শুক্রবার, ৩ জুন, ২০২২

মেটাভার্স - মধুপোকা নাকি চরৈবতি, চরৈবতি ?

এবার থেকে নাকি সব্বাইকে মেটাভার্সেই বসবাস করতে হবে | অন্তত এমনই নিদান দিয়েছেন উত্তরাধুনিক সময়কালের পোস্টার বয় শ্রীযুক্ত মার্ক ইলিয়ট জুকেরবার্গ | আনন্দ মাহিন্দ্রার সাম্প্রতিক উচ্ছসিত টুইট সেই দাবির পক্ষেই সওয়াল করেছে | তা সে আর এমন কি কাজ ? পাঁচ দশক এই উনিভার্সে বেশ কাটলো, আর বাকি কয়েকটা দশক না হয় অন্য কোনো একটা ভার্সে পরিবার-আত্মীয়-সন্ততি নিয়ে দিব্যি কাটিয়ে দেওয়া যাবে | 

তবে ছোটবেলা থেকেই খুঁতখুঁতে, অকারণে সন্দিহান তথা দ্বিধাগ্রস্ত বলে আত্মীয়কুলে আমার যথেষ্ট সুনাম | কয়েকটা প্রশ্ন মাথার মধ্যে ভন ভন করছে | না না, ভাববেন না ভয় পেয়ে গেছি বা বিকল্প খুঁজছি | শুধু পাঠককুলের কাছে আমার বিনীত নিবেদন, তারা যেন মহানুভব শ্রী জুকেরবার্গ বাবাজীর সাথে কথা বলে আমার কৌতুহল টুকু নিরসন করে দেন | আমার ক্রমশঃ স্ফীত হতে থাকা মাথায় এই প্রসঙ্গে প্রশ্নের সংখ্যা মাত্র নয় লক্ষ্য তেতাল্লিশ হাজার সাতশো ছিয়াশি টি | তবে আমি অর্বাচীন নই - কাজেই এটা বুঝি, যে আলোচনার এই স্বল্প পরিসরে একইসাথে সবকটির সুরাহা হওয়া শুধু "মুশকিল" নয়, "না মুমকিনও" বটে | কাজেই বাছাই করা তিনখানির প্রতি আম জনতার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি আপাতত ?    

১. ছোটবেলায় সুপার হিরো হওয়ার মারাত্মক ইচ্ছে ছিল - জোর দিয়ে বলতে পারবো না যে সেই ইচ্ছেটা এখন পোড়া বেল কাঠ হয়ে গেছে | পিঠে বাঁধা লাল টেবিলক্লথ, চোস্ত পাজামার সাথে সুপারম্যানের ছবি ছাপা ছোট ম্যাগি-হাতা গেঞ্জি, মাথায় মা'র লাল রঙের চুল বাঁধার ফিতের ফেটটি আর দাদুর রেক্সিনের পা-ঢাকা জুতো | তৈরী হয়ে যখন বাড়ির সবেধন নীলমনি আয়না লাগানো বড়ো কাঠের আলমারিটার সামনে দাঁড়াতাম, তখন শরীরে এক অদ্ভুত শিহরণ খেলা করতো | তারপর আর কি ? কল্পনাশক্তির গনগনে আগুনে হাওয়া দিয়ে কত যে খারাপ লোক যে লোপাট করেছি তার ইয়ত্তা নেই | সে যাই হোক | মোদ্দা কথা, জানতে চাই যে মেটাভার্সে কি সুপারহিরো হওয়ার সম্ভাবনাটা বহাল থাকবে ? শুনেছি ওখানে নাকি আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স নামক জাদু কাঠি থাকবে | তারই কল্যানে কিছুই অসম্ভব নয় বলেই শুনছি | তাহলে কি ... ?

