ট থাকতো না | পারিবারিক খরচকে সামর্থের মধ্যে রাখতে বাবার জ্যাঠামশাই (আমার বড়দাদু) দৈনন্দিন রোগ প্রতিরোধক হোমিও চিকিৎসাতেও  হাত পাকিয়েছিলেন | না ছিল Urban Company নামক আপদ, না ছিল ৫৮৪ টি চ্যানেল ওয়ালা কেবল টিভি | আমাদের মতো নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছিল অফুরান ফুরসত আর অক্লান্ত পরিশ্রমের নির্মল আনন্দ | টালির চাল মেরামত, দেয়াল চুনকাম, মাটির উনুন তৈরী থেকে শুরু করে প্রশস্ত উঠোনের গোবর লেপা দৈনিক শুদ্ধিকরণ আর সযত্নে চেরা পাকা বাঁশের বেড়া দেওয়া - সবই পরিবারের সদস্যরাই করে ফেলতো সানন্দে | তা ছোটরাই বা পিছিয়ে থাকে কেন? বড়োদের দেখাদেখি আমরাও কোমর বেঁধে তৈরী থাকতাম বৈকি | ছপাৎ ছপাৎ শব্দে কৃত ঘুঁটের দেয়াল চিত্র বা আলকাতরা মাখানো টিনের পাতের উপর প্রবল যত্নসহকারে সৃষ্ট গুঁড়ো কয়লার গুলের নিখুঁত তারামন্ডল - আমার ছোটবেলায় এসবের যে কি প্রবল টান ছিল তা লিখে বোঝানো সম্ভব নয় | এসব কাজে আমরা - ভাই বোনেরা - সারাক্ষণ জ্যাঠা-জ্যাঠি, বাবা-মা, কাকা-কাকিমা আর পিসিদের পারদর্শিতার কাছাকাছি পৌঁছনোর অবিরাম চেষ্টা করে যেতাম |  আমরাই ছিলাম আমাদের বাড়ির "কাজের লোক" | বাইরের লোক রেখে কাজ করানোর মতো অর্থ বা প্রয়োজন কোনোটাই আমাদের সেভাবে ছিলোনা |  

সেই দিন আর নেই |.সেই বৃহৎ পরিবার এখন সময়ের গহীন অনন্তে ক্রমশ ক্ষীণ হতে থাকা কিছু ধূসর স্মৃতির অবয়ব মাত্র | 

যাই হোক, অনেক দিন পর নিজের হাতে বাড়ির নতুন কাঠের আসবাব রং করলাম | অনেক বছর পর আবার এক নির্মল তৃপ্তির অনুভূতি লাভ করলাম |  

আসবাব রং করলাম নাকি চকিতে কয়েক মুহূর্তের জন্য নিজের হারিয়ে যাওয়া শৈশবকে ছুঁয়ে ফিরে এলাম ?

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

অসংখ্য ধন্যবাদ বন্ধু | আপনার ভালোবাসা আর পৃষ্ঠপোষকতা আমার উর্জা, আমার প্রধান পাথেয় | পাশে থাকুন, এই প্রার্থনা রইলো | অনেক ভালোবাসা থাকলো, আপনার জন্য | নমস্কার |