পড়াশোনায় বিলকুল ফাঁকিবাজি হচ্ছে বুঝতে পারতেন, তবুও প্রবল চপেটাঘাতে আমার পশ্চাৎদেশ গরম করার চেয়ে কঠিন বাক্যবানে জর্জরিত করতেই বেশি পছন্দ করতেন বাবা | প্রায়শই পাশ দিয়ে স্বগতোক্তির মতো আওড়াতে আওড়াতে চলে যেতেন - “সময় বহিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়” ! উনি বোধহয় রুলের গুঁতোর চেয়ে ভাষার চাবুকে বেশি ভরসা করতেন | কিন্তু আমার মগজের তন্তু কিঞ্চিৎ স্থুল হওয়ার দরুন এবং বাংলা ভাষায় আমার অতুলনীয় পান্ডিত্যের কারণে ওই কথার নিগূঢ় অর্থ ঠিক ঠাওর করে উঠতে পারতাম না সেই সময় | আজ আমার কন্যাকে, অঙ্ক পরীক্ষার আগের সন্ধ্যায়, জ্যামিতির কঠিন মারপ্যাঁচ অভ্যাস ত্যাগ করে রূপ চর্চায় মগ্ন হয়ে উঠতে দেখে, নিজের অজান্তেই ওই অমোঘ বাণী ওর দিকে নিক্ষেপ করে দিলুম | অবশ্য ছুড়ে তো দিলুম, কিন্তু ও যদি ফস করে ওই কথাটার আক্ষরিক অর্থ জানতে চায় ? তখন তার ঠেলা সামাল দেবে কে ? আসলে ওকে গাল দিলে ও গালি টাকে অগ্রাহ্য করে সেটার অন্তর্নিহিত অর্থ জানতে বিশেষ আগ্রহী হয়ে পড়ে ! ও বোধয় বুঝে গেছে যে ওর পরম শ্রদ্ধেয় পিতৃদেব এক চুলের জন্য বাংলা ভাষায় নোবেল টা হাত ছাড়া করেছে | খানিকটা বাতের বেদনায় কাবু মানুষের পায়ে কাঁচি চালানোর মতো এরকম মুহূর্ত গুলিতেই ও আমার দিকে প্রশ্নবাণ বর্ষণ করতে থাকে, যতক্ষণ না আমার কাঁচুমাঁচু মুখ থেকে 'ঘাট হয়েছে মা, এইবার টা ছেড়ে দে' শুনতে পায় | জাহাতক ভাবা, এক্কেবারে সাথে সাথেই আমার হাত-পা বরফের মতো ঠান্ডা ! কি কুক্ষণে বাবার কথার অপব্যবহার করার দুঃসাহস দেখাতে গেলাম ! কন্যা আমার দিকে চকিতে ফিরে প্রশ্নবাণ নিক্ষেপ করার আগেই, ঢোক গিলে, মানে মানে চিলেকোঠার ঘরে কেটে পড়লাম বিদ্যুৎ গতিতে ….
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
অসংখ্য ধন্যবাদ বন্ধু | আপনার ভালোবাসা আর পৃষ্ঠপোষকতা আমার উর্জা, আমার প্রধান পাথেয় | পাশে থাকুন, এই প্রার্থনা রইলো | অনেক ভালোবাসা থাকলো, আপনার জন্য | নমস্কার |