২. আমার আবার আটচালার ঘরে থেকে কোটি টাকার স্বপ্ন ছেলেবেলা থেকেই | শুনলুম মেটাভার্সে নাকি উপার্জনের উপায় প্রচুর | কোনোদিন যে নিজের জুতোর ফিতেটাও ঠিক মতো বাঁধতে পারেনি সেও নাকি ডিজিটাল এন্ট্রেপ্রেনিওর হয়ে কোটি কোটি টাকা, থুড়ি, কি যেন এনএফটি নামক ছাই পাশ কামাই করতে পারবে | তা সে হতেই পারে | বাবা বলতেন কলকাতার রাস্তায় নাকি লক্ষ লক্ষ টাকা উড়ে বেড়ায় - পাকড়াতে জানতে হয় | আমি অবশ্য পরবর্তীকালে কলকাতার বিভিন্ন রাস্তায় উড়তে থাকা টাকার সন্ধান করেছি | যাক, সে অন্য প্রসঙ্গ | এখানে প্রশ্ন হচ্ছে মেটাভার্সেও কি সেরকম কিছু মুদ্রা-টুদ্রা উড়ে বা ভেসে টেসে বেড়ায় নাকি ? তো, সেক্ষেত্রে ওসব সাপ্টানোর প্রশিক্ষণও কি মার্কের লোক জনই দেবেন ? আচ্ছা সে না হয় হলো, কিন্তু দুষ্টু সরকারগুলো থেকে বাঁচাতে আমার বাড়ির তোষক, বালিশ আর লেপের মধ্যে চালান করা টাকা গুলোর কি হবে? ওগুলো কি ...? 

৩. শিব ঠাকুরের আপন দেশে নিয়ম কানুন সর্বনেশে - সে তো সবারই মোটামুটি জানা | মেটাভার্সেও কি সেরকম কিছু ‘আবোল-তাবোল’ আইন কানুনের চক্কর আছে নাকি ? সেরকম কিছু হলে কিন্তু সর্বনাশ | আমি বাবা গুটখার রস টস গিলতে টিল্টে পারবো না | 'লঘু শঙ্কার' ক্ষেত্রে কি হবে ? দেওয়ালে যতক্ষণ না, ইয়ে, মানে, নিখুঁত মানচিত্র আঁকতে পারছি, ততক্ষন তো বারি ত্যাগের আসল আনন্দটাই পাই না | তাছাড়া সিগন্যাল এদেশেও মানিনা, ওখানেও মানতে পারবো না বাপু ? আগে থাকতেই বলে দিলুম | আচ্ছা মেটাভার্সে ঘুষ-টুশ চলে তো ? ঘুষ না দিলে আমার আবার পিলেতে ভয়ানক বেদনা হয় আর ঘুষ না নিলে বুকের ভিতর হাঁপরের দাপাদাপি | এটা বলছিনা যে অরণ্যদেবের মতো প্যান্টের উপর অন্তর্বাস পরে ইদিক ওদিক ঘুরে বেড়াবো, তবে ওসব ঠুন্কো শালীনতা ফালিনতা আবার ঘাড়ের উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে না তো ? তাহলে কিন্তু ...  

যাক, এবার পাঠককুল চট করে মার্কএর সাথে আলোচনা করে আমার কৌতূহল নিরসনের ব্যবস্থা করলে উপকৃত হই | ওই যে বললাম, প্রশ্ন অনেক | যেমন ধরুন, রোমান্স আর যৌনতা মেটাভার্সে  কি ভাবে হবে ? চুম্বনটাও কি ভার্চুয়ালি করতে হবে, নাকি একটু খরচ টরচ করলে, ইয়ে, মানে ... থাক | আচ্ছা, ইহ জগতের (থুড়ি এই ইউনিভার্সএ) ব্যবহৃত নিজ গোত্রই কি ব্যবহার করা যাবে ? আর মেটাভার্স যাওয়ার পথে কি কিছু গুড়-মুড়ি-ছোলা বেঁধে নেওয়া দরকার, নাকি রাস্তায় হকার-টকার যথেষ্ট পাওয়া যাবে ? আমি কিন্তু ভায়া ভাজা বাদামটাই পছন্দ করি - কাঁচা বাদাম খেলে আবার বড্ড চোঁয়া ঢেকুর ওঠে |      

আসলে শিবরাম যে নেই | থাকলে আপনাদের জ্বালাতন করতাম না | আমি নিশ্চিত উনি থাকলে আমি আমার সব প্রশ্নের উপযুক্ত এবং যথাযত জবাব পেয়ে যেতাম | নারায়ণ তো অনেক আগেই ফিরে গিয়েছেন | তাছাড়া সঞ্জীবও এখন রামকৃষ্ণে মন এবং কলম সপেঁছেন | কাজেই আপনারাই আমার শেষ ভরসা, পাঠক গণ |


রবিবারের আড্ডা 2022 | ©ভাস্কর ভট্টাচার্য 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

অসংখ্য ধন্যবাদ বন্ধু | আপনার ভালোবাসা আর পৃষ্ঠপোষকতা আমার উর্জা, আমার প্রধান পাথেয় | পাশে থাকুন, এই প্রার্থনা রইলো | অনেক ভালোবাসা থাকলো, আপনার জন্য | নমস্কার